ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পদে বহাল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বাত্মক সমর্থন দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র। ইনফান্তিনোকে ঘিরে বাড়তে থাকা সমালোচনা ও পদত্যাগের দাবির মধ্যেই এমন তথ্য সামনে এসেছে।
দ্য টেলিগ্রাফ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফার নতুন একটি সংস্থার শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন ইনফান্তিনো। পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করে কয়েকটি দল বিশ্বকাপ বয়কটেরও হুমকি দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সমালোচনার মুখে সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। তবে এর পর থেকেই ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, ইনফান্তিনোর প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের আস্থা অটুট রয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রকে সফল বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেছেন ইনফান্তিনো। এজন্য তাকে সমর্থন দিতে ট্রাম্প সম্ভাব্য সবকিছু করবেন।
সূত্রটি আরও দাবি করে, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোকে পছন্দ করেন এবং সহজে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজিত বিশ্বকাপ সফল করতে ইনফান্তিনোর ভূমিকার মূল্যায়নও করেন তিনি।
ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আগেও বিতর্ক হয়েছে। চলতি বছরের বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের এক তারকা ফুটবলারের লাল কার্ডের ঘটনায় ট্রাম্প সরাসরি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন। পরে ওই ফুটবলারের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ায় খেলায় রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
তবে ইউরোপের ফুটবল মহলে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন কমছে। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক নির্বাহী ডেভিড ডেভিস বলেন, ইনফান্তিনো একজন ‘রাজনৈতিক ঘরানার’ ফিফা সভাপতি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের প্রভাবের মধ্যে রয়েছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের একাধিক রাজনৈতিক নেতাও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তাকে ফিফার নেতৃত্বের জন্য অনুপযুক্ত আখ্যা দিয়ে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পথ অনুসরণ করে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের সমর্থন প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে সমালোচনা বাড়লেও এখন পর্যন্ত ফিফা সভাপতির পদে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সামনে আসেননি।

ডেস্ক রিপোর্ট 























