ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—বেন গুরিয়ন—অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (৬ জুলাই) ভোরে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ইসরায়েলি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়। সব আগত ও নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং বিমানবন্দরটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
আরবভাষী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, হামলার পর ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চলগুলো কার্যত আন্তর্জাতিক আকাশপথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ডেড সি অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কতা সংকেত (সাইরেন) দীর্ঘ সময় ধরে বাজতে থাকে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ পায়নি।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, হামলার সময় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল এবং হামলার প্রতিরোধে তারা কাজ করেছে।
এই ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ঘোষণা দেয়, তারা ‘ফিলিস্তিন-২’ নামে হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি আল-মাসিরাহ টিভিতে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলেন, “হামলায় লক্ষ্যে সঠিকভাবে আঘাত হানা হয়, যার ফলে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং বহু দখলদার আশ্রয়কেন্দ্রে পালাতে বাধ্য হয়।”
তিনি আরও জানান, একই সময়ে তেল আবিব, ইলাত ও আশকেলনের তিনটি ‘সংবেদনশীল’ স্থানে একমুখী ড্রোন হামলাও চালানো হয়।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ইয়েমেনি বাহিনী সমুদ্রপথেও কৌশলগত অবরোধ আরোপ করেছে। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে ইসরায়েলের সামরিক ও বাণিজ্যিক রসদ পরিবহনে বাধা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের দিকে আকৃষ্ট হয়।
ইয়েমেনি সামরিক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের হামলা চলতে থাকবে।”
সূত্র: প্রেসটিভি

ডেস্ক রিপোর্ট 

























