ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার গোপন তৎপরতায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এটি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়; বরং অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ ও প্রাথমিক যাচাইয়ের অংশ। অভিযোগের সত্যতা মিললে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তদন্ত কমিটি, শৃঙ্খলা কমিটি এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। সেই তালিকায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও রয়েছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হবে। তবে অভিযোগ ওঠা মানেই কেউ দোষী—এমন নয়। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় বিষয়টি যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের তালিকায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদ মণ্ডল, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান, অধ্যাপক ড. আয়েশা আক্তার আঁখি, অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন, জেড উদ্দিন, দেবু পিকে এবং এসকেবি। এর মধ্যে আসাদ মণ্ডল ও ড. মশিউর রহমান আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় আগেই সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























