ঢাকা , বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ময়মনসিংহ-১০ আসনে বৈধতা ফিরল স্বতন্ত্র প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের মাগুরা থেকেই নির্বাচন করতে চান সাকিব! নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী অফিসে গুলি, ভাঙচুর ঋণখেলাপি: হাসনাতের আসনে নির্বাচন করতে পারছেন না বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী গ্রেপ্তারের তিনদিনে বিচার শেষ, আজ হবে সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর জুলাই সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব: সালাহউদ্দিন আহমদ ইরানে বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তারদের দ্রুত বিচারের অঙ্গীকার প্রধান বিচারপতির তুরস্কের সামরিক শক্তি-সৌদির অর্থ-পাকিস্তানের পারমাণবিক মিলিয়ে আসছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই: মির্জা আব্বাস সাহস থাকলে আইনের মুখোমুখি হক, বিদেশ থেকে হুমকির কোনো ভ্যালু নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘দখল’ ঠেকাতে একজোট ইউরোপের ক্ষমতাধর ৬ দেশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:১৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২২৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই নিজের চরম আগ্রাসী রূপ জাহির করতে শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লাতিন আমেরিকার তিন দেশ— মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবার সরকারকে ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানেও ভয়ংকর হামলার হুমকি শোনা গেছে তার কণ্ঠে। শুধু তাই নয়; লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে তার নজর ইউরোপেও।

বেশ জোর গলায় ডেনমার্কের অধীনে থাকা গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ২১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর বিশ্বের বৃহত্তম এ দ্বীপের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ডেনমার্ককে প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব এবং ভূ-ভাগের অখণ্ডতা রক্ষায় একজোট হয়েছে ইউরোপের ক্ষমতাধর ৬ টি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন এবং যুক্তরাজ্য।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এসব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের একটি যৌথ বিবৃতিতে গ্রিনল্যান্ডের অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। ইউরোপীয় এ নেতারা গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত একটি যৌথ বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং সীমানার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ শুধু ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সিদ্ধান্তের বিষয়, বাইরের কোনো দেশের নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ইউরোপের জন্য একটি মূল অগ্রাধিকার এবং অনেক ইউরোপীয় দেশ এই অঞ্চলকে নিরাপদ রাখার জন্য উপস্থিতি, কার্যক্রম ও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। আর্কটিকে কিছু করতে হলে এটি ন্যাটো সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে, জাতিসংঘের সাংবিধানিক নীতিসমূহ মেনে করতে হবে যার মধ্যে রয়েছে সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং সীমানার অবিনাশ্যতা। এগুলো সার্বজনীন নীতি এবং আমরা এগুলো রক্ষা করতে পিছপা হব না।

এতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রচেষ্টায় একটি প্রয়োজনীয় অংশীদার হিসেবে রয়েছে। ন্যাটো সদস্য হিসেবে এবং ১৯৫১ সালে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে ডেনমার্ক-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রয়েছে, যা লঙ্ঘন করা অপরাধের সামিল হবে। এছাড়া, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছেন, নর্ডিক দেশ হিসেবে তারা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিভিন্ন সময় গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং সামরিক উপায়ে তা অর্জনের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন। তবে, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন ট্রাম্পকে হুমকি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গত ৪ জানুয়ারি রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আরও একবার নিজের আগ্রাসী ইচ্ছার কথা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন… এটি এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিনল্যান্ডের সব জায়গায় চীনা আর রুশ জাহাজ দ্বারা পরিবেষ্টিত। জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। আর ডেনমার্ক জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসময় জোর দিয়ে বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আমাদের কাছে গ্রিনল্যান্ডকে দিতে হবে এবং তারা এটি জানে।’ ট্রাম্পের এমন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডরিকসন। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে আমার সরাসরি বলতে হবে— তারা গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করবে এ নিয়ে কথা বলার কোনো মানেই হয় না। ডেনমার্কের তিনটি অঞ্চলের কোনোটিই অধিগ্রহণ করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহ-১০ আসনে বৈধতা ফিরল স্বতন্ত্র প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘দখল’ ঠেকাতে একজোট ইউরোপের ক্ষমতাধর ৬ দেশ

আপডেট সময় ০২:১৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

এবার ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই নিজের চরম আগ্রাসী রূপ জাহির করতে শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লাতিন আমেরিকার তিন দেশ— মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবার সরকারকে ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানেও ভয়ংকর হামলার হুমকি শোনা গেছে তার কণ্ঠে। শুধু তাই নয়; লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে তার নজর ইউরোপেও।

বেশ জোর গলায় ডেনমার্কের অধীনে থাকা গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ২১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর বিশ্বের বৃহত্তম এ দ্বীপের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ডেনমার্ককে প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব এবং ভূ-ভাগের অখণ্ডতা রক্ষায় একজোট হয়েছে ইউরোপের ক্ষমতাধর ৬ টি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন এবং যুক্তরাজ্য।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এসব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের একটি যৌথ বিবৃতিতে গ্রিনল্যান্ডের অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। ইউরোপীয় এ নেতারা গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত একটি যৌথ বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং সীমানার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ শুধু ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সিদ্ধান্তের বিষয়, বাইরের কোনো দেশের নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ইউরোপের জন্য একটি মূল অগ্রাধিকার এবং অনেক ইউরোপীয় দেশ এই অঞ্চলকে নিরাপদ রাখার জন্য উপস্থিতি, কার্যক্রম ও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। আর্কটিকে কিছু করতে হলে এটি ন্যাটো সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে, জাতিসংঘের সাংবিধানিক নীতিসমূহ মেনে করতে হবে যার মধ্যে রয়েছে সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং সীমানার অবিনাশ্যতা। এগুলো সার্বজনীন নীতি এবং আমরা এগুলো রক্ষা করতে পিছপা হব না।

এতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রচেষ্টায় একটি প্রয়োজনীয় অংশীদার হিসেবে রয়েছে। ন্যাটো সদস্য হিসেবে এবং ১৯৫১ সালে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে ডেনমার্ক-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রয়েছে, যা লঙ্ঘন করা অপরাধের সামিল হবে। এছাড়া, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছেন, নর্ডিক দেশ হিসেবে তারা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিভিন্ন সময় গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং সামরিক উপায়ে তা অর্জনের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন। তবে, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন ট্রাম্পকে হুমকি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গত ৪ জানুয়ারি রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আরও একবার নিজের আগ্রাসী ইচ্ছার কথা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন… এটি এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিনল্যান্ডের সব জায়গায় চীনা আর রুশ জাহাজ দ্বারা পরিবেষ্টিত। জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। আর ডেনমার্ক জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসময় জোর দিয়ে বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আমাদের কাছে গ্রিনল্যান্ডকে দিতে হবে এবং তারা এটি জানে।’ ট্রাম্পের এমন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডরিকসন। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে আমার সরাসরি বলতে হবে— তারা গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করবে এ নিয়ে কথা বলার কোনো মানেই হয় না। ডেনমার্কের তিনটি অঞ্চলের কোনোটিই অধিগ্রহণ করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।’