ঢাকা , সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
লাল কার্ড দেখার পরও খেলবেন যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়, ফিফাকে ধন্যবাদ ট্রাম্পের ‘ফিলিস্তিনের সমর্থনের কারণেই খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে’ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি চীনকেও কাছে টানছে বাংলাদেশ ইরানি নেতাদের নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে পাগলাটে রাত: হালান্ড ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিস করল ব্রাজিল ভারত নামে একটি ছোট দেশ ইসরায়েলের বড় সমর্থক: নেতানিয়াহু মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের পোস্টে নতুন বিতর্ক, ‘রেস্ট্রেইনিং অর্ডার’ মন্তব্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আমার সঙ্গে চালাকি চলবে না: নরওয়ের গোলকিপারকে নেইমার হালান্ডের রাতের অদ্ভুত অভ্যাস! মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমান কেন, জানাল বিজ্ঞান

“প্রতিবন্ধী শরীর, অদম্য মানসিকতা: জামালপুরের নিহাল জীবনযুদ্ধে জয়ী”

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৫৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০০ বার পড়া হয়েছে

 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারিতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয় মো. মেহেরাব হোসাইন নিহাল। ২০০২ সালে সুলতান আহম্মেদ ও খাদিজাতুন কুবরা দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করা নিহাল শৈশবে হারান তার বাবাকে। এরপর মায়ের স্নেহ-মায়ার ছায়াতেই বড় হন তিনি।

ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে হয় নিহালকে। কিন্তু ২০২২ সালে এক মর্মান্তিক বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় তিনি হারান তার দু’টি হাত। তখন তিনি এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং দ্বিতীয় বর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে উপজেলার নাদাগাড়ি এলাকায় ঘরের ওয়ারিংয়ের কাজ করার সময়।

বাবা হারানো একমাত্র সন্তানের জন্য জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন মা খাদিজাতুন কুবরা। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি নতুন সংসার শুরু করেননি। সন্তানকে নিয়ে ফিরে আসেন বাবার বাড়ি মোসলেমাবাদ গ্রামে। কিন্তু ভাগ্য যেন আরও কঠোর— একমাত্র সন্তান নিহাল হারাল তার দু’টি হাত।

তবুও দমে যাননি নিহাল। দুর্ঘটনার এক বছর পরই তিনি সংসারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রতিবন্ধী শরীর নিয়েই শুরু করেন চায়ের দোকান। নিজের পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন জীবনের নতুন অধ্যায়। বর্তমানে তিনি নিজেই সংসারের প্রধান উপার্জনকারী।

নিহাল প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন, তবে তার মা এখনও কোনো সরকারি সাহায্য পাননি। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক জানান, “নিহাল প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধা পাচ্ছে। ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে তার মাকে বিধবা ভাতার আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে।”

জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিহাল প্রমাণ করেছেন— শারীরিক অক্ষমতা নয়, মানসিক দৃঢ়তাই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তার গল্প এখন সাহস ও আশার অনুপ্রেরণা হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লাল কার্ড দেখার পরও খেলবেন যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়, ফিফাকে ধন্যবাদ ট্রাম্পের

“প্রতিবন্ধী শরীর, অদম্য মানসিকতা: জামালপুরের নিহাল জীবনযুদ্ধে জয়ী”

আপডেট সময় ০৮:৫৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারিতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয় মো. মেহেরাব হোসাইন নিহাল। ২০০২ সালে সুলতান আহম্মেদ ও খাদিজাতুন কুবরা দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করা নিহাল শৈশবে হারান তার বাবাকে। এরপর মায়ের স্নেহ-মায়ার ছায়াতেই বড় হন তিনি।

ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে হয় নিহালকে। কিন্তু ২০২২ সালে এক মর্মান্তিক বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় তিনি হারান তার দু’টি হাত। তখন তিনি এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং দ্বিতীয় বর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে উপজেলার নাদাগাড়ি এলাকায় ঘরের ওয়ারিংয়ের কাজ করার সময়।

বাবা হারানো একমাত্র সন্তানের জন্য জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন মা খাদিজাতুন কুবরা। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি নতুন সংসার শুরু করেননি। সন্তানকে নিয়ে ফিরে আসেন বাবার বাড়ি মোসলেমাবাদ গ্রামে। কিন্তু ভাগ্য যেন আরও কঠোর— একমাত্র সন্তান নিহাল হারাল তার দু’টি হাত।

তবুও দমে যাননি নিহাল। দুর্ঘটনার এক বছর পরই তিনি সংসারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রতিবন্ধী শরীর নিয়েই শুরু করেন চায়ের দোকান। নিজের পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন জীবনের নতুন অধ্যায়। বর্তমানে তিনি নিজেই সংসারের প্রধান উপার্জনকারী।

নিহাল প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন, তবে তার মা এখনও কোনো সরকারি সাহায্য পাননি। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক জানান, “নিহাল প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধা পাচ্ছে। ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে তার মাকে বিধবা ভাতার আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে।”

জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিহাল প্রমাণ করেছেন— শারীরিক অক্ষমতা নয়, মানসিক দৃঢ়তাই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তার গল্প এখন সাহস ও আশার অনুপ্রেরণা হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত।