ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে ইরান কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ আদানির ইউনিট, দেশে লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা আওয়ামী লীগ নিয়ে প্রশ্ন করলে বিব্রত বোধ করি: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সরকারি টাকা নষ্ট হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন: চিফ হুইপ দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের ক্ষোভ: ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ মিটার রিডার, পরে উদ্ধার হুট করে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল, আরও বাড়ল লোডশেডিং চুরির অভিযোগে তিনজনকে হাত-পা বেঁধে পিটুনি, চোখে ঢালা হলো চুনের পানি বাক্‌স্বাধীনতা যেন বাক্ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা আলজেরিয়ার

“ভালো মানুষ হয়েও বাঁচতে পারলেন না বাবলা” — প্রেম, বিয়ে, তারপর গুলিতে শেষ জীবন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৪১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৩২৬ বার পড়া হয়েছে

স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর কারাগার থেকে মুক্তি পান এক সময়ের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা। জেল থেকে বের হয়ে যেন একেবারে বদলে যান তিনি। প্রেমে পড়েছিলেন এক তরুণীর—সেই প্রেমই বদলে দেয় তার জীবন। ছয় মাস প্রেমের পর দেড় মাস আগে বিয়ে করেন মেয়েটিকে। সংসার শুরু করেছিলেন নতুনভাবে, শান্তিতে বাঁচার প্রত্যয়ে। কিন্তু সেই পথ থেমে যায় হঠাৎই। গত ৫ নভেম্বর প্রতিপক্ষের গুলিতে প্রাণ হারান বাবলা।

মাত্র ২০ বছর বয়সী নববধূ এখন বিধবা। চট্টগ্রামের রাহাত্তরপুল এলাকার এই তরুণী এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বাবলার স্ত্রী বলেন, “ও ভালো মানুষ হয়ে গেছিল। বাসার বাইরে যেত না। নামাজ পড়তো, বাজার করতো, আমার পাশে থাকতো। বলেছিল, আর কোনো ঝামেলায় যাবে না।” তারপর দীর্ঘ নীরবতা আর কান্না।

চট্টগ্রামের চালিতাতলীর খন্দকারপাড়া গ্রামের সেই বাড়িতে এখন শোকের ছায়া। বাবলার বড় ভাই জাহাঙ্গির আলম বলেন, “সবাই বলে সন্ত্রাসী, কিন্তু এলাকার মানুষ জানে সে কেমন বদলে গিয়েছিল। মসজিদের ইমামও জানে, কত নিয়মিত নামাজ পড়তো।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জেল থেকে বের হয়ে বাবলা পুরোপুরি অন্য মানুষ হয়ে গিয়েছিলেন। দোকানে আসতেন, সবাইকে সালাম দিতেন, ছেলেপেলেদের বকতেন। কিন্তু সমাজ তাকে নতুন জীবন দিতে পারেনি।

একজন স্থানীয় শিক্ষক আবদুল মান্নান বলেন, “যখন খারাপ মানুষ ভালো হতে চায়, তখন সমাজই তাকে বাঁচতে দেয় না। যারা তাকে খারাপ পথে ঠেলে দিয়েছিল, তারাই এখন সাধু সাজছে।”

গত বুধবার রাতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সময় বাবলাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ছোট সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান গ্রুপ জড়িত। যদিও ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে আছেন—সেখান থেকেই নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। র‍্যাব ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বাবলার পেছনের উঠানে এখন নীরবে দুলছে তার লাগানো ছোট্ট বটগাছটি। পাশে পড়ে আছে একজোড়া পুরনো জুতা—ভালো হয়ে ওঠা এক মানুষের শেষ চিহ্ন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে ইরান

“ভালো মানুষ হয়েও বাঁচতে পারলেন না বাবলা” — প্রেম, বিয়ে, তারপর গুলিতে শেষ জীবন

আপডেট সময় ০৯:৪১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর কারাগার থেকে মুক্তি পান এক সময়ের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা। জেল থেকে বের হয়ে যেন একেবারে বদলে যান তিনি। প্রেমে পড়েছিলেন এক তরুণীর—সেই প্রেমই বদলে দেয় তার জীবন। ছয় মাস প্রেমের পর দেড় মাস আগে বিয়ে করেন মেয়েটিকে। সংসার শুরু করেছিলেন নতুনভাবে, শান্তিতে বাঁচার প্রত্যয়ে। কিন্তু সেই পথ থেমে যায় হঠাৎই। গত ৫ নভেম্বর প্রতিপক্ষের গুলিতে প্রাণ হারান বাবলা।

মাত্র ২০ বছর বয়সী নববধূ এখন বিধবা। চট্টগ্রামের রাহাত্তরপুল এলাকার এই তরুণী এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বাবলার স্ত্রী বলেন, “ও ভালো মানুষ হয়ে গেছিল। বাসার বাইরে যেত না। নামাজ পড়তো, বাজার করতো, আমার পাশে থাকতো। বলেছিল, আর কোনো ঝামেলায় যাবে না।” তারপর দীর্ঘ নীরবতা আর কান্না।

চট্টগ্রামের চালিতাতলীর খন্দকারপাড়া গ্রামের সেই বাড়িতে এখন শোকের ছায়া। বাবলার বড় ভাই জাহাঙ্গির আলম বলেন, “সবাই বলে সন্ত্রাসী, কিন্তু এলাকার মানুষ জানে সে কেমন বদলে গিয়েছিল। মসজিদের ইমামও জানে, কত নিয়মিত নামাজ পড়তো।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জেল থেকে বের হয়ে বাবলা পুরোপুরি অন্য মানুষ হয়ে গিয়েছিলেন। দোকানে আসতেন, সবাইকে সালাম দিতেন, ছেলেপেলেদের বকতেন। কিন্তু সমাজ তাকে নতুন জীবন দিতে পারেনি।

একজন স্থানীয় শিক্ষক আবদুল মান্নান বলেন, “যখন খারাপ মানুষ ভালো হতে চায়, তখন সমাজই তাকে বাঁচতে দেয় না। যারা তাকে খারাপ পথে ঠেলে দিয়েছিল, তারাই এখন সাধু সাজছে।”

গত বুধবার রাতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সময় বাবলাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ছোট সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান গ্রুপ জড়িত। যদিও ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে আছেন—সেখান থেকেই নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। র‍্যাব ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বাবলার পেছনের উঠানে এখন নীরবে দুলছে তার লাগানো ছোট্ট বটগাছটি। পাশে পড়ে আছে একজোড়া পুরনো জুতা—ভালো হয়ে ওঠা এক মানুষের শেষ চিহ্ন।