ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান মহররম মাসের প্রথম ১০ দিন শেষ হওয়ার পর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে জানাজা ও দাফনের সময়সূচি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রয়াত নেতার স্মরণে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে অনুষ্ঠানসূচি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কমিটি জানিয়েছে, জানাজা দ্রুত অনুষ্ঠিত হবে—এমন খবরের কোনো ভিত্তি নেই। মহররমের প্রথম ১০ দিন শেষ হওয়ার পরই দাফন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত প্রয়াত নেতার দীর্ঘদিনের সেই অবস্থানের প্রতিফলন, যেখানে তিনি ইমাম হোসাইন (আ.)-এর স্মরণে অনুষ্ঠিত শোকানুষ্ঠানকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আশুরার শোকপর্ব শেষ হওয়ার আগে কোনো আনুষ্ঠানিক বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে না। এর মাধ্যমে ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতি ও মহররমের শোকানুষ্ঠানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে চলতি বছর ২৫ অথবা ২৬ জুন আশুরা পালিত হতে পারে। তবে জানাজা ও দাফনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে এবং সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিস্তারিত কর্মসূচি প্রকাশ করা হবে।
এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়াত নেতার বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক জনসমাগম হতে পারে। রাজধানী তেহরান, কোম এবং মাশহাদ-এ একাধিক কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজকদের ধারণা, এসব অনুষ্ঠানে প্রায় দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ, সামা নিউজ।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























