ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেফারির কারণেই পেনাল্টি মিস করেছি’—এমবাপ্পে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:২৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি মিস করেছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেই স্পটকিক থেকে গোল করতে পারলে চলতি বিশ্বকাপে গোলসংখ্যায় লিওনেল মেসির সমকক্ষ হয়ে যেতেন ফ্রান্স অধিনায়ক। তবে ম্যাচ শেষে পেনাল্টি মিসের জন্য নিজের মনোযোগ নষ্ট হওয়ার পেছনে রেফারি ও দীর্ঘ ভিএআর প্রক্রিয়াকেই দায়ী করেছেন তিনি।

বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ২৮ মিনিটে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। স্পটকিক নিতে এগিয়ে গেলেও এমবাপ্পের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।

ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে জানান, পেনাল্টি নেওয়ার আগে রেফারির একাধিকবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং দীর্ঘ সময় ধরে ভিএআর পর্যালোচনা চলায় তার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে।

ফরাসি এই তারকা বলেন, প্রথমে রেফারি তাকে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন। এরপর তিনি শট নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর রেফারি এসে জানান, পেনাল্টি নাও হতে পারে। আবার কিছু সময় পর সিদ্ধান্ত বদলে পুনরায় পেনাল্টি দেন। এরপর আরও একটি আগের ঘটনা ভিএআরে পরীক্ষা করতে গিয়ে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হয়।

এমবাপ্পের ভাষায়, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি আগে কখনও হননি। দীর্ঘ অপেক্ষা ও বারবার সিদ্ধান্ত বদলের কারণে স্পটকিক নেওয়ার সময় তার মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ম্যাচের ২৫ মিনিটে, যখন মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউই পেনাল্টি বক্সের ভেতরে এমবাপ্পেকে ফাউল করলে রেফারি ভিএআরের সহায়তায় সিদ্ধান্ত নেন। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় তিন মিনিট সময় লেগে যায়।

তবে ভিএআর নিয়ে প্রশ্ন তুললেও প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করেননি এমবাপ্পে। তিনি বলেন, আধুনিক ফুটবলে ভিএআর বাস্তবতা। প্রযুক্তির সঙ্গে খেলোয়াড়দের মানিয়ে নিতেই হবে।

যদিও পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি, দ্বিতীয়ার্ধে নিজের প্রভাব ঠিকই দেখিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। ৬০ মিনিটে নিজেই গোল করেন, পরে উসমান দেম্বেলের গোলেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাদের নৈপুণ্যে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফ্রান্স।

ম্যাচ শেষে এমবাপ্পের প্রশংসা করেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম। তিনি বলেন, পেনাল্টি মিসের পরও এমবাপ্পে আত্মবিশ্বাস হারাননি। বরং দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশমের মতে, এমবাপ্পে শুধু একজন অসাধারণ ফুটবলারই নন, তিনি একজন প্রকৃত অধিনায়কও।

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসি। তবে তিনটি অ্যাসিস্ট থাকায় এই মুহূর্তে টাইব্রেকারে এগিয়ে রয়েছেন ফরাসি তারকা। ক্লাব ফুটবলের দুর্দান্ত ফর্ম বিশ্বকাপের মঞ্চেও ধরে রেখে ফ্রান্সকে শিরোপার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এমবাপ্পে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রেফারির কারণেই পেনাল্টি মিস করেছি’—এমবাপ্পে

আপডেট সময় ০৫:২৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি মিস করেছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেই স্পটকিক থেকে গোল করতে পারলে চলতি বিশ্বকাপে গোলসংখ্যায় লিওনেল মেসির সমকক্ষ হয়ে যেতেন ফ্রান্স অধিনায়ক। তবে ম্যাচ শেষে পেনাল্টি মিসের জন্য নিজের মনোযোগ নষ্ট হওয়ার পেছনে রেফারি ও দীর্ঘ ভিএআর প্রক্রিয়াকেই দায়ী করেছেন তিনি।

বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ২৮ মিনিটে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। স্পটকিক নিতে এগিয়ে গেলেও এমবাপ্পের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।

ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে জানান, পেনাল্টি নেওয়ার আগে রেফারির একাধিকবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং দীর্ঘ সময় ধরে ভিএআর পর্যালোচনা চলায় তার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে।

ফরাসি এই তারকা বলেন, প্রথমে রেফারি তাকে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন। এরপর তিনি শট নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর রেফারি এসে জানান, পেনাল্টি নাও হতে পারে। আবার কিছু সময় পর সিদ্ধান্ত বদলে পুনরায় পেনাল্টি দেন। এরপর আরও একটি আগের ঘটনা ভিএআরে পরীক্ষা করতে গিয়ে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হয়।

এমবাপ্পের ভাষায়, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি আগে কখনও হননি। দীর্ঘ অপেক্ষা ও বারবার সিদ্ধান্ত বদলের কারণে স্পটকিক নেওয়ার সময় তার মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ম্যাচের ২৫ মিনিটে, যখন মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউই পেনাল্টি বক্সের ভেতরে এমবাপ্পেকে ফাউল করলে রেফারি ভিএআরের সহায়তায় সিদ্ধান্ত নেন। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় তিন মিনিট সময় লেগে যায়।

তবে ভিএআর নিয়ে প্রশ্ন তুললেও প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করেননি এমবাপ্পে। তিনি বলেন, আধুনিক ফুটবলে ভিএআর বাস্তবতা। প্রযুক্তির সঙ্গে খেলোয়াড়দের মানিয়ে নিতেই হবে।

যদিও পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি, দ্বিতীয়ার্ধে নিজের প্রভাব ঠিকই দেখিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। ৬০ মিনিটে নিজেই গোল করেন, পরে উসমান দেম্বেলের গোলেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাদের নৈপুণ্যে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফ্রান্স।

ম্যাচ শেষে এমবাপ্পের প্রশংসা করেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম। তিনি বলেন, পেনাল্টি মিসের পরও এমবাপ্পে আত্মবিশ্বাস হারাননি। বরং দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশমের মতে, এমবাপ্পে শুধু একজন অসাধারণ ফুটবলারই নন, তিনি একজন প্রকৃত অধিনায়কও।

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসি। তবে তিনটি অ্যাসিস্ট থাকায় এই মুহূর্তে টাইব্রেকারে এগিয়ে রয়েছেন ফরাসি তারকা। ক্লাব ফুটবলের দুর্দান্ত ফর্ম বিশ্বকাপের মঞ্চেও ধরে রেখে ফ্রান্সকে শিরোপার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এমবাপ্পে।