ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিঃস্বার্থ উদ্যোগে কোরআন মেরামত করছেন এক কারিগর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে যখন প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, মসজিদ আর মানুষের স্বাভাবিক জীবন, তখন গাজায় নীরবে এক ব্যতিক্রমী মানবিক দায়িত্ব পালন করে চলেছেন ৭০ বছর বয়সী জামিল মিগদাদ। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পবিত্র কোরআন শরীফ। এরপর নিজ হাতে সেগুলো মেরামত করে আবারও পাঠযোগ্য করে তুলছেন তিনি।

বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর, চলাফেরায় ভরসা লাঠি। তবু থেমে নেই জামিল মিগদাদ। শুরুতে নিজের সংগ্রহে থাকা কোরআন মেরামত করলেও, পরে স্থানীয়রা তাদের ঘরবাড়ি ও বিধ্বস্ত মসজিদ থেকে উদ্ধার করা ক্ষতিগ্রস্ত কোরআনও তার কাছে নিয়ে আসতে শুরু করেন।

জামিল বলেন, বয়সের কারণে আগের মতো কাজ করার শক্তি নেই। তবুও এই কাজ তাকে মানসিক প্রশান্তি দেয়। তাই যতটুকু সম্ভব, প্রতিটি কোরআন যত্নসহকারে মেরামতের চেষ্টা করেন তিনি।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সেবার জন্য তিনি কারও কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেন না। তার ভাষায়, এটি কেবল একটি কাজ নয়, বরং ইবাদতেরই অংশ।

তবে যুদ্ধকালীন বাস্তবতায় কাজটি দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বই বাঁধাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আঠা, কার্ডবোর্ড, চামড়াসহ নানা উপকরণের তীব্র সংকট রয়েছে। যা পাওয়া যায়, তার দামও যুদ্ধের আগের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ গুণ বেড়ে গেছে। তবু সীমিত সামর্থ্য নিয়েই নিজের এই মানবিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

গাজার ধর্মীয় বিষয়ক ওয়াক্‌ফ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে উপত্যকার ১ হাজার ২৭৫টি মসজিদের মধ্যে ১ হাজার ৫০টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১৯১টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর সঙ্গে ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য পবিত্র কোরআন শরীফও।

এই পরিস্থিতিতে জামিল মিগদাদের উদ্যোগ শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ধর্মগ্রন্থ সংরক্ষণের কাজ নয়, বরং যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেও বিশ্বাস, মানবিকতা ও ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও তিনি যেন নীরবে জানিয়ে দিচ্ছেন—সবকিছু হারিয়েও মানুষের বিশ্বাস ও আশার আলো কখনো নিভে যায় না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিঃস্বার্থ উদ্যোগে কোরআন মেরামত করছেন এক কারিগর

আপডেট সময় ০৫:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে যখন প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, মসজিদ আর মানুষের স্বাভাবিক জীবন, তখন গাজায় নীরবে এক ব্যতিক্রমী মানবিক দায়িত্ব পালন করে চলেছেন ৭০ বছর বয়সী জামিল মিগদাদ। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পবিত্র কোরআন শরীফ। এরপর নিজ হাতে সেগুলো মেরামত করে আবারও পাঠযোগ্য করে তুলছেন তিনি।

বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর, চলাফেরায় ভরসা লাঠি। তবু থেমে নেই জামিল মিগদাদ। শুরুতে নিজের সংগ্রহে থাকা কোরআন মেরামত করলেও, পরে স্থানীয়রা তাদের ঘরবাড়ি ও বিধ্বস্ত মসজিদ থেকে উদ্ধার করা ক্ষতিগ্রস্ত কোরআনও তার কাছে নিয়ে আসতে শুরু করেন।

জামিল বলেন, বয়সের কারণে আগের মতো কাজ করার শক্তি নেই। তবুও এই কাজ তাকে মানসিক প্রশান্তি দেয়। তাই যতটুকু সম্ভব, প্রতিটি কোরআন যত্নসহকারে মেরামতের চেষ্টা করেন তিনি।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সেবার জন্য তিনি কারও কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেন না। তার ভাষায়, এটি কেবল একটি কাজ নয়, বরং ইবাদতেরই অংশ।

তবে যুদ্ধকালীন বাস্তবতায় কাজটি দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বই বাঁধাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আঠা, কার্ডবোর্ড, চামড়াসহ নানা উপকরণের তীব্র সংকট রয়েছে। যা পাওয়া যায়, তার দামও যুদ্ধের আগের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ গুণ বেড়ে গেছে। তবু সীমিত সামর্থ্য নিয়েই নিজের এই মানবিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

গাজার ধর্মীয় বিষয়ক ওয়াক্‌ফ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে উপত্যকার ১ হাজার ২৭৫টি মসজিদের মধ্যে ১ হাজার ৫০টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১৯১টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর সঙ্গে ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য পবিত্র কোরআন শরীফও।

এই পরিস্থিতিতে জামিল মিগদাদের উদ্যোগ শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ধর্মগ্রন্থ সংরক্ষণের কাজ নয়, বরং যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেও বিশ্বাস, মানবিকতা ও ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও তিনি যেন নীরবে জানিয়ে দিচ্ছেন—সবকিছু হারিয়েও মানুষের বিশ্বাস ও আশার আলো কখনো নিভে যায় না।