ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ প্রধান এখন ঢাকায় ওখানে মধু আছে, চুষলেই জিহ্বায় মজা লাগে: জামায়াত আমীর ‘বাড়িত কি সবাই পুড়া মরছে, কেউ ফোন ধরিচ্ছু না’ সৌদিতে নিহতের শেষ কথা ফের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, পুলিশের লাঠিচার্জ-জলকামান ব্যবহার ৫৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৫ জনই পেল জিপিএ-৫ থানার ভেতর সিআইডি কর্মকর্তাকে থাপ্পড়, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার ওমান উপকূলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মার্কিন সমর্থিত জাহাজে আগুন দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে প্রাইভেট কারের ধাক্কা, রড ঢুকে প্রাণ গেল বিচারকের সমুদ্রের পানিতে মিলল ভয়ংকর ‘মাংসখেকো’ ব্যাকটেরিয়া, মৃত্যু হতে পারে তিন দিনেই  ঋণের নামে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, চুপ্পু-এস আলমসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

‘বাড়িত কি সবাই পুড়া মরছে, কেউ ফোন ধরিচ্ছু না’ সৌদিতে নিহতের শেষ কথা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

এবার সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১২ জন প্রবাসী শ্রমিক। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো আত্রাই উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের বুকফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের দুই ভাই রয়েছেন, যাদের মধ্যে মোহনের মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তের একটি ভয়েস মেসজ স্বজনদের মন ভেঙে দিচ্ছে।

নিহত মোহন আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহলী গ্রামের বাসিন্দা। তার ছোট ভাই সুমন এক সাথে কাজ করতেন সেখানে। অগ্নিকাণ্ডের ঠিক আগমুহূর্তে তিনি বোন আদরীর মোবাইলে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। সেখানে ক্ষোভ ও আকুল কণ্ঠে মোহনকে বলতে শোনা যায়, “বাড়িতে কি সবাই পুরা মরিছে যে কেউ ফোন ধরছে না?” একই সাথে তীব্র আক্ষেপ নিয়ে তিনি যুক্ত করেন, “এর পর আর ফোন দেসহীনি, কোন দিন ধরমু না।

এটিই যে ভাইয়ের জীবনের শেষ বার্তা হবে, তা ধারণাও করতে পারেননি স্বজনরা। মৃত্যুর মুহূর্তে ভাইয়ের ফোন রিসিভ করতে না পারার চরম অপরাধবোধ ও শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বোন আদরী। মর্মান্তিক এই এক দুর্ঘটনায় তিনি দুই সহোদর ভাইকে হারিয়েছেন। বিলাপ করতে করতে আদরী জানান, ভাইয়ের বিদায়বেলায় তার সাথে কথা বলতে না পারার এই আফসোস সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে কর্মস্থলে লাগা আগুনে দগ্ধ হয়ে ১৭ জন নিহতের ঘটনায় আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মোট ১২ জন প্রবাসী মৃত্যুবরণ করেছেন। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্বজনহারা পরিবারগুলোর মাঝে চলছে শোকের মাতম। নিহতদের লাশ দ্রুত ও সম্মানজনকভাবে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং শোকাহত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ প্রধান এখন ঢাকায়

‘বাড়িত কি সবাই পুড়া মরছে, কেউ ফোন ধরিচ্ছু না’ সৌদিতে নিহতের শেষ কথা

আপডেট সময় ০৩:২৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

এবার সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১২ জন প্রবাসী শ্রমিক। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো আত্রাই উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের বুকফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের দুই ভাই রয়েছেন, যাদের মধ্যে মোহনের মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তের একটি ভয়েস মেসজ স্বজনদের মন ভেঙে দিচ্ছে।

নিহত মোহন আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহলী গ্রামের বাসিন্দা। তার ছোট ভাই সুমন এক সাথে কাজ করতেন সেখানে। অগ্নিকাণ্ডের ঠিক আগমুহূর্তে তিনি বোন আদরীর মোবাইলে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। সেখানে ক্ষোভ ও আকুল কণ্ঠে মোহনকে বলতে শোনা যায়, “বাড়িতে কি সবাই পুরা মরিছে যে কেউ ফোন ধরছে না?” একই সাথে তীব্র আক্ষেপ নিয়ে তিনি যুক্ত করেন, “এর পর আর ফোন দেসহীনি, কোন দিন ধরমু না।

এটিই যে ভাইয়ের জীবনের শেষ বার্তা হবে, তা ধারণাও করতে পারেননি স্বজনরা। মৃত্যুর মুহূর্তে ভাইয়ের ফোন রিসিভ করতে না পারার চরম অপরাধবোধ ও শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বোন আদরী। মর্মান্তিক এই এক দুর্ঘটনায় তিনি দুই সহোদর ভাইকে হারিয়েছেন। বিলাপ করতে করতে আদরী জানান, ভাইয়ের বিদায়বেলায় তার সাথে কথা বলতে না পারার এই আফসোস সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে কর্মস্থলে লাগা আগুনে দগ্ধ হয়ে ১৭ জন নিহতের ঘটনায় আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মোট ১২ জন প্রবাসী মৃত্যুবরণ করেছেন। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্বজনহারা পরিবারগুলোর মাঝে চলছে শোকের মাতম। নিহতদের লাশ দ্রুত ও সম্মানজনকভাবে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং শোকাহত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।