ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন মো. সাহাবুদ্দিন, চিকিৎসার জন্য শিগ্‌গির বিদেশে যাবেন গোপনে কারামুক্ত হলেন তৌহিদ আফ্রিদি অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করলো এক ফিলিস্তিনি শাহজালাল বিমানবন্দরে আবারও আগুন, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সিরাজগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৬ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ঢাকার জন্য ডাক আসবে, ঘরে ঘরে লড়াইয়ের দুর্গ গড়তে হবে: জামায়াতের আমির শফিকুর-নাহিদ-মামুনুল এক হলে সরকারের পতন অনিবার্য: কর্নেল অলি জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাকে হারানোর মানসিকতা ছড়িয়ে দিতে চান বাংলাদেশের কোচ স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর গলায় ফাঁস, প্রাণ গেল নারী ইউপি সদস্যের জমি লিখে না দেওয়ায় প্রতিবন্ধী মা-র সঙ্গে ছেলে ইসলামী আন্দোলনের নেতার অমানবিক আচরণ

আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় ভারতের রিফিউজি ক্যাম্পে ছিলেন: মির্জা ফখরুল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৪৭:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৯১ বার পড়া হয়েছে

এবার নিজের প্রয়াত পিতা মির্জা রুহুল আমিনকে স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলামগীর বলেছেন, ঠাকুরগাঁও জেলার যা কিছু আধুনিক, এর শুরু আমার বাবার হাতে। এই জেলার প্রতিটি সৎ মানুষ জানে আমার বাবার কথা। আমার বাবা মারা যাওয়ার পরে তার স্মৃতি রক্ষার জন্য নিয়ে যে ফাউন্ডেশন হয়, তার নেতৃত্বে ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের সব নামকরা রাজনীতিবিদ। ১৯৯৭ সালে বাবার মৃত্যুতে সরকারি শোক প্রকাশ করা হয়।

আজ সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ কথা লেখেন। পোস্টে মির্জা ফখরুল লেখেন, আমি গত দুদিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ে আছি। কিছু কথা বলা খুব জরুরি আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য। এসব কথা বলার কখনো প্রয়োজন মনে করিনি। জীবনের এই প্রান্তে দাঁড়িয়ে যখন দেখি সমাজে কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থে মিথ্যার চাষ করছে, তখন বলা আরও জরুরি।

পিতার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, আমার আব্বা মরহুম মির্জা রুহুল আমিন ১৯৭১-এ মার্চে ২৭ তারিখ আমার নানাবাড়ি যান আমার দুই বোন ও মাকে নিয়ে। তারপর এপ্রিলে চলে যান ভারতের ইসলামপুরে। রিফিউজি ক্যাম্পে ছিলেন যুদ্ধের প্রায় পুরোটা সময়। ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও স্বাধীন হয়। আমার বাবা ঠাকুরগাঁও ফিরে আসেন তখনই। যখন ফিরে আসেন, দেখেন সব লুট হয়ে গেছে। আমার মরহুম মা তার গয়না বিক্রি করেন। আমি যোগ দিই অর্থনীতি শিক্ষকতায়। প্রথম বেতন তুলে দিই আম্মার হাতে। আল্লাহর রহমতে জীবন চলে যায়। ১৯৭১-এর পরে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এভাবেই ধ্বংসস্তূপ থেকে তৈরি করেছে জীবন।

গত ৫৪ বছরে নিজের বাবার নামে কোথাও কোনো মামলা হয়নি জানিয়ে পোস্টে মির্জা ফখরুল আরও লেখেন, আমার বাবা সম্বন্ধে মিথ্যাচার শুরু হয় গত আওয়ামী রেজিমে এবং দুঃখজনকভাবে গত এক বছর ধরে একটি গোষ্ঠী, যারা নিজেদের জুলাইয়ের আন্দোলনের অংশীদার মনে করে, তারাও এই মিথ্যাচারে অংশ নিচ্ছে। মিথ্যা, গুজব ও অপবাদ সমাজ ধ্বংস করে।

নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশে মিথ্যার চাষ ছেলেমেয়েরা করবে না—এমনটি প্রত্যাশা করে তিনি লেখেন, আমি আমার সারাজীবন এ দেশ ও জাতির জন্য দিয়েছি। গত বছর জুলাইয়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা বাংলাদেশকে আশা দেখিয়েছে। আমি আশা করব, এরা সত্যের পথে থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মেধা, বুদ্ধিমত্তা, সততা আর পলিসি দিয়ে। শঠতা আর মিথ্যা দিয়ে পপুলিজম কেনা যায়, কিন্তু দেশ গড়া যায় না।

সবশেষে পবিত্র কোরআনের সুরা হুজরাতের একটি আয়াত উল্লেখ করে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয় কোনো কোনো অনুমান তো পাপ।’ আসুন, আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা, দেশপ্রেম আর নতুন প্রজন্মের সাহস ও দেশপ্রেম দিয়ে তৈরি করি একটি মর্যাদাপূর্ণ সৎ মানবিক বাংলাদেশ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন মো. সাহাবুদ্দিন, চিকিৎসার জন্য শিগ্‌গির বিদেশে যাবেন

আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় ভারতের রিফিউজি ক্যাম্পে ছিলেন: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ০৪:৪৭:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

এবার নিজের প্রয়াত পিতা মির্জা রুহুল আমিনকে স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলামগীর বলেছেন, ঠাকুরগাঁও জেলার যা কিছু আধুনিক, এর শুরু আমার বাবার হাতে। এই জেলার প্রতিটি সৎ মানুষ জানে আমার বাবার কথা। আমার বাবা মারা যাওয়ার পরে তার স্মৃতি রক্ষার জন্য নিয়ে যে ফাউন্ডেশন হয়, তার নেতৃত্বে ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের সব নামকরা রাজনীতিবিদ। ১৯৯৭ সালে বাবার মৃত্যুতে সরকারি শোক প্রকাশ করা হয়।

আজ সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ কথা লেখেন। পোস্টে মির্জা ফখরুল লেখেন, আমি গত দুদিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ে আছি। কিছু কথা বলা খুব জরুরি আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য। এসব কথা বলার কখনো প্রয়োজন মনে করিনি। জীবনের এই প্রান্তে দাঁড়িয়ে যখন দেখি সমাজে কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থে মিথ্যার চাষ করছে, তখন বলা আরও জরুরি।

পিতার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, আমার আব্বা মরহুম মির্জা রুহুল আমিন ১৯৭১-এ মার্চে ২৭ তারিখ আমার নানাবাড়ি যান আমার দুই বোন ও মাকে নিয়ে। তারপর এপ্রিলে চলে যান ভারতের ইসলামপুরে। রিফিউজি ক্যাম্পে ছিলেন যুদ্ধের প্রায় পুরোটা সময়। ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও স্বাধীন হয়। আমার বাবা ঠাকুরগাঁও ফিরে আসেন তখনই। যখন ফিরে আসেন, দেখেন সব লুট হয়ে গেছে। আমার মরহুম মা তার গয়না বিক্রি করেন। আমি যোগ দিই অর্থনীতি শিক্ষকতায়। প্রথম বেতন তুলে দিই আম্মার হাতে। আল্লাহর রহমতে জীবন চলে যায়। ১৯৭১-এর পরে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এভাবেই ধ্বংসস্তূপ থেকে তৈরি করেছে জীবন।

গত ৫৪ বছরে নিজের বাবার নামে কোথাও কোনো মামলা হয়নি জানিয়ে পোস্টে মির্জা ফখরুল আরও লেখেন, আমার বাবা সম্বন্ধে মিথ্যাচার শুরু হয় গত আওয়ামী রেজিমে এবং দুঃখজনকভাবে গত এক বছর ধরে একটি গোষ্ঠী, যারা নিজেদের জুলাইয়ের আন্দোলনের অংশীদার মনে করে, তারাও এই মিথ্যাচারে অংশ নিচ্ছে। মিথ্যা, গুজব ও অপবাদ সমাজ ধ্বংস করে।

নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশে মিথ্যার চাষ ছেলেমেয়েরা করবে না—এমনটি প্রত্যাশা করে তিনি লেখেন, আমি আমার সারাজীবন এ দেশ ও জাতির জন্য দিয়েছি। গত বছর জুলাইয়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা বাংলাদেশকে আশা দেখিয়েছে। আমি আশা করব, এরা সত্যের পথে থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মেধা, বুদ্ধিমত্তা, সততা আর পলিসি দিয়ে। শঠতা আর মিথ্যা দিয়ে পপুলিজম কেনা যায়, কিন্তু দেশ গড়া যায় না।

সবশেষে পবিত্র কোরআনের সুরা হুজরাতের একটি আয়াত উল্লেখ করে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয় কোনো কোনো অনুমান তো পাপ।’ আসুন, আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা, দেশপ্রেম আর নতুন প্রজন্মের সাহস ও দেশপ্রেম দিয়ে তৈরি করি একটি মর্যাদাপূর্ণ সৎ মানবিক বাংলাদেশ।