ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘আর্জেন্টিনা জেতেনি’, মেসিদের বোর্ড থেকেই সাংবাদিকদের ই-মেইল দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রকারীদের উৎখাতে জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে: ফয়জুল করীম বরিশালে থানাহাজতে সেদিন যা ঘটেছিল, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল মোহাম্মদপুরে ভবনের একাংশে ধস, দুর্ঘটনার শঙ্কা জামালপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ভাঙচুর এমপির গাড়ি সরকারি শিশু পরিবারে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামের ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন সারাদেশে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গোল না খাওয়া স্পেনের সামনে বেলজিয়ামের গোলঝড় এবার অমুসলিম দেশেও ই’স’রা’ই’লি পণ্য আমদানি নি’ষি’দ্ধ

ইরানের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রকে ছোট করে দেখা পশ্চিমাদের বড় ভুল: ফ্রান্স

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • ৬১১ বার পড়া হয়েছে

এবার ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ হলেও থেমে নেই উত্তেজনা। ইসরায়েল ফের হামলার হুমকি দিয়েছে, আর তাতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানকে ‘শক্তিশালী রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ফ্রান্স। ইউরোপের প্রভাবশালী এই দেশটি শুধু ইরানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা স্বীকারই করেনি, বরং পশ্চিমা বিশ্বকে সতর্কও করেছে এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে হালকাভাবে না নেওয়ার ব্যাপারে।

১১ জুলাই ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে জানায়, ফরাসি ম্যাগাজিন লা ক্লাব–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যাবেস্টিয়ান লেকনো বলেন, ‘ইরানের মতো একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রকে ছোট করে দেখা পশ্চিমাদের বড় ভুল।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান কেবল ভূ-রাজনৈতিকভাবে নয়, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকেও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। পশ্চিমা নীতিনির্ধারকরা এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে ইরানকে ক্ষুদ্র শক্তি হিসেবে ভাবার ভুল করেছে।’

ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ইরান-ইসরায়েল সাম্প্রতিক সংঘাতে একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। ১৩ জুন ইসরাইলের উসকানিমূলক এক হামলায় ইরানের একাধিক ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হন। এর পাল্টা জবাবে ইরান ৪২ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন অঞ্চলে। এতে ইসরায়েল ইতিহাসের অন্যতম বড় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে।

এই প্রসঙ্গে স্যাবেস্টিয়ান বলেন, ‘গত দুই দশকে ইরান যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে, তা এখন কেবল কিছু বিজ্ঞানীকে হত্যা করে ধ্বংস করা সম্ভব নয়। এটা কেবল কাজের গতি কমিয়ে দেয়, কিন্তু মূল শক্তি অটুট থাকে।’ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভূগর্ভে অবস্থিত এবং উচ্চমাত্রায় সুরক্ষিত—এমনটাও উল্লেখ করেন ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তার মতে, এগুলোর উপর সাধারণ বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হানলে সেগুলো ধ্বংস করার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই ইরানকে সামরিকভাবে দমন করা সহজ নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, স্যাবেস্টিয়ানের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে পশ্চিমা বিশ্বে ইরানকে ঘিরে এক নতুন উপলব্ধির। যেখানে ইরানকে আর ‘সহজ প্রতিপক্ষ’ হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। বরং দিন দিন তাদের সামরিক কৌশল, প্রযুক্তি, প্রতিরোধশক্তি এবং কূটনৈতিক অবস্থান আরও পরিপক্ব ও আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আর্জেন্টিনা জেতেনি’, মেসিদের বোর্ড থেকেই সাংবাদিকদের ই-মেইল

ইরানের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রকে ছোট করে দেখা পশ্চিমাদের বড় ভুল: ফ্রান্স

আপডেট সময় ০৫:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

এবার ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ হলেও থেমে নেই উত্তেজনা। ইসরায়েল ফের হামলার হুমকি দিয়েছে, আর তাতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানকে ‘শক্তিশালী রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ফ্রান্স। ইউরোপের প্রভাবশালী এই দেশটি শুধু ইরানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা স্বীকারই করেনি, বরং পশ্চিমা বিশ্বকে সতর্কও করেছে এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে হালকাভাবে না নেওয়ার ব্যাপারে।

১১ জুলাই ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে জানায়, ফরাসি ম্যাগাজিন লা ক্লাব–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যাবেস্টিয়ান লেকনো বলেন, ‘ইরানের মতো একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রকে ছোট করে দেখা পশ্চিমাদের বড় ভুল।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান কেবল ভূ-রাজনৈতিকভাবে নয়, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকেও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। পশ্চিমা নীতিনির্ধারকরা এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে ইরানকে ক্ষুদ্র শক্তি হিসেবে ভাবার ভুল করেছে।’

ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ইরান-ইসরায়েল সাম্প্রতিক সংঘাতে একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। ১৩ জুন ইসরাইলের উসকানিমূলক এক হামলায় ইরানের একাধিক ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হন। এর পাল্টা জবাবে ইরান ৪২ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন অঞ্চলে। এতে ইসরায়েল ইতিহাসের অন্যতম বড় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে।

এই প্রসঙ্গে স্যাবেস্টিয়ান বলেন, ‘গত দুই দশকে ইরান যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে, তা এখন কেবল কিছু বিজ্ঞানীকে হত্যা করে ধ্বংস করা সম্ভব নয়। এটা কেবল কাজের গতি কমিয়ে দেয়, কিন্তু মূল শক্তি অটুট থাকে।’ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভূগর্ভে অবস্থিত এবং উচ্চমাত্রায় সুরক্ষিত—এমনটাও উল্লেখ করেন ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তার মতে, এগুলোর উপর সাধারণ বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হানলে সেগুলো ধ্বংস করার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই ইরানকে সামরিকভাবে দমন করা সহজ নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, স্যাবেস্টিয়ানের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে পশ্চিমা বিশ্বে ইরানকে ঘিরে এক নতুন উপলব্ধির। যেখানে ইরানকে আর ‘সহজ প্রতিপক্ষ’ হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। বরং দিন দিন তাদের সামরিক কৌশল, প্রযুক্তি, প্রতিরোধশক্তি এবং কূটনৈতিক অবস্থান আরও পরিপক্ব ও আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে।