বাংলাদেশিরা এখন পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে আছে। তবে বিস্ময়কর হলেও সত্য, ওশেনিয়ার এক ক্ষুদ্র দ্বীপদেশ পালাউতে প্রায় প্রতি ১২ জনের মধ্যে ১ জনই বাংলাদেশি! প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে অবস্থিত এই স্বপ্নময় দ্বীপরাজ্য সত্যিই ‘ব্লু প্যারাডাইস’ খ্যাতি অর্জন করেছে।
প্রশান্ত নীল সমুদ্র, রঙিন প্রবালপ্রাচীর এবং অনিন্দ্য সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা পালাউয়ায় পৃথিবীর বিরল সামুদ্রিক প্রাণী দেখা যায়। বিশেষ করে ‘জেলিফিশ লেক’-এ লাখ লাখ জেলিফিশ ভেসে বেড়ায়, যা অন্য কোথাও বিরল।
প্রায় ৩৪০টি ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে গঠিত পালাউয়ের জনসংখ্যা মাত্র ২৪ হাজার। তবু, পরিবেশ সচেতন সরকার ও সৌন্দর্যের মিলনে এটি বিশ্বের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত। অর্থনীতির মূল ভিত্তি পর্যটন, এছাড়া কৃষি ও মাছ ধরা এখানকার গুরুত্বপূর্ণ পেশা।
ইতিহাস ও সংস্কৃতি
১৫০০ সালে পালাউ স্পেনের দখলে আসে। পরে জার্মানি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে থাকে। ১৯৯৪ সালের অক্টোবর মাসে স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে পালাউ বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। সরকারি ভাষা হলো পালাউন ও ইংরেজি, প্রধান ধর্ম খ্রিস্টান, আর সাক্ষরতার হার ৯৭ শতাংশ।
বাংলাদেশের বিস্ময়কর উপস্থিতি
অদ্ভুত হলেও সত্য, মাত্র ২৪ হাজার জনসংখ্যার এই দেশে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। অর্থাৎ প্রতি ১২ জনের মধ্যে ১ জন বাংলাদেশি! তারা পর্যটন, নির্মাণ, ব্যবসা ও সেবা খাতে কাজ করছেন এবং পালাউয়ের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি খাতে বাংলাদেশিরা দিন দিন দৃঢ় অবস্থান গড়ছেন।
বিদেশের মাটিতে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি পালাউতে নিজেদের যোগ্যতার আলোকবর্তিকা তৈরি করছে। প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য পালাউয়ায় বাংলাদেশিরা সত্যিই গড়ে তুলেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























