ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মোদির মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভের ডাক ২৫ মার্চের আগে মুজিব বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছিল: চট্টগ্রাম জামায়াত আমির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিজয় দিবসের রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর পোড়াল দুর্বৃত্তরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত ইতিহাসের ৯০ শতাংশই কল্পকাহিনী: আমির হামজা বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ছাত্রদল নেতা আটক একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি: নাহিদ চাকসু ভিপিকে মারতে তেড়ে আসলেন ছাত্রদল সভাপতি ফয়সাল আমার কাছে অনেক রাতে আসতেন, সকালে চলে যেতেন: রিমান্ডে স্ত্রী সামিয়া চব্বিশের আন্দোলনকারীরাও মুক্তিযোদ্ধা: উপদেষ্টা শারমীন

“মামলা তুলে নেওয়ার মন্তব্যে বিতর্কে মির্জা ফখরুল: আওয়ামী লীগের প্রতি ‘মায়াকান্নায়’ ক্ষুব্ধ জনতা”

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ৬৫৮ বার পড়া হয়েছে

 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে করা সব মামলা তুলে নেওয়ার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পরই রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন,
“দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বলেছেন, প্রতিশোধ নয়, শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নত বাংলাদেশ চান। বিএনপিও প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চায় না। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যদি মামলা হয়েও থাকে, সেগুলো তুলে নেওয়া হবে।”

তার এ বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা দাবি করে, ফখরুলের বক্তব্য যদি ভুল বা বিকৃত হয়ে প্রচারিত হয়ে থাকে, তবে তিনি যেন দ্রুত তা প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চান।

বিতর্ক বাড়তে থাকায় মির্জা ফখরুল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেন, গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যটি বিকৃত এবং বিভ্রান্তিকর। তিনি কোনো অবস্থাতেই আওয়ামী লীগের মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত মন্তব্য করেননি বলে জানান এবং জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পতনের পর থেকেই ফখরুল বিভিন্ন সময় বিতর্কিত মন্তব্য ও অবস্থান নিয়ে সমালোচিত হচ্ছেন। আওয়ামী লীগের বিষয়ে তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নিলেও, জামায়াতে ইসলামী ও শরীয়াহ আইন সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিপক্ষে তার কড়া সমালোচনাও আলোচনায় এসেছে।

এর আগে শেখ হাসিনার পতনের পর সাধারণ মানুষ যখন প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ কিছু গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়, তখনও ওই দুই পত্রিকার পক্ষে সাফাই গাওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির তৃণমূলের ক্ষোভ এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মূল কারণ এখন মির্জা ফখরুলের বিতর্কিত অবস্থান। ফ্যাসিস্ট আমলে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনে তার ‘নরম মনোভাব’ দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাধারণ মানুষও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলছে, দেশের মুক্তির আন্দোলনের পর আওয়ামী অপরাধীদের প্রতি এমন সহানুভূতি ‘জাতির সঙ্গে প্রতারণার’ শামিল।

ফলে, আওয়ামী পতনের পর যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফল হিসেবে নতুন রাজনীতির অধ্যায় শুরু হয়েছিল, সেখানে বিএনপির এই শীর্ষ নেতার অবস্থান এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদির মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভের ডাক

“মামলা তুলে নেওয়ার মন্তব্যে বিতর্কে মির্জা ফখরুল: আওয়ামী লীগের প্রতি ‘মায়াকান্নায়’ ক্ষুব্ধ জনতা”

আপডেট সময় ১০:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে করা সব মামলা তুলে নেওয়ার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পরই রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন,
“দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বলেছেন, প্রতিশোধ নয়, শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নত বাংলাদেশ চান। বিএনপিও প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চায় না। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যদি মামলা হয়েও থাকে, সেগুলো তুলে নেওয়া হবে।”

তার এ বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা দাবি করে, ফখরুলের বক্তব্য যদি ভুল বা বিকৃত হয়ে প্রচারিত হয়ে থাকে, তবে তিনি যেন দ্রুত তা প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চান।

বিতর্ক বাড়তে থাকায় মির্জা ফখরুল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেন, গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যটি বিকৃত এবং বিভ্রান্তিকর। তিনি কোনো অবস্থাতেই আওয়ামী লীগের মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত মন্তব্য করেননি বলে জানান এবং জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পতনের পর থেকেই ফখরুল বিভিন্ন সময় বিতর্কিত মন্তব্য ও অবস্থান নিয়ে সমালোচিত হচ্ছেন। আওয়ামী লীগের বিষয়ে তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নিলেও, জামায়াতে ইসলামী ও শরীয়াহ আইন সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিপক্ষে তার কড়া সমালোচনাও আলোচনায় এসেছে।

এর আগে শেখ হাসিনার পতনের পর সাধারণ মানুষ যখন প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ কিছু গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়, তখনও ওই দুই পত্রিকার পক্ষে সাফাই গাওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির তৃণমূলের ক্ষোভ এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মূল কারণ এখন মির্জা ফখরুলের বিতর্কিত অবস্থান। ফ্যাসিস্ট আমলে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনে তার ‘নরম মনোভাব’ দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাধারণ মানুষও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলছে, দেশের মুক্তির আন্দোলনের পর আওয়ামী অপরাধীদের প্রতি এমন সহানুভূতি ‘জাতির সঙ্গে প্রতারণার’ শামিল।

ফলে, আওয়ামী পতনের পর যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফল হিসেবে নতুন রাজনীতির অধ্যায় শুরু হয়েছিল, সেখানে বিএনপির এই শীর্ষ নেতার অবস্থান এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।