ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুবাই থেকে গ্রেপ্তার মূল আসামি আরিফ বরিশালে নারী শিক্ষার্থীকে হত্যা, মূল আসামি মাইনুল গ্রেপ্তার বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম, বাঁচল না কেউ মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দিপালীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে জামায়াত আমিরের সঙ্গে জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের বৈঠক মায়ের কাছে স্মার্ট ফোনের আবদার, টাকা না পেয়ে যুবকের আত্মহত্যা বিদ্যালয়ে সিনিয়রকে ‘তুই’ সম্বোধন করায় মাথা ফাটলো দুই শিক্ষার্থীর হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর বিষয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী কবিরাজি চিকিৎসার নামে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, মাদরাসার প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার

এনসিপি এলে ৪০, না এলে ২৩ আসনে সমঝোতা করবে বিএনপি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:২১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৬৯২ বার পড়া হয়েছে

২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণার এক সপ্তাহ পার হলেও শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি বিএনপি। এতে জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন, ফলে পরে আসন ছাড়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিএনপির শীর্ষ নেতারাও স্বীকার করছেন, শরিকদের জন্য আসন নির্ধারণে দেরি হলে দলের প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে পারেন—যা শরিকদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ঘোষিত তালিকায় এখনো ৬৩টি আসন ফাঁকা আছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০টি আসন শরিক দল ও মিত্র জোটকে ছেড়ে দিতে পারে দলটি। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে সমঝোতা না হলে এই সংখ্যা কমে ২৩টিতে নেমে আসবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন,

“শরিকদের আসন নিয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে বৈঠক করে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যারা শরিকদের সঙ্গে লিয়াজোঁ করছেন, তাদের নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বসবেন।”

অন্যদিকে, অন্তত দশটি শরিক দলের শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, তাদের প্রত্যাশিত আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রতিদিন শোডাউন ও গণসংযোগ করছেন। এতে তারা নিজেরা মাঠে নামতে পারছেন না এবং এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

একজন শরিক দলের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“আমরা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের বাস্তব পরিস্থিতি জানিয়ে দ্রুত সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছি। দেরি হলে ক্ষতি হবে সবার।”

নিবন্ধিত কয়েকটি শরিক দলের নেতারা আরও বলেন, জোটে থাকলেও তাদের নিজস্ব প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। কিন্তু তাদের আসনে বিএনপির প্রার্থীরা ইতিমধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে প্রচারণা শুরু করেছেন। পরবর্তীতে আসন ছাড় দেওয়া হলেও ভোটারদের মনে অন্য প্রতীকের পরিচিতি তৈরি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, শরিক দলের প্রার্থিতা নির্ধারণে তাদের অতীত আন্দোলনে ভূমিকা, জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সরকারে সম্ভাব্য ভূমিকা বিবেচনা করা হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দুবাই থেকে গ্রেপ্তার মূল আসামি আরিফ

এনসিপি এলে ৪০, না এলে ২৩ আসনে সমঝোতা করবে বিএনপি

আপডেট সময় ০৮:২১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণার এক সপ্তাহ পার হলেও শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি বিএনপি। এতে জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন, ফলে পরে আসন ছাড়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিএনপির শীর্ষ নেতারাও স্বীকার করছেন, শরিকদের জন্য আসন নির্ধারণে দেরি হলে দলের প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে পারেন—যা শরিকদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ঘোষিত তালিকায় এখনো ৬৩টি আসন ফাঁকা আছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০টি আসন শরিক দল ও মিত্র জোটকে ছেড়ে দিতে পারে দলটি। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে সমঝোতা না হলে এই সংখ্যা কমে ২৩টিতে নেমে আসবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন,

“শরিকদের আসন নিয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে বৈঠক করে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যারা শরিকদের সঙ্গে লিয়াজোঁ করছেন, তাদের নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বসবেন।”

অন্যদিকে, অন্তত দশটি শরিক দলের শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, তাদের প্রত্যাশিত আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রতিদিন শোডাউন ও গণসংযোগ করছেন। এতে তারা নিজেরা মাঠে নামতে পারছেন না এবং এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

একজন শরিক দলের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“আমরা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের বাস্তব পরিস্থিতি জানিয়ে দ্রুত সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছি। দেরি হলে ক্ষতি হবে সবার।”

নিবন্ধিত কয়েকটি শরিক দলের নেতারা আরও বলেন, জোটে থাকলেও তাদের নিজস্ব প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। কিন্তু তাদের আসনে বিএনপির প্রার্থীরা ইতিমধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে প্রচারণা শুরু করেছেন। পরবর্তীতে আসন ছাড় দেওয়া হলেও ভোটারদের মনে অন্য প্রতীকের পরিচিতি তৈরি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, শরিক দলের প্রার্থিতা নির্ধারণে তাদের অতীত আন্দোলনে ভূমিকা, জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সরকারে সম্ভাব্য ভূমিকা বিবেচনা করা হচ্ছে।