ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘আমার কাছে কাজ করতে হলে ঘুষ দিতেই হবে’ সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা, রাতের মধ্যে শর্ত না মানলে কাল লংমার্চ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকারের পরিণতি আ.লীগের মতো হবে: সারজিস এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ভুল, ৪ শিক্ষককে শোকজ গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসতে হবে বন্যায় শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে পরীক্ষা পেছানোর আহ্বান রিজভীর পরীক্ষায় শেখ মুজিবকে নিয়ে প্রশ্ন, সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পছন্দের রেফারি পেয়েছেন মেসি! চেয়ারম্যান প্রার্থীর কাছে টাকা চেয়ে দুই ভুয়া ডিজিএফআই সদস্য গ্রেপ্তার ইরানে আরও শক্তিশালী হামলা চালানো হবে: নেতানিয়াহু

জুয়ার নেশায় অর্থ জোগাতে একসঙ্গে ১৪ জনকে বিয়ে করলেন নারী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১৮:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৪৮ বার পড়া হয়েছে

জুয়ার নেশার অর্থ জোগাতে একসঙ্গে ১৪ জন পুরুষকে বিয়ে করে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের এক নারী আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। তবে প্রসিকিউশনের সঙ্গে সমঝোতার কারণে তার কারাদণ্ডের পরিবর্তে প্রবেশন (পর্যবেক্ষণাধীন মুক্তি) পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযুক্ত ৩৩ বছর বয়সী জিয়াইং চেন ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার হন। তদন্তে জানা যায়, ২০১৯ সালের মার্চ থেকে নেভাদা অঙ্গরাজ্যের ক্লার্ক কাউন্টিতে তিনি মোট ১৪টি বিয়ের সনদ সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ সময় ধরেভিকি লিয়াংনামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পুরুষকে প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলতেন তিনি।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, বিয়ের পর চেন তার স্বামীদের কাছে দাবি করতেন যে, চীনে থাকা অসুস্থ স্বজনদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থ প্রয়োজন। এই অজুহাতে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, ওই অর্থ আত্মীয়দের চিকিৎসায় নয়, বরং লাস ভেগাস স্ট্রিপের বিলাসবহুল উইন ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতেই ব্যয় করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, শুধু গত এক বছরেই চেন জুয়া খেলতে গিয়ে তিন লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ হারিয়েছেন। গত ৯ জুলাই বহুবিবাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেন চেন। এর বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে আনা আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহারে সম্মত হয় প্রসিকিউশন। পাশাপাশি আদালতে তার জন্য প্রবেশনের সুপারিশও করা হবে। আগামী ২০ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করা হবে। আইনে বহুবিবাহের অপরাধে এক থেকে চার বছর এবং প্রতারণার অভিযোগে এক থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, প্রসিকিউশনের সুপারিশের কারণে তিনি অল্প সময়ের কারাভোগ অথবা কারাদণ্ড ছাড়াই মুক্তি পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পরিচয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই চেন বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। বিয়ের পর বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পরই তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন। এক ভুক্তভোগীর দাবি, অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার কথা বলে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলার নেওয়ার পর চেন জানিয়ে দেন যে তিনি আর বৈবাহিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চান না। জিজ্ঞাসাবাদে চেন পুলিশকে জানান, একটি ভুয়া বিয়ে থেকে তিনি সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারতেন। এছাড়া লাস ভেগাসে বিয়ে করা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় শহরটিকেই তিনি তাঁর প্রতারণার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আমার কাছে কাজ করতে হলে ঘুষ দিতেই হবে’

জুয়ার নেশায় অর্থ জোগাতে একসঙ্গে ১৪ জনকে বিয়ে করলেন নারী

আপডেট সময় ১২:১৮:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

জুয়ার নেশার অর্থ জোগাতে একসঙ্গে ১৪ জন পুরুষকে বিয়ে করে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের এক নারী আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। তবে প্রসিকিউশনের সঙ্গে সমঝোতার কারণে তার কারাদণ্ডের পরিবর্তে প্রবেশন (পর্যবেক্ষণাধীন মুক্তি) পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযুক্ত ৩৩ বছর বয়সী জিয়াইং চেন ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার হন। তদন্তে জানা যায়, ২০১৯ সালের মার্চ থেকে নেভাদা অঙ্গরাজ্যের ক্লার্ক কাউন্টিতে তিনি মোট ১৪টি বিয়ের সনদ সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ সময় ধরেভিকি লিয়াংনামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পুরুষকে প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলতেন তিনি।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, বিয়ের পর চেন তার স্বামীদের কাছে দাবি করতেন যে, চীনে থাকা অসুস্থ স্বজনদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থ প্রয়োজন। এই অজুহাতে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, ওই অর্থ আত্মীয়দের চিকিৎসায় নয়, বরং লাস ভেগাস স্ট্রিপের বিলাসবহুল উইন ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতেই ব্যয় করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, শুধু গত এক বছরেই চেন জুয়া খেলতে গিয়ে তিন লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ হারিয়েছেন। গত ৯ জুলাই বহুবিবাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেন চেন। এর বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে আনা আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহারে সম্মত হয় প্রসিকিউশন। পাশাপাশি আদালতে তার জন্য প্রবেশনের সুপারিশও করা হবে। আগামী ২০ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করা হবে। আইনে বহুবিবাহের অপরাধে এক থেকে চার বছর এবং প্রতারণার অভিযোগে এক থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, প্রসিকিউশনের সুপারিশের কারণে তিনি অল্প সময়ের কারাভোগ অথবা কারাদণ্ড ছাড়াই মুক্তি পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পরিচয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই চেন বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। বিয়ের পর বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পরই তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন। এক ভুক্তভোগীর দাবি, অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার কথা বলে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলার নেওয়ার পর চেন জানিয়ে দেন যে তিনি আর বৈবাহিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চান না। জিজ্ঞাসাবাদে চেন পুলিশকে জানান, একটি ভুয়া বিয়ে থেকে তিনি সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারতেন। এছাড়া লাস ভেগাসে বিয়ে করা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় শহরটিকেই তিনি তাঁর প্রতারণার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।