চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে পদ্মার ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে জামায়াতে ইসলামীর প্রকৃত ভোটের হার শতকরা ৫ থেকে ৬ শতাংশ। এই ভোট রাতারাতি ৫১ শতাংশে উন্নীত হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ জামায়াতকে বিশ্বাস করে না।”
প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জামায়াতের ভোটের হার জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ জানান—জামায়াতের ভোট প্রায় ৫ শতাংশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল বলেন, “৫–৬ শতাংশ ভোট নিয়ে রাতারাতি ৫১% হওয়ার চিন্তা করবেন না। মানুষ আপনাদের বিশ্বাস করে না।”
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান আন্দোলনের সময় থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতের অবস্থান ছিল ভুলের পথে। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধে গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল। ফখরুল বলেন, “আমি মুক্তিযোদ্ধা, সত্য বলতেই পারি। সোশ্যাল মিডিয়ায় আজেবাজে কথা বলে আমাদেরকে দমিয়ে রাখা যাবে না।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অবশ্যই অনুষ্ঠিত হতে হবে। তিনি সতর্ক করেন যে নির্বাচন বিলম্বিত হলে দেশ দুর্বল হয়ে পড়বে, কারণ জনগণের সমর্থন ছাড়া কোন সরকার টিকে থাকতে পারে না।
জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনারা ভাল হয়ে যান। নির্বাচন করবেন, তবু মানুষকে কেন বিভ্রান্ত করেন? আপনারাদের বিলবোর্ড-পোস্টারই সবচেয়ে বেশি। তবু নির্বাচন পেছাতে চান কেন?”
পদ্মা নদীর পানিবণ্টন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অস্তিত্ব পদ্মার সঙ্গে জড়িত। ২০২৬ সালে চুক্তি শেষ হলে ভারতের পদক্ষেপ কী হবে তা অনিশ্চিত। শক্তিশালী সরকার না এলে দেশের স্বার্থ রক্ষা কঠিন হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এটা প্রমাণিত—শুধু বিএনপি সরকারই পদ্মার ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে পেরেছে।”

ডেস্ক রিপোর্ট 



















