রংপুরে সোমবার ঘোষিত লকডাউন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে নগরীতে দেখা গেছে স্বাভাবিক চিত্র। লকডাউনের ডাক থাকলেও সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
শহরের ব্যবসায়ী সুমন মিয়া এবং রমজান আলী জানান, রংপুরে লকডাউনের কোনো বাস্তব প্রভাব দেখা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। তারা বলেন, লকডাউনের ডাক দিলেও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কোনো নেতাকর্মীকে মাঠে দেখা যায়নি।
অটোচালক রহমত আলী ও বশির মিয়া বলেন, লকডাউন নয়—উল্টো যানজটই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশও অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। তবে মাঝেমধ্যে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মিছিল চোখে পড়েছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে তাদের নেতাকর্মীরা মাঠে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক বলেন, কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে। জনগণকে বিভ্রান্ত করে অরাজকতা সৃষ্টির যেকোনো উদ্যোগ কঠোরভাবে দমন করার আহ্বান জানান তিনি।
রংপুরের পীরগঞ্জ, বদরগঞ্জ এবং রংপুর মেট্রো কোতোয়ালি থানার ওসিরা জানান, লকডাউনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নগরীতে কোনো ধরনের মিছিল, সভা কিংবা রাজনৈতিক তৎপরতার খবর পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ সদস্যরা দিন-রাত মাঠে কাজ করছেন।
রংপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু সাইম জানান, জেলায় বিশেষ অভিযান চলছে এবং সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে কয়েকটি থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলাও হয়েছে। এসব মামলায় ২০ জনের বেশি রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী জানান, লকডাউনে জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিভিন্ন থানায় মামলার পর अब পর্যন্ত ১৫ জনের মতো নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস, আদালত, হাসপাতালসহ নানা স্থানে বাড়তি পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















