ঢাকা , রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আল্লাহ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন, ইচ্ছে করে সিজদা থেকে মাথা না তুলি: বাবর জানাজায় মানুষের ওপর হামলা, মুহূর্তেই নিভে গেল ৮ জনের প্রাণ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের আইনি পদক্ষেপ শুরু মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ‘মূল্যহীন ও অবৈধ’: মোজতবা খামেনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুরোনো ফর্মুলা বাদ দিতে হবে: আখতার হোসেন দাবানল, বিষাক্ত ধোঁয়া ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে ট্রাকচাপায় অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু গাজায় অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপন করছে ইসরায়েল কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আইআরজিসির হামলা যে কোনো সময় হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে: নাহিদ

চুরির অভিযোগে দিনে পড়লেন নফল নামাজ, রাতে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জে চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে অনুতপ্ত হয়ে ভালো হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন স্থানীয়রা। শাস্তিস্বরূপ ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় ও তওবা করিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদক সেবন ও মাদক বিক্রির অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ফকির আস্তানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ফোন ও একটি লেডিস ব্যাগ চুরির অভিযোগে মো. ফয়জুল করিমকে আটক করেন এলাকাবাসী। পরে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে আর কখনো চুরি বা কোনো অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে সবার কাছে অঙ্গীকার করেন। তার অনুতাপ ও অসহায়ত্ব বিবেচনায় স্থানীয়রা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে পুলিশের হাতে না দিয়ে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় ও তওবা করিয়ে সতর্ক করে ছেড়ে দেন।

 

কিন্তু সেই সুযোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রাতেই জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ মাদক সেবন ও মাদক বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ফয়জুল করিমকে গ্রেপ্তার করে। তিনি জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

 

স্থানীয় যুবক জহির বলেন,ভালো হওয়ার অঙ্গীকারে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাতেই মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের খবর শুনে আমরা হতাশ হয়েছি। মানুষ নিজে থেকে পরিবর্তন না চাইলে তাকে বদলানো কঠিন।

 

আরেক স্থানীয় যুবক আহসান উল্লাহ রাকিব বলেন,অসহায় মনে করে তাকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদক নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়াটা সত্যিই দুঃখজনক। এতে সমাজের মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম বলেন,চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। পরে রাতে মাদক সেবন ও মাদক বিক্রির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, অনুতাপ প্রকাশ করলেই পরিবর্তন আসে না; প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন নিজের আন্তরিক ইচ্ছা ও আইন মেনে চলার মানসিকতা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আল্লাহ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন, ইচ্ছে করে সিজদা থেকে মাথা না তুলি: বাবর

চুরির অভিযোগে দিনে পড়লেন নফল নামাজ, রাতে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ১০:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জে চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে অনুতপ্ত হয়ে ভালো হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন স্থানীয়রা। শাস্তিস্বরূপ ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় ও তওবা করিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদক সেবন ও মাদক বিক্রির অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ফকির আস্তানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ফোন ও একটি লেডিস ব্যাগ চুরির অভিযোগে মো. ফয়জুল করিমকে আটক করেন এলাকাবাসী। পরে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে আর কখনো চুরি বা কোনো অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে সবার কাছে অঙ্গীকার করেন। তার অনুতাপ ও অসহায়ত্ব বিবেচনায় স্থানীয়রা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে পুলিশের হাতে না দিয়ে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় ও তওবা করিয়ে সতর্ক করে ছেড়ে দেন।

 

কিন্তু সেই সুযোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রাতেই জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ মাদক সেবন ও মাদক বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ফয়জুল করিমকে গ্রেপ্তার করে। তিনি জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

 

স্থানীয় যুবক জহির বলেন,ভালো হওয়ার অঙ্গীকারে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাতেই মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের খবর শুনে আমরা হতাশ হয়েছি। মানুষ নিজে থেকে পরিবর্তন না চাইলে তাকে বদলানো কঠিন।

 

আরেক স্থানীয় যুবক আহসান উল্লাহ রাকিব বলেন,অসহায় মনে করে তাকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদক নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়াটা সত্যিই দুঃখজনক। এতে সমাজের মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম বলেন,চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। পরে রাতে মাদক সেবন ও মাদক বিক্রির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, অনুতাপ প্রকাশ করলেই পরিবর্তন আসে না; প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন নিজের আন্তরিক ইচ্ছা ও আইন মেনে চলার মানসিকতা।