ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
অপতথ্য প্রচার নিয়ে বিবৃতি দিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মরক্কো-স্কটল্যান্ডে ঝুঁলছে ব্রাজিলের গ্রুপ ভাগ্য মেহেরপুর সীমান্তে চারজনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির অবস্থানে ব্যর্থ বিএসএফ ৬ কোটি টাকার বৃত্তি পেলেন চাঁদপুরের সানজিদা তুলি আজ থেকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল-লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী : অ্যাক্সিওস বাংলাদেশ সীমান্তে জমি অধিগ্রহণে গিয়ে কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে শুভেন্দু সরকার পাকিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান পুরুষদের বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন লেডি আমেরিকান ট্রিও রেফারি টরি-ব্রুক-ক্যাথরিন কুবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে দেড় যুগ আগের শিক্ষার্থী আফগানিস্তানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করল তালেবান

জামায়াতে কেন এত ‘স্লিপ অব টাং’? মুখ খুললেই নতুন বিতর্ক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন সংসদ সদস্যের বক্তব্য ঘিরে ধারাবাহিক বিতর্কের পর বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যে তথ্যগত অসঙ্গতি, বিতর্কিত মন্তব্য এবং পরে তা ‘মুখের ভুল’ বা ‘স্লিপ অব টাং’ হিসেবে ব্যাখ্যা করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন দলটির একাধিক সংসদ সদস্য।

সাম্প্রতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। গত ১৪ জুন সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তার বাবা ও দাদা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তবে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে তিনি বক্তব্যটি সংশোধন করে জানান, এটি ছিল ‘মুখের ভুল’ এবং তিনি আসলে তার বাবার চাচার কথা বলতে চেয়েছিলেন।

এদিকে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার-এর একটি উপমাও সংসদে বিতর্কের জন্ম দেয়। তার বক্তব্যের একটি অংশ স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং সংসদ সদস্যদের ভাষা ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান সংসদ সদস্যদের আবাসিক সুবিধা নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরও আলোচনায় আসেন। তার বক্তব্যের জবাবে আন্দালিব রহমান পার্থ ব্যক্তিগতভাবে সহায়তার প্রস্তাব দিলে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা জাতীয় বাজেট নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে বাজেটের আকার ‘৬০০ কোটি টাকা’ করার কথা বলেছিলেন বলে সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে তিনি দাবি করেন, বক্তব্যটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং তিনি ‘ছয় লাখ কোটি টাকা’ বোঝাতে চেয়েছিলেন।

এছাড়া দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের আরও কিছু বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এসব ঘটনার পর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বীকার করেছেন যে, দলীয় নেতৃত্ব বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বলেন, “মানুষ মাত্রই ভুল করে। তবে যারা নিজেদের ভুল সংশোধন করে, মানুষ তাদের ইতিবাচকভাবেই দেখে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন বিষয়ে আরও দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণমূলক উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে দেওয়া বক্তব্যের যথার্থতা ও তথ্যগত নির্ভুলতা নিশ্চিত করা জনপ্রতিনিধিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব বক্তব্য শুধু সংসদীয় কার্যক্রমেই নয়, জনমত গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অপতথ্য প্রচার নিয়ে বিবৃতি দিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

জামায়াতে কেন এত ‘স্লিপ অব টাং’? মুখ খুললেই নতুন বিতর্ক

আপডেট সময় ০৪:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন সংসদ সদস্যের বক্তব্য ঘিরে ধারাবাহিক বিতর্কের পর বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যে তথ্যগত অসঙ্গতি, বিতর্কিত মন্তব্য এবং পরে তা ‘মুখের ভুল’ বা ‘স্লিপ অব টাং’ হিসেবে ব্যাখ্যা করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন দলটির একাধিক সংসদ সদস্য।

সাম্প্রতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। গত ১৪ জুন সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তার বাবা ও দাদা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তবে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে তিনি বক্তব্যটি সংশোধন করে জানান, এটি ছিল ‘মুখের ভুল’ এবং তিনি আসলে তার বাবার চাচার কথা বলতে চেয়েছিলেন।

এদিকে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার-এর একটি উপমাও সংসদে বিতর্কের জন্ম দেয়। তার বক্তব্যের একটি অংশ স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং সংসদ সদস্যদের ভাষা ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান সংসদ সদস্যদের আবাসিক সুবিধা নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরও আলোচনায় আসেন। তার বক্তব্যের জবাবে আন্দালিব রহমান পার্থ ব্যক্তিগতভাবে সহায়তার প্রস্তাব দিলে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা জাতীয় বাজেট নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে বাজেটের আকার ‘৬০০ কোটি টাকা’ করার কথা বলেছিলেন বলে সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে তিনি দাবি করেন, বক্তব্যটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং তিনি ‘ছয় লাখ কোটি টাকা’ বোঝাতে চেয়েছিলেন।

এছাড়া দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের আরও কিছু বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এসব ঘটনার পর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বীকার করেছেন যে, দলীয় নেতৃত্ব বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বলেন, “মানুষ মাত্রই ভুল করে। তবে যারা নিজেদের ভুল সংশোধন করে, মানুষ তাদের ইতিবাচকভাবেই দেখে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন বিষয়ে আরও দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণমূলক উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে দেওয়া বক্তব্যের যথার্থতা ও তথ্যগত নির্ভুলতা নিশ্চিত করা জনপ্রতিনিধিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব বক্তব্য শুধু সংসদীয় কার্যক্রমেই নয়, জনমত গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।