ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভেঙে গেল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা, মমতা এখন কী করবেন দুবাই থেকে গ্রেপ্তার মূল আসামি আরিফ বরিশালে নারী শিক্ষার্থীকে হত্যা, মূল আসামি মাইনুল গ্রেপ্তার বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম, বাঁচল না কেউ মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দিপালীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে জামায়াত আমিরের সঙ্গে জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের বৈঠক মায়ের কাছে স্মার্ট ফোনের আবদার, টাকা না পেয়ে যুবকের আত্মহত্যা বিদ্যালয়ে সিনিয়রকে ‘তুই’ সম্বোধন করায় মাথা ফাটলো দুই শিক্ষার্থীর হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর বিষয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রৌমারীতে খাদ্যগুদামের পচা চালভর্তি দুটি ট্রাক আটক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৫৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৫৯ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা খাদ্যগুদামের পচা চালভর্তি দুটি কাঁকড়া গাড়ি (মিনি ট্রাক্টর) আটক করেছেন স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে বের হওয়ার সময় পচা চালভর্তি কাঁকড়া গাড়ি দুটি আটক করা হয়। জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের জন্য এই চাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনার জন্য উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, এলএসডি) মুন্সী শহিদুল্লাহকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীসহ সাধারণ জনতা।

 

রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক পচা চালভর্তি দুটি কাঁকড়া গাড়ি জনতার হাতে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘খাবার অযোগ্য চাল ডেলিভারি দেওয়ার সময় জনতার হাতে আটক হয়। এই পচা চাল যাঁরা খাবেন, তাঁদের ডায়রিয়াসহ নানা অসুখ হতে পারে।’ খাদ্যগুদাম সিলগালা করার দাবি জানিয়ে এই জনপ্রতিনিধি আরও বলেন, ‘ভিতরে কী পরিমাণ পচা চাল আছে, তা বের করার জন্য খাদ্যগুদামটি সিলগালা করা দরকার।’

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে রৌমারীর সহজ সরল মানুষকে বোকা বানিয়ে কী পরিমাণ ওএমএস’র চাল, ডিলারি চাল, ভিজিএফ, ভিডাব্লিউডি’র চাল বিতরণ করে যাচ্ছে গুদাম কর্মকর্তা।” জেলা প্রশাসকের কাছে তিনি এর সুষ্ঠু বিচার চান।

 

রৌমারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক রাজু আহমেদ বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল্লাহসহ এই পচা চাল কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা উচিত।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘দুইদিন আগেই দেখানো হলো গুদামে কোনো পচা চাল নাই। তাহলে আজকে কীভাবে সেই গুদাম থেকেই পচা চালভর্তি দুটি ট্রাক বের হয়?’

 

উপজেলার খাদ্যনিয়ন্ত্রণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় রৌমারী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ৪৪ জন ডিলারের মাধ্যমে ২০ হাজার ২০২ জন কার্ডধারীর বিপরীতে ৬ শত ৬ মে. টন চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার কথা। চলতি মাসের বরাদ্দকৃত চাল রৌমারী খাদ্যগুদাম থেকে ডিলাররা উত্তোলন করে কেন্দ্রে নিয়ে নিয়ে যান বিতরণের জন্য।

 

বিতরণের সময় কার্ডধারীরা অভিযোগ তোলেন, বিতরণকৃত চালগুলো পচা, নিম্নমানের ও খাওয়ার অনুপযোগী। পরে মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জল কুমার হালদার খাদ্যগুদামসহ শৌলমারী ইউনিয়নের ৩টি ডিলার পয়েন্টে অভিযান চালান। এ সময় নিম্নমানের ও খাওয়ার অনুপযোগী চাল ও ওজনে কম দেখতে পান।

 

পরে পচা চালের আলামত সংগ্রহের পর রৌমারী বাজারের ময়নাল হক নামের এক ব্যবসায়ীর ২টি গুদাম সিলগালা করেন। পরে রহস্যজনক কারণে সকালে সিলগালা খুলে দেওয়া হয়।

 

উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুন্সী শহিদুল্লাহ গুদাম থেকে এসব পচা চাল বিতরণের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘একটা ঘটনা ঘটে গেছে, এর সমাধানও আছে।’

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জল কুমার হালদার বলেন, ‘আমি একাধিকবার তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে পাশ কাটিয়ে যান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেঙে গেল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা, মমতা এখন কী করবেন

রৌমারীতে খাদ্যগুদামের পচা চালভর্তি দুটি ট্রাক আটক

আপডেট সময় ০৮:৫৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা খাদ্যগুদামের পচা চালভর্তি দুটি কাঁকড়া গাড়ি (মিনি ট্রাক্টর) আটক করেছেন স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে বের হওয়ার সময় পচা চালভর্তি কাঁকড়া গাড়ি দুটি আটক করা হয়। জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের জন্য এই চাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনার জন্য উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, এলএসডি) মুন্সী শহিদুল্লাহকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীসহ সাধারণ জনতা।

 

রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক পচা চালভর্তি দুটি কাঁকড়া গাড়ি জনতার হাতে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘খাবার অযোগ্য চাল ডেলিভারি দেওয়ার সময় জনতার হাতে আটক হয়। এই পচা চাল যাঁরা খাবেন, তাঁদের ডায়রিয়াসহ নানা অসুখ হতে পারে।’ খাদ্যগুদাম সিলগালা করার দাবি জানিয়ে এই জনপ্রতিনিধি আরও বলেন, ‘ভিতরে কী পরিমাণ পচা চাল আছে, তা বের করার জন্য খাদ্যগুদামটি সিলগালা করা দরকার।’

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে রৌমারীর সহজ সরল মানুষকে বোকা বানিয়ে কী পরিমাণ ওএমএস’র চাল, ডিলারি চাল, ভিজিএফ, ভিডাব্লিউডি’র চাল বিতরণ করে যাচ্ছে গুদাম কর্মকর্তা।” জেলা প্রশাসকের কাছে তিনি এর সুষ্ঠু বিচার চান।

 

রৌমারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক রাজু আহমেদ বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল্লাহসহ এই পচা চাল কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা উচিত।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘দুইদিন আগেই দেখানো হলো গুদামে কোনো পচা চাল নাই। তাহলে আজকে কীভাবে সেই গুদাম থেকেই পচা চালভর্তি দুটি ট্রাক বের হয়?’

 

উপজেলার খাদ্যনিয়ন্ত্রণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় রৌমারী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ৪৪ জন ডিলারের মাধ্যমে ২০ হাজার ২০২ জন কার্ডধারীর বিপরীতে ৬ শত ৬ মে. টন চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার কথা। চলতি মাসের বরাদ্দকৃত চাল রৌমারী খাদ্যগুদাম থেকে ডিলাররা উত্তোলন করে কেন্দ্রে নিয়ে নিয়ে যান বিতরণের জন্য।

 

বিতরণের সময় কার্ডধারীরা অভিযোগ তোলেন, বিতরণকৃত চালগুলো পচা, নিম্নমানের ও খাওয়ার অনুপযোগী। পরে মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জল কুমার হালদার খাদ্যগুদামসহ শৌলমারী ইউনিয়নের ৩টি ডিলার পয়েন্টে অভিযান চালান। এ সময় নিম্নমানের ও খাওয়ার অনুপযোগী চাল ও ওজনে কম দেখতে পান।

 

পরে পচা চালের আলামত সংগ্রহের পর রৌমারী বাজারের ময়নাল হক নামের এক ব্যবসায়ীর ২টি গুদাম সিলগালা করেন। পরে রহস্যজনক কারণে সকালে সিলগালা খুলে দেওয়া হয়।

 

উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুন্সী শহিদুল্লাহ গুদাম থেকে এসব পচা চাল বিতরণের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘একটা ঘটনা ঘটে গেছে, এর সমাধানও আছে।’

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জল কুমার হালদার বলেন, ‘আমি একাধিকবার তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে পাশ কাটিয়ে যান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’