বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে আর্জেন্টিনা—এ কথা নতুন নয়। ফুটবলপ্রেমীদের এক বড় অংশের আবেগ, উচ্ছ্বাস আর সমর্থনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে আলবিসেলেস্তরা। এই ভালোবাসার সূচনা মূলত ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে, ডিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুকরী পারফরম্যান্সকে ঘিরে।
এরপর ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে আরও স্পষ্টভাবে ছড়িয়ে পড়ে সেই আবেগ। সেবার তুলনামূলক দুর্বল দল নিয়েও ম্যারাডোনা দলকে নিয়ে যান ফাইনালে। তবে বিতর্কিত এক পেনাল্টি সিদ্ধান্তের পর পশ্চিম জার্মানির আন্দ্রেস ব্রেহমে শেষ মুহূর্তে গোল করলে শিরোপা হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার। ভেঙে যায় ম্যারাডোনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।
প্রায় ৩৬ বছর পর একই সুযোগ এসেছে তার উত্তরসূরি লিওনেল মেসির সামনে। ইতিহাস গড়ার হাতছানি—টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা। চলতি আসরটি মেসির জন্য প্রায় শেষ বিশ্বকাপ বলেই ধারণা করা হচ্ছে, কারণ টুর্নামেন্ট চলাকালে তার বয়স ৩৯ বছর পূর্ণ হবে।
আর্জেন্টিনার পাশাপাশি বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অবধারিতভাবে আসে আরেক কিংবদন্তি নাম—ব্রাজিলের পেলে। ১৯৬২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৭০ সালে তৃতীয়বার শিরোপা জিতে নিজের দেশকে জুলে রিমে ট্রফি স্থায়ীভাবে এনে দেন তিনি।
ফুটবল ইতিহাসে মাত্র দুইবারই টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের নজির রয়েছে। একটি ইতালির, ১৯৩০-এর দশকে; অন্যটি পেলের ব্রাজিলের। সেই সময় ইতালির কোচ ভিত্তোরিও পোজো ছিলেন ইতিহাসের একমাত্র কোচ, যিনি টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন।
সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে প্রশ্ন একটাই—মেসির আর্জেন্টিনা কি পারবে ইতিহাসের এই বিরল কৃতিত্বে নিজেদের নাম লিখতে?

ডেস্ক রিপোর্ট 























