সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে এবার উত্তাল সাতক্ষীরার শ্যামনগর। বিক্ষোভ, মানববন্ধন আর প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন স্থানীয়রা।
ভিডিও বিতর্ক ও ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর। বুধবার দুপুরে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’ ব্যানারে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
শ্যামনগর বাজার থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশে পরিণত হয়। কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পরে গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয় এবং তাকে শ্যামনগরে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল গাজী নজরুল ইসলামের ছবি ও প্রতীকী ঝাড়ু। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আন্দোলনকারীদের দাবি, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম আমজাদ, নাগরিক নেতা অধ্যাপক আবু সাইদ এবং জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আশেক ই এলাহি মুন্নাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।
বক্তারা বলেন, এসব ঘটনার কারণে শ্যামনগরের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের কাছে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারের কাছে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও নিয়ে আলোচনা শুরু হলে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বুধবারের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সমাবেশে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বা তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বক্তব্য দেননি।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















