ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় রান্নার পর সবুজ হয়ে গেল গরুর মাংস, জনমনে প্রশ্ন 

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

এবার খুলনার পাইকগাছায় রান্না করার সময় গরুর মাংসের রং লাল থেকে সবুজ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে পৌরসভার মডার্ণ বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য কেনা গরুর মাংস রান্না করতে গিয়ে এ ঘটনা দেখতে পান। পরে তারা রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও থানায় যান।

জানা গেছে, মডার্ণ বেকারির ২৫ জন কর্মচারী বুধবার পিকনিকের আয়োজন করেন। এ জন্য তারা সকালে পাইকগাছা বাজারের মাংস ব্যবসায়ী ইসমাইলের দোকানে মাংস কিনতে যান। ব্যবসায়ী ইসমাইল জানান, সেদিন জবাই করা গরুর সব মাংস ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তবে তার দোকানের ফ্রিজে ভালো মাংস সংরক্ষিত রয়েছে। প্রয়োজন হলে সেখান থেকে মাংস দেওয়া যাবে। পরে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বেকারির কর্মচারী টিটন হোসেন ওই দোকান থেকে চার কেজি মাংস কিনে নিয়ে যান। এরপর পিকনিকের জন্য বাজার-সদায় করে যথারীতি কড়াইতে মাংস রান্না শুরু করেন তারা।

তবে রান্নার প্রায় অর্ধেক শেষ হওয়ার পর কর্মচারীরা দেখতে পান, মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং পরিবর্তন হয়ে সবুজ রং ধারণ করেছে। বিষয়টি দেখে তারা মাংসসহ কড়াইটি নিয়ে প্রথমে মাংস বিক্রেতা ইসমাইলের দোকানে যান। পরে বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়ে কড়াইসহ রান্না করা মাংস নিয়ে থানায় হাজির হন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মাংস রান্নার সময় কী কারণে এর রং সবুজ হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো কারণ জানা যায়নি। স্থানীয়দের কেউ কেউ মাংসে কোনো ধরনের রাসায়নিক বা অন্য কোনো উপাদান ব্যবহারের আশঙ্কা করছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো পরীক্ষাগারভিত্তিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মাংস বিক্রেতা ইসমাইল বলেন, আমি ভালো মাংসই বিক্রি করেছি। মাংসে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। তারা হয়ত রান্নার সময় অন্য কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করেছেন। আমার দোকান থেকে আরও অনেকেই মাংস কিনে নিয়ে গেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ এমন অভিযোগ করেননি। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাংসের নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মাংসের রং পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় রান্নার পর সবুজ হয়ে গেল গরুর মাংস, জনমনে প্রশ্ন 

আপডেট সময় ০৬:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

এবার খুলনার পাইকগাছায় রান্না করার সময় গরুর মাংসের রং লাল থেকে সবুজ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে পৌরসভার মডার্ণ বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য কেনা গরুর মাংস রান্না করতে গিয়ে এ ঘটনা দেখতে পান। পরে তারা রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও থানায় যান।

জানা গেছে, মডার্ণ বেকারির ২৫ জন কর্মচারী বুধবার পিকনিকের আয়োজন করেন। এ জন্য তারা সকালে পাইকগাছা বাজারের মাংস ব্যবসায়ী ইসমাইলের দোকানে মাংস কিনতে যান। ব্যবসায়ী ইসমাইল জানান, সেদিন জবাই করা গরুর সব মাংস ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তবে তার দোকানের ফ্রিজে ভালো মাংস সংরক্ষিত রয়েছে। প্রয়োজন হলে সেখান থেকে মাংস দেওয়া যাবে। পরে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বেকারির কর্মচারী টিটন হোসেন ওই দোকান থেকে চার কেজি মাংস কিনে নিয়ে যান। এরপর পিকনিকের জন্য বাজার-সদায় করে যথারীতি কড়াইতে মাংস রান্না শুরু করেন তারা।

তবে রান্নার প্রায় অর্ধেক শেষ হওয়ার পর কর্মচারীরা দেখতে পান, মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং পরিবর্তন হয়ে সবুজ রং ধারণ করেছে। বিষয়টি দেখে তারা মাংসসহ কড়াইটি নিয়ে প্রথমে মাংস বিক্রেতা ইসমাইলের দোকানে যান। পরে বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়ে কড়াইসহ রান্না করা মাংস নিয়ে থানায় হাজির হন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মাংস রান্নার সময় কী কারণে এর রং সবুজ হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো কারণ জানা যায়নি। স্থানীয়দের কেউ কেউ মাংসে কোনো ধরনের রাসায়নিক বা অন্য কোনো উপাদান ব্যবহারের আশঙ্কা করছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো পরীক্ষাগারভিত্তিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মাংস বিক্রেতা ইসমাইল বলেন, আমি ভালো মাংসই বিক্রি করেছি। মাংসে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। তারা হয়ত রান্নার সময় অন্য কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করেছেন। আমার দোকান থেকে আরও অনেকেই মাংস কিনে নিয়ে গেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ এমন অভিযোগ করেননি। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাংসের নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মাংসের রং পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।