স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল এবার আলোচনায় ফুটবল মাঠের কারণে নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে উৎক্ষেপণের আগে একটি ইরানি ‘শাহেদ’ ড্রোনে দেখা গেছে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে থাকা ইয়ামালের একটি ছবি। আর সেই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি-এর একটি দূরপাল্লার শাহেদ ড্রোন উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত। উৎক্ষেপণের ঠিক আগে ড্রোনটির সামনের অংশে লাগানো হয় লামিন ইয়ামালের একটি ছবি।
ছবিটিতে ইয়ামালকে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইয়ামালের প্রকাশ্য সমর্থনের প্রতীক হিসেবেই এই ছবি ব্যবহার করেছে ইরান।
এর আগেও ফিলিস্তিনের পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন ইয়ামাল। গত মে মাসে বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা উদযাপনের সময় খোলা বাসে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াতে দেখা যায় তাকে। সেই ছবি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। যদিও এ ঘটনায় সমালোচনা করেছিলেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, তবে ইয়ামালের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই স্পেন ও ইসরায়েলের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে স্পেন ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরের মধ্যেই ইয়ামালের ছবি সংবলিত এই ড্রোনের ভিডিও প্রকাশ করল ইরান। ফলে ফুটবল, ফিলিস্তিন ইস্যু এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি—তিনটি বিষয়ই যেন এক জায়গায় এসে মিলেছে।
একজন ফুটবল তারকার ছবি যখন যুদ্ধের ড্রোনে জায়গা পায়, তখন সেটি আর শুধু খেলাধুলার গল্প থাকে না। বরং তা হয়ে ওঠে প্রতীক, বার্তা এবং চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ডেস্ক রিপোর্ট 




















