ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গোপালগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ২৫ জুলাই মাসের জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ কেপ ভার্দের কাছে হেরে আর্জেন্টিনার বিদায়: ওঝার ভবিষ্যদ্বাণী অনলাইন জুয়া-বেটিংয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৫ কোটি টাকা জরিমানা মা-বাবার মানসিক কষ্ট ‘সইতে না পেরে’ হিন্দু ধর্মে ফিরলেন সেই আয়ুষ মালিক সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি, অনুমতির তথ্য নেই: স্মার্ট টেকনোলজিসের এমডি জহিরুল ইসলামকে ঘিরে অভিযোগ বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ নিয়ে প্রশ্ন প্রযুক্তি ব্যবসার আড়ালে স্মার্ট টেকনোলজির অর্থপাচারের অভিযোগ ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দুই জেলার অংশ এআইতে আর্জেন্টিনার জার্সি বদলে ব্রাজিল, শেষমেশ শোকজ এসআই মহাকাশ থেকে হামলার সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনায় ইসরায়েল: কাটজ

পিলখানা হত্যা মামলা: প্রথমবার আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০০ বার পড়া হয়েছে

এবার পিলখানা হত্যা মামলা যেন সব পক্ষের জন্যই এক সীমাহীন হাহাকারে পরিণত হয়েছে। একদিকে চলছে বিচারকাজ, অন্যদিকে আবার কমিশন গঠনের আলোচনা। এতে হতাশ নিহতদের পরিবারগুলোও। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, বিস্ফোরক আইনের মামলায় প্রথমবারের মতো আসামি করা হচ্ছে শেখ হাসিনা, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফজলে নূর তাপসসহ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত হয়েছিল পিলখানা। কস্মিনকালেও কেউ ভাবেনি, নিজ দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থানে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে জীবন দিতে হবে।

এদিকে বিচারিক আদালত ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এ মামলার রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। হাইকোর্ট ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। খালাস পান ২৮৩ জন। মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি এখনও বিচারিক আদালতে নিষ্পত্তি হয়নি। এ মামলায় ১২০০ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, সম্পূরক চার্জশিটে বিস্ফোরক মামলায় আসামি করা হচ্ছে শেখ হাসিনা, শেখ তাপস, নানকসহ তৎকালীন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাকে।

বিডিআর বিস্ফোরক মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, একাধিক সংসদ সদস্য, একাধিক মন্ত্রী এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ আরও কয়েকজনের নাম এসেছে। আইনে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মামলা পরিচালনা করতে করতে তারা ক্লান্ত। হতাশ পরিবারগুলোও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষুব্ধ।

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী পারভেজ হোসাইন বলেন, যারা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন, তাদের সবাই বিস্ফোরক মামলাতেও একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। হত্যা মামলায় একটি রায় হয়েছে, যা হাইকোর্টে এসেছে। হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছেন কিছু অংশ বহাল রেখেছেন, কিছু অংশ পরিবর্তন করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন। কিন্তু বিস্ফোরক মামলায় একই আসামিরা একত্রে থাকার কারণে হত্যা মামলায় যারা খালাস পেয়েছেন, তারাও জামিন পাননি। সব মিলিয়ে মামলাগুলো কবে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মুখ দেখবে, তা সময়ই বলে দেবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ২৫

পিলখানা হত্যা মামলা: প্রথমবার আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা

আপডেট সময় ১০:২৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার পিলখানা হত্যা মামলা যেন সব পক্ষের জন্যই এক সীমাহীন হাহাকারে পরিণত হয়েছে। একদিকে চলছে বিচারকাজ, অন্যদিকে আবার কমিশন গঠনের আলোচনা। এতে হতাশ নিহতদের পরিবারগুলোও। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, বিস্ফোরক আইনের মামলায় প্রথমবারের মতো আসামি করা হচ্ছে শেখ হাসিনা, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফজলে নূর তাপসসহ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত হয়েছিল পিলখানা। কস্মিনকালেও কেউ ভাবেনি, নিজ দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থানে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে জীবন দিতে হবে।

এদিকে বিচারিক আদালত ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এ মামলার রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। হাইকোর্ট ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। খালাস পান ২৮৩ জন। মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি এখনও বিচারিক আদালতে নিষ্পত্তি হয়নি। এ মামলায় ১২০০ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, সম্পূরক চার্জশিটে বিস্ফোরক মামলায় আসামি করা হচ্ছে শেখ হাসিনা, শেখ তাপস, নানকসহ তৎকালীন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাকে।

বিডিআর বিস্ফোরক মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, একাধিক সংসদ সদস্য, একাধিক মন্ত্রী এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ আরও কয়েকজনের নাম এসেছে। আইনে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মামলা পরিচালনা করতে করতে তারা ক্লান্ত। হতাশ পরিবারগুলোও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষুব্ধ।

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী পারভেজ হোসাইন বলেন, যারা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন, তাদের সবাই বিস্ফোরক মামলাতেও একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। হত্যা মামলায় একটি রায় হয়েছে, যা হাইকোর্টে এসেছে। হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছেন কিছু অংশ বহাল রেখেছেন, কিছু অংশ পরিবর্তন করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন। কিন্তু বিস্ফোরক মামলায় একই আসামিরা একত্রে থাকার কারণে হত্যা মামলায় যারা খালাস পেয়েছেন, তারাও জামিন পাননি। সব মিলিয়ে মামলাগুলো কবে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মুখ দেখবে, তা সময়ই বলে দেবে।