সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানায় করা মামলায় গ্রেফতার রাকিবুল হাসানকে একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী জোনাল টিমের উপপরিদর্শক মো. রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার এবং এক নম্বর আসামি এমপি নজরুল ও বাদী ওবায়দুরের ভাগনির ভাইরাল হওয়া ভিডিও উদ্ধারের জন্য রাকিবুল হাসানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুনানিকালে আসামিপক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদী ওবায়দুর রহমান রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার রোজ গার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে এ সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগনির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপনে ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালান।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন সকাল ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান কৌশলে তাকে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে আমিনুর রহমান তাকে মেঝেতে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে আহত অবস্থায় ওবায়দুর স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















