ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শ্রীমঙ্গলে তারেক রহমানের অনুষ্ঠানস্থলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, যুবক আটক  ইরাকের জার্সিতে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ইতিহাস লিখতে যাচ্ছেন যে ফুটবলার আরও ১৫০০ কোটি তারল্য সহায়তা পেল ইসলামী ব্যাংক সাকিবের পর দীঘিও কি ‘পল্টি’ দিলেন? কালুখালীতপ জামায়াত কর্মী হত্যার পর মরদেহ আগুনের ঘটনায় গ্রপ্তার ৩ ২ ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকা ছাড়ার নির্দেশ ইরানকে প্রতিমন্ত্রী দিলেন ডিও লেটার, নাম প্রস্তাব বিএনপি নেতার, সংসদে ‘মিরাকল’ নির্বাচনী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মমতা ব্যানার্জী স্পেনের এক ড্রয়ে উড়ে গেল ১২ কোটি টাকার বাজি মাঠে নামার আগেই আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া সমর্থকদের মারামারি

পাবনায় হচ্ছে নতুন ‘মেগা সংযোগ’, বদলে যেতে পারে দেশের যোগাযোগ মানচিত্র

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ১২৭ বার পড়া হয়েছে

এবার দেশের উত্তর, দক্ষিণপশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে পাবনাকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত দুটি বড় অবকাঠামো প্রস্তাব—‘ওয়াইপ্যাটার্ন সেতুএবংদ্বিতীয় পদ্মা ব্যারেজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। পাবনা (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস গত ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে এই দুটি প্রকল্পের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরে বিষয়টি আলোচনায় আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসনে এই উদ্যোগকে সম্ভাবনাময় একটি জাতীয় প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কী এইওয়াইপ্যাটার্ন সেতু’- প্রস্তাবিতওয়াইপ্যাটার্ন সেতুমূলত এমন একটি বহুমুখী সংযোগ কাঠামোযা পাবনা, রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জ অঞ্চলের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলার ধারণা থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পদ্মা নদীঘেঁষা বিভিন্ন ফেরিঘাটের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের উত্তর ও দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে আরিচাদৌলতদিয়া, কাজিরহাটসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ফেরির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে। বিশেষ করে ঈদ, উৎসব কিংবা কৃষি মৌসুমে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এতে একদিকে সময় নষ্ট হয়, অন্যদিকে পরিবহন ব্যয় বাড়ে এবং ব্যবসাবাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আধুনিক ও বিকল্প সড়ক সংযোগ এখন জাতীয় প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। সেই বিবেচনায়ওয়াইপ্যাটার্ন সেতুকে একটি কৌশলগত যোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপনের পরপরই বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এগোতে শুরু করে। ১৩ মে সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও চিঠি দেন। সেখানে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে এর প্রভাব তুলে ধরা হয়। পরদিন ১৪ মে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সচিবের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সরকারি নথিপত্রে দেখা গেছে, এর পর থেকেই প্রকল্পটি মন্ত্রণালয় পর্যায়ে পর্যালোচনার আওতায় আসে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, সম্ভাব্য রুট, ব্যয় এবং অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হয়নি, তবে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘‘পাবনাসহ উত্তর ও দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ নিরসনের লক্ষ্যেই ওয়াইপ্যাটার্ন সেতু ও দ্বিতীয় পদ্মা ব্যারেজের প্রস্তাব আমি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছি। বর্তমানে ফেরিনির্ভর যোগাযোগের কারণে মানুষকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, ব্যবসাবাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। এই বাস্তবতা থেকে উত্তরণের জন্য একটি আধুনিক ও টেকসই যোগাযোগ অবকাঠামো এখন সময়ের দাবি।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রস্তাবিত সেতুটি বাস্তবায়িত হলে শুধু পাবনা নয়, উত্তরপশ্চিম ও দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। কৃষি, শিল্প, ব্যবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টি জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।’’ প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও যাচাইবাছাই শেষে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দিকে এগোবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীমঙ্গলে তারেক রহমানের অনুষ্ঠানস্থলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, যুবক আটক 

পাবনায় হচ্ছে নতুন ‘মেগা সংযোগ’, বদলে যেতে পারে দেশের যোগাযোগ মানচিত্র

আপডেট সময় ০৪:০২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

এবার দেশের উত্তর, দক্ষিণপশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে পাবনাকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত দুটি বড় অবকাঠামো প্রস্তাব—‘ওয়াইপ্যাটার্ন সেতুএবংদ্বিতীয় পদ্মা ব্যারেজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। পাবনা (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস গত ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে এই দুটি প্রকল্পের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরে বিষয়টি আলোচনায় আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসনে এই উদ্যোগকে সম্ভাবনাময় একটি জাতীয় প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কী এইওয়াইপ্যাটার্ন সেতু’- প্রস্তাবিতওয়াইপ্যাটার্ন সেতুমূলত এমন একটি বহুমুখী সংযোগ কাঠামোযা পাবনা, রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জ অঞ্চলের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলার ধারণা থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পদ্মা নদীঘেঁষা বিভিন্ন ফেরিঘাটের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের উত্তর ও দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে আরিচাদৌলতদিয়া, কাজিরহাটসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ফেরির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে। বিশেষ করে ঈদ, উৎসব কিংবা কৃষি মৌসুমে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এতে একদিকে সময় নষ্ট হয়, অন্যদিকে পরিবহন ব্যয় বাড়ে এবং ব্যবসাবাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আধুনিক ও বিকল্প সড়ক সংযোগ এখন জাতীয় প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। সেই বিবেচনায়ওয়াইপ্যাটার্ন সেতুকে একটি কৌশলগত যোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপনের পরপরই বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এগোতে শুরু করে। ১৩ মে সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও চিঠি দেন। সেখানে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে এর প্রভাব তুলে ধরা হয়। পরদিন ১৪ মে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সচিবের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সরকারি নথিপত্রে দেখা গেছে, এর পর থেকেই প্রকল্পটি মন্ত্রণালয় পর্যায়ে পর্যালোচনার আওতায় আসে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, সম্ভাব্য রুট, ব্যয় এবং অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হয়নি, তবে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘‘পাবনাসহ উত্তর ও দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ নিরসনের লক্ষ্যেই ওয়াইপ্যাটার্ন সেতু ও দ্বিতীয় পদ্মা ব্যারেজের প্রস্তাব আমি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছি। বর্তমানে ফেরিনির্ভর যোগাযোগের কারণে মানুষকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, ব্যবসাবাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। এই বাস্তবতা থেকে উত্তরণের জন্য একটি আধুনিক ও টেকসই যোগাযোগ অবকাঠামো এখন সময়ের দাবি।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রস্তাবিত সেতুটি বাস্তবায়িত হলে শুধু পাবনা নয়, উত্তরপশ্চিম ও দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। কৃষি, শিল্প, ব্যবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টি জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।’’ প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও যাচাইবাছাই শেষে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দিকে এগোবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।