ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“নোংরামির চাপে ভেঙে পড়ছি”— জকসু নির্বাচনে সমালোচনার মুখে খাদিজাতুল কুবরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:০৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮১৩ বার পড়া হয়েছে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকা শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ফেসবুকে দেয়া তার একটি স্ট্যাটাস ঘিরে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

স্ট্যাটাসে খাদিজা লেখেন, রাজনীতিতে আসার পর থেকেই তাকে উদ্দেশ্য করে নানা অপবাদ, গুজব ও কটূক্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন,
“যতদিন রাজনীতিতে আসিনি, ততদিন ভালোই ছিলাম। এক মাসেই এত দোষ আমার ঘাড়ে— আমি কি তবে খারাপ হয়ে গেলাম?”

অনলাইন হয়রানি, ফেক আইডি, স্লাট শেমিং, বট অ্যাকাউন্টের হামলা—সবকিছুই সহ্য করলেও সাংবাদিকদের আচরণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
খাদিজার ভাষায়,
“কোনো কোনো সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করেন, যা সহ্য করা দায়। একজন কল দিলে পাশ থেকে আরেকজন শিখিয়ে দেয়—এটা মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে।”
তিনি সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানান।

স্ট্যাটাসে আরও লেখেন,
“১৫ মাস কারাগারে থেকেও এত মানসিক বিপর্যয়ে পড়িনি, যতটা গত কয়েক দিনে পড়েছি। আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে নিয়ে নোংরামি বন্ধ করুন। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কি কেউ নেই?”

এদিকে, জবি ফিন্যান্স বিভাগের ২০২০–২১ সেশনের শিক্ষার্থী নূর নবী দীর্ঘদিন ধরে অস্থি ক্যান্সারে (অস্টিওসারকোমা) ভুগছেন। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। তাকে সহায়তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকদিন আগে একটি চ্যারিটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়।

সেই কনসার্টেই খাদিজাতুল কুবরা মঞ্চে উঠে ঘোষণা দেন,
“আলহামদুলিল্লাহ, নূর নবীর জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ৫০ হাজার টাকা ফান্ড রেইজ করেছি।”

এ ঘোষণার পর সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। কারণ, কনসার্টের অনুমতিপত্রে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট শর্ত দিয়েছিল—
স্বতন্ত্র বা প্যানেলের কোনো প্রার্থী কনসার্টের মঞ্চে উঠতে পারবেন না।

এই শর্ত ভঙ্গের অভিযোগেই তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, আর এরপর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আক্রমণের মুখে পড়েন খাদিজাতুল কুবরা।


 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

“নোংরামির চাপে ভেঙে পড়ছি”— জকসু নির্বাচনে সমালোচনার মুখে খাদিজাতুল কুবরা

আপডেট সময় ০৯:০৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকা শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ফেসবুকে দেয়া তার একটি স্ট্যাটাস ঘিরে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

স্ট্যাটাসে খাদিজা লেখেন, রাজনীতিতে আসার পর থেকেই তাকে উদ্দেশ্য করে নানা অপবাদ, গুজব ও কটূক্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন,
“যতদিন রাজনীতিতে আসিনি, ততদিন ভালোই ছিলাম। এক মাসেই এত দোষ আমার ঘাড়ে— আমি কি তবে খারাপ হয়ে গেলাম?”

অনলাইন হয়রানি, ফেক আইডি, স্লাট শেমিং, বট অ্যাকাউন্টের হামলা—সবকিছুই সহ্য করলেও সাংবাদিকদের আচরণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
খাদিজার ভাষায়,
“কোনো কোনো সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করেন, যা সহ্য করা দায়। একজন কল দিলে পাশ থেকে আরেকজন শিখিয়ে দেয়—এটা মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে।”
তিনি সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানান।

স্ট্যাটাসে আরও লেখেন,
“১৫ মাস কারাগারে থেকেও এত মানসিক বিপর্যয়ে পড়িনি, যতটা গত কয়েক দিনে পড়েছি। আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে নিয়ে নোংরামি বন্ধ করুন। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কি কেউ নেই?”

এদিকে, জবি ফিন্যান্স বিভাগের ২০২০–২১ সেশনের শিক্ষার্থী নূর নবী দীর্ঘদিন ধরে অস্থি ক্যান্সারে (অস্টিওসারকোমা) ভুগছেন। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। তাকে সহায়তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকদিন আগে একটি চ্যারিটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়।

সেই কনসার্টেই খাদিজাতুল কুবরা মঞ্চে উঠে ঘোষণা দেন,
“আলহামদুলিল্লাহ, নূর নবীর জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ৫০ হাজার টাকা ফান্ড রেইজ করেছি।”

এ ঘোষণার পর সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। কারণ, কনসার্টের অনুমতিপত্রে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট শর্ত দিয়েছিল—
স্বতন্ত্র বা প্যানেলের কোনো প্রার্থী কনসার্টের মঞ্চে উঠতে পারবেন না।

এই শর্ত ভঙ্গের অভিযোগেই তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, আর এরপর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আক্রমণের মুখে পড়েন খাদিজাতুল কুবরা।