ঢাকা , সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কয়লা নাকি নিমের ডাল, দাঁতের যত্নে কোনটি বেশি উপকারী? দেশের যে ৮ টুথপেস্টে পাওয়া যায়নি মাইক্রোপ্লাস্টিক আগামীকাল এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রস্তুত হবে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে চুপ্পুর গ্রেপ্তার ঠেকানো যাবে না: আখতার হোসেন ইসরাইলের ফাঁদে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করছে ট্রাম্প: মার্কিন কংগ্রেস সদস্য প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে আলোচনা করতে আজ মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র হামলা না করলে পাল্টা হামলা করবে না ইরান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি গোলাবারুদ আমাদের: ট্রাম্প হাসপাতালের বাথরুমে মিলল সরকারি ওষুধ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ক্লিনিক সিলগালা

জব্দ হেরোইনও কখনো ‘আটা-ময়দা’ হয়ে যায়, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৩৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ১০৮ বার পড়া হয়েছে

মাদক শনাক্ত ও পরীক্ষার পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে অনেক সময় জব্দ করা হেরোইনের প্রকৃত পরিচয় নিয়েও জটিলতা তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দ্রুত ও নির্ভুল পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় নানা ধরনের অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি জেলায় আধুনিক মাদক পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে মাদক মামলার সংখ্যা এত বেশি যে জব্দ করা আলামত দ্রুত পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কী জব্দ করা হয়েছে—হেরোইন, অন্য কোনো মাদক নাকি সাধারণ কোনো পদার্থ—তা সময়মতো নিশ্চিত করা যায় না। তার ভাষায়, কখনো কখনো জব্দ করা হেরোইনও শেষ পর্যন্ত ‘আটা-ময়দা’ হয়ে যায়।

তিনি জানান, বর্তমানে শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিপুল সংখ্যক মামলার কারণে বিচার কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে। এ অবস্থায় বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে বিদ্যমান আইনে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নতুন আইনের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ মাদক ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুযোগ রাখা হবে। এতে মামলার জট কমবে এবং বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জানান, সশস্ত্র মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে অধিদপ্তরের সদস্যরা প্রায়ই ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অভিযান আরও কার্যকর করতে নতুন আইনের আওতায় আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া মাদক শনাক্তকরণে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডগ স্কোয়াডের কার্যকারিতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অধিদপ্তরের নিজস্ব ডগ স্কোয়াড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মাদকবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে অপরাধের ধরনও বদলেছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এখনও পুরোনো আইন দিয়ে নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা এবং মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ পাচার রোধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

তিনি জানান, দেশের সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় কিটামিনসহ বিভিন্ন তরল মাদককে পাউডারে রূপান্তরের জন্য অবৈধ ল্যাবরেটরি গড়ে ওঠার তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। এসব অপরাধ দমনে আইন আধুনিকায়নের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার করা হবে।

সরকার মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কয়লা নাকি নিমের ডাল, দাঁতের যত্নে কোনটি বেশি উপকারী?

জব্দ হেরোইনও কখনো ‘আটা-ময়দা’ হয়ে যায়, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:৩৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

মাদক শনাক্ত ও পরীক্ষার পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে অনেক সময় জব্দ করা হেরোইনের প্রকৃত পরিচয় নিয়েও জটিলতা তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দ্রুত ও নির্ভুল পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় নানা ধরনের অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি জেলায় আধুনিক মাদক পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে মাদক মামলার সংখ্যা এত বেশি যে জব্দ করা আলামত দ্রুত পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কী জব্দ করা হয়েছে—হেরোইন, অন্য কোনো মাদক নাকি সাধারণ কোনো পদার্থ—তা সময়মতো নিশ্চিত করা যায় না। তার ভাষায়, কখনো কখনো জব্দ করা হেরোইনও শেষ পর্যন্ত ‘আটা-ময়দা’ হয়ে যায়।

তিনি জানান, বর্তমানে শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিপুল সংখ্যক মামলার কারণে বিচার কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে। এ অবস্থায় বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে বিদ্যমান আইনে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নতুন আইনের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ মাদক ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুযোগ রাখা হবে। এতে মামলার জট কমবে এবং বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জানান, সশস্ত্র মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে অধিদপ্তরের সদস্যরা প্রায়ই ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অভিযান আরও কার্যকর করতে নতুন আইনের আওতায় আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া মাদক শনাক্তকরণে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডগ স্কোয়াডের কার্যকারিতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অধিদপ্তরের নিজস্ব ডগ স্কোয়াড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মাদকবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে অপরাধের ধরনও বদলেছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এখনও পুরোনো আইন দিয়ে নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা এবং মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ পাচার রোধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

তিনি জানান, দেশের সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় কিটামিনসহ বিভিন্ন তরল মাদককে পাউডারে রূপান্তরের জন্য অবৈধ ল্যাবরেটরি গড়ে ওঠার তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। এসব অপরাধ দমনে আইন আধুনিকায়নের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার করা হবে।

সরকার মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।