ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিচার ও সংস্কারে কোনো আপস করবে না এনসিপি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প পথ নেই: মামুনুল হক ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গ্রিন সিগনালে কক্সবাজার-গাজীপুরে ছাত্রলীগের মিছিল’: ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম ইসি সচিবালয়ে ‘দলীয় ব্যক্তিকে’ নিয়োগ দেওয়া নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য হুমকি: জামায়াত এটা কেবলই শুরু, এখনও অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বাকি: ককরোচ পার্টির প্রধান আর্জেন্টিনাকে লেখা ফিফা সভাপতির চিঠি ফাঁস, আবারও সমালোচনার ঝড় এবার নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে পরীক্ষা সংস্কার বিষয়ক টাস্কফোর্স গঠন উখিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী সমাবেশ, রামুতে শোডাউন যুদ্ধের মধ্যেও সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে ইরান, যুক্ত হলো নতুন প্রযুক্তি সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে চাকরি পেলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমিন

উখিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী সমাবেশ, রামুতে শোডাউন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের রামুতে মোটরসাইকেল শোডাউন ও মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

 

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৭টায় এই মিছিল করা হয়েছে বলে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। এর আগে শনিবার উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নে সংগঠনটির কর্মী সমাবেশ করার পর দিন রামুতে এ শোডাউন অনুষ্ঠিত হলো।

 

পৃথক দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

তবে রামুর শোডাউনটি রোববারের ঘটনা কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত পুলিশের।

 

অন্যদিকে উখিয়ায় ছাত্রলীগের কর্মসূচির প্রতিবাদে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল ৮টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামুর রশিদনগর ইউনিয়নের স্বপ্নতরী পার্কসংলগ্ন এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল শোডাউন শুরু হয়। পরে বহরটি মহাসড়ক হয়ে জোয়ারিয়ানালার দিকে যেতে যেতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

 

স্থানীয়দের মতে, শোডাউনের আগের দিন শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মসূচির ঘোষণা দেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির রামু উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক উদ্দিন মিশুক।

 

মিশুক শোডাউনের বিষয়টি স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একত্রিত হয়ে মিছিল করেছি। তখন রামুতে বৃষ্টি ছিল না; সকাল সাড়ে ৯টার পর বৃষ্টি শুরু হয়।

 

তার দাবি, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ছাত্রলীগের আসা বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মিছিলে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন সরওয়ার কাজল এবং সদস্য কাওসার সাকিবও নেতৃত্ব দেন। কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, মোটরসাইকেল শোডাউন ও মিছিলটি রোববারের নয়। সকাল থেকেই রামুতে বৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু প্রচারিত ভিডিওতে আকাশ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। তাই এটি আগের কোনো সময়ের শোডাউনের ভিডিও হতে পারে, যা আজকের বলে প্রচার করা হচ্ছে।

 

বিষয়টি নিয়ে রামু উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বলেন, শোডাউন মিছিলটি আজ (রোববার) সকালের, সেটা নিশ্চিত হয়েছি। নিষিদ্ধ সংগঠনের এ কর্মসূচির প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবেন বলেও জানান তিনি।

 

এর আগে শনিবার দুপুরে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নে ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

সমাবেশের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে পালংখালী স্টেশন এলাকায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলে তারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

 

উখিয়ায় কর্মী সমাবেশের ঘটনায় মামলা

 

শনিবার উখিয়ায় ছাত্রলীগের কর্মী সমাবেশকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কক্সবাজারের উখিয়ার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক করে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে মামলা করেছে থানা পুলিশ। মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১৪ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

রোববার উখিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলাটির বাদি থানার এসআই পলাশ বড়ুয়া।

 

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, শনিবার দুপুরে উখিয়া থানার কুতুপালং বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি গোপন সংবাদে জানতে পারেন- পালংখালী ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের নলবুনিয়া এলাকায় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের বাড়িতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছেন। বৈঠকে সরকার ও রাষ্ট্রের জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।

 

এরপরই উখিয়া থানার একাধিক টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিলন বড়ুয়া (৪২) এবং আবু নাসের মোহাম্মদ ইমরান (২৪) নামে দুজনকে আটক করা হয়। তবে বাকিরা বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যান।

 

এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের স্লোগান ও কর্মকাণ্ড থেকে পুলিশ নিশ্চিত হয়- এরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ও সমর্থক। তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল এবং নাশকতার পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির ষড়যন্ত্র করছিলেন।

 

এজাহার মতে, আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদে বৈঠকে অংশগ্রহণ এবং অন্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ, একাধিক অভিযান পরিচালনা এবং পলাতকদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর মামলাটি দায়ের করা হয়।

 

মামলায় উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার কামাল পাশা, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তারেক হোসেন মানিকসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ১১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০জন রয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

 

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত তরে উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, ঘটনার পর দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিচার ও সংস্কারে কোনো আপস করবে না এনসিপি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

উখিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী সমাবেশ, রামুতে শোডাউন

আপডেট সময় ১০:৫২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের রামুতে মোটরসাইকেল শোডাউন ও মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

 

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৭টায় এই মিছিল করা হয়েছে বলে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। এর আগে শনিবার উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নে সংগঠনটির কর্মী সমাবেশ করার পর দিন রামুতে এ শোডাউন অনুষ্ঠিত হলো।

 

পৃথক দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

তবে রামুর শোডাউনটি রোববারের ঘটনা কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত পুলিশের।

 

অন্যদিকে উখিয়ায় ছাত্রলীগের কর্মসূচির প্রতিবাদে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল ৮টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামুর রশিদনগর ইউনিয়নের স্বপ্নতরী পার্কসংলগ্ন এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল শোডাউন শুরু হয়। পরে বহরটি মহাসড়ক হয়ে জোয়ারিয়ানালার দিকে যেতে যেতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

 

স্থানীয়দের মতে, শোডাউনের আগের দিন শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মসূচির ঘোষণা দেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির রামু উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক উদ্দিন মিশুক।

 

মিশুক শোডাউনের বিষয়টি স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একত্রিত হয়ে মিছিল করেছি। তখন রামুতে বৃষ্টি ছিল না; সকাল সাড়ে ৯টার পর বৃষ্টি শুরু হয়।

 

তার দাবি, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ছাত্রলীগের আসা বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মিছিলে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন সরওয়ার কাজল এবং সদস্য কাওসার সাকিবও নেতৃত্ব দেন। কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, মোটরসাইকেল শোডাউন ও মিছিলটি রোববারের নয়। সকাল থেকেই রামুতে বৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু প্রচারিত ভিডিওতে আকাশ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। তাই এটি আগের কোনো সময়ের শোডাউনের ভিডিও হতে পারে, যা আজকের বলে প্রচার করা হচ্ছে।

 

বিষয়টি নিয়ে রামু উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বলেন, শোডাউন মিছিলটি আজ (রোববার) সকালের, সেটা নিশ্চিত হয়েছি। নিষিদ্ধ সংগঠনের এ কর্মসূচির প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবেন বলেও জানান তিনি।

 

এর আগে শনিবার দুপুরে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নে ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

সমাবেশের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে পালংখালী স্টেশন এলাকায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলে তারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

 

উখিয়ায় কর্মী সমাবেশের ঘটনায় মামলা

 

শনিবার উখিয়ায় ছাত্রলীগের কর্মী সমাবেশকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কক্সবাজারের উখিয়ার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক করে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে মামলা করেছে থানা পুলিশ। মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১৪ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

রোববার উখিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলাটির বাদি থানার এসআই পলাশ বড়ুয়া।

 

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, শনিবার দুপুরে উখিয়া থানার কুতুপালং বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি গোপন সংবাদে জানতে পারেন- পালংখালী ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের নলবুনিয়া এলাকায় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের বাড়িতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছেন। বৈঠকে সরকার ও রাষ্ট্রের জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।

 

এরপরই উখিয়া থানার একাধিক টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিলন বড়ুয়া (৪২) এবং আবু নাসের মোহাম্মদ ইমরান (২৪) নামে দুজনকে আটক করা হয়। তবে বাকিরা বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যান।

 

এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের স্লোগান ও কর্মকাণ্ড থেকে পুলিশ নিশ্চিত হয়- এরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ও সমর্থক। তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল এবং নাশকতার পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির ষড়যন্ত্র করছিলেন।

 

এজাহার মতে, আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদে বৈঠকে অংশগ্রহণ এবং অন্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ, একাধিক অভিযান পরিচালনা এবং পলাতকদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর মামলাটি দায়ের করা হয়।

 

মামলায় উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার কামাল পাশা, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তারেক হোসেন মানিকসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ১১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০জন রয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

 

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত তরে উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, ঘটনার পর দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত।