ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনাকে লেখা ফিফা সভাপতির চিঠি ফাঁস, আবারও সমালোচনার ঝড় এবার নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে পরীক্ষা সংস্কার বিষয়ক টাস্কফোর্স গঠন উখিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী সমাবেশ, রামুতে শোডাউন যুদ্ধের মধ্যেও সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে ইরান, যুক্ত হলো নতুন প্রযুক্তি সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে চাকরি পেলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমিন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ থাকা কে এই খাইরুল দেওয়ান বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন দেশের বাজারে পাওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক শিশুর অনুরোধে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ‘চুক্তিতে’ স্বাক্ষর করলেন স্কালোনি সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের

সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে চাকরি পেলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমিন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরায় তিনটি সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনের ব্যস্ত সূচির মধ্যেই এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী উচ্চশিক্ষিত তরুণীর জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তারের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জীবনসংগ্রামের কথা শুনে তাকে আগামী ১ আগস্ট থেকে চাকরির ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন তিনি।

 

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে শারমিনের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তার লেখাপড়া, পারিবারিক অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। শারমিনের মেধা ও সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এর আগে সকাল থেকে মন্ত্রী তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। দিনব্যাপী পরিদর্শনে তিনি হাসপাতালের সেবার মান, চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখেন। একই দিনে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসি চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক নিরাপত্তাকর্মী এবং দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

চাকরির আশ্বাস পেয়ে আবেগাপ্লুত শারমিন আক্তার বলেন, আমি খুবই আনন্দিত। এখন আমি আমার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারব। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাকে যে সুযোগ দিয়েছেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাই।

 

জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, শারমিনের সংগ্রামের বিষয়টি অনেক আগেই তার নজরে আসে। তিনি জানান, শারমিনের পড়াশোনার সময় জেলা পরিষদ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। পরে তার চাকরির বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

হাবিবুল ইসলাম বলেন, শারমিন সুন্দরবন উপকূলের একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও সে এসএসসি ও এইচএসসিতে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। তার মতো একজন মেধাবী তরুণীর কর্মসংস্থানের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। আজ মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চাকরির আশ্বাস দিয়েছেন। এটি শুধু শারমিনের জন্য নয়, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা।

 

দিনব্যাপী পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ , জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতি খোদা, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম, তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনাকে লেখা ফিফা সভাপতির চিঠি ফাঁস, আবারও সমালোচনার ঝড়

সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে চাকরি পেলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমিন

আপডেট সময় ১০:১১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরায় তিনটি সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনের ব্যস্ত সূচির মধ্যেই এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী উচ্চশিক্ষিত তরুণীর জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তারের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জীবনসংগ্রামের কথা শুনে তাকে আগামী ১ আগস্ট থেকে চাকরির ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন তিনি।

 

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে শারমিনের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তার লেখাপড়া, পারিবারিক অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। শারমিনের মেধা ও সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এর আগে সকাল থেকে মন্ত্রী তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। দিনব্যাপী পরিদর্শনে তিনি হাসপাতালের সেবার মান, চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখেন। একই দিনে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসি চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক নিরাপত্তাকর্মী এবং দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

চাকরির আশ্বাস পেয়ে আবেগাপ্লুত শারমিন আক্তার বলেন, আমি খুবই আনন্দিত। এখন আমি আমার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারব। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাকে যে সুযোগ দিয়েছেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাই।

 

জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, শারমিনের সংগ্রামের বিষয়টি অনেক আগেই তার নজরে আসে। তিনি জানান, শারমিনের পড়াশোনার সময় জেলা পরিষদ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। পরে তার চাকরির বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

হাবিবুল ইসলাম বলেন, শারমিন সুন্দরবন উপকূলের একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও সে এসএসসি ও এইচএসসিতে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। তার মতো একজন মেধাবী তরুণীর কর্মসংস্থানের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। আজ মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চাকরির আশ্বাস দিয়েছেন। এটি শুধু শারমিনের জন্য নয়, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা।

 

দিনব্যাপী পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ , জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতি খোদা, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম, তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।