ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আমার আর বোধ হয় চাকরি করা হলো না: এসপির আবেগঘন পোস্ট নিষেধ করেছিলেন গোয়েন্দা প্রধান, তবুও কার কথায় যুদ্ধ শুরু করেন ট্রাম্প বাবার টাকা চুরি করে প্রেমিকাকে রিসোর্টে নিয়ে আইফোন উপহার, গ্রেপ্তার প্রেমিক বিড়ালের পায়ে ২৯ আঙুল, ভাঙল ২৪ বছরের রেকর্ড কাজের কথা বলে রাশিয়ায় যুদ্ধে পাঠানো হয় রাজনকে, ফিরলেন পঙ্গু হয়ে রাতের ঢাকায় পুলিশ চেকপোস্ট নেই, বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা মামলা ডিবিতে, নেপথ্যে ‘বড় শক্তির’ ইঙ্গিত চালু হলো ‘চাঁদাবিডি ডটকম’, কয়েক ঘণ্টাতেই একাধিক অভিযোগ ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি সীমান্তে বাংলাদেশির সঙ্গে ধস্তাধস্তি, রাইফেল ফেলে পালালো বিএসএফ সদস্য

রাতের ঢাকায় পুলিশ চেকপোস্ট নেই, বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

সন্ধ্যার পর থেকেই ফাঁকা হতে শুরু করে রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক। গভীর রাত হলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে দেখা মেলে না পুলিশের স্থায়ী চেকপোস্ট কিংবা নিয়মিত টহল। আর এই সুযোগেই বাড়ছে ছিনতাইসহ নানা অপরাধ। ফলে রাতের ঢাকায় চলাচলকারী চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে বর্তমানে ৩৪২টি ছিনতাইয়ের হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হটস্পট রয়েছে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায়—১০৮টি। এসব এলাকায় তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীর সংখ্যা ২৪০ জন। অন্যদিকে উত্তরা ও গুলশান এলাকায় রয়েছে ৯৪টি হটস্পট।

মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ, বসিলা, ঢাকা উদ্যান ও শেখেরটেক এলাকায় ‘টানা পার্টি’ ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এসব এলাকায় বিকাশ এজেন্টের ওপর হামলা, অস্ত্রের মুখে ৫০ লাখ টাকা ছিনতাই এবং পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের নির্জন সড়ক ও এয়ারপোর্ট রোডেও সক্রিয় মোটরসাইকেলভিত্তিক ছিনতাইকারী চক্র। গভীর রাতে রিকশা বা সিএনজি থামিয়ে কিংবা চলন্ত গাড়ি থেকে ব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‍্যাব-২ ও ডিএমপি বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরা পশ্চিম, মোহাম্মদপুর ও হাজারীবাগ থানা এলাকায় ছিনতাই, মাদক ও ডাকাতির অভিযোগে ৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরা পশ্চিম থেকে ৩০ এবং মোহাম্মদপুর থেকে ৩১ জনকে অস্ত্র ও মাদকসহ আটক করা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান পরিচালনা করলেই স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। নিয়মিত পুলিশি টহল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট চালু রাখার দাবি তাদের।

রাজধানীর বিজয় সরণি, তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা মধ্যরাতে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক চেকপোস্টই কার্যত ফাঁকা। কোথাও পুলিশের গাড়ি থাকলেও সক্রিয় নজরদারি চোখে পড়েনি।

কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ীর ভাষ্য, রাত ২টা-৩টার দিকে মালামাল নিয়ে চলাচলের সময় সড়কে পুলিশ না থাকায় পুরোটা সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। যেকোনো সময় ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পুলিশ কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, রাজধানীর নিরাপত্তায় ডিএমপি ও পুলিশ সদর দপ্তর যৌথভাবে কাজ করছে। তবে জনবল ও যানবাহন সংকটের কারণে সাধারণ সড়কে সার্বক্ষণিক চেকপোস্ট রাখা কঠিন। বিশেষ করে কূটনৈতিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হলেও অন্যান্য এলাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে নিয়মিত অভিযান ও টহল জোরদার করা হচ্ছে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—রাতের ঢাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী ও কার্যকর পুলিশি নজরদারি কবে ফিরবে?

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আমার আর বোধ হয় চাকরি করা হলো না: এসপির আবেগঘন পোস্ট

রাতের ঢাকায় পুলিশ চেকপোস্ট নেই, বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা

আপডেট সময় ১০:৫৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

সন্ধ্যার পর থেকেই ফাঁকা হতে শুরু করে রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক। গভীর রাত হলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে দেখা মেলে না পুলিশের স্থায়ী চেকপোস্ট কিংবা নিয়মিত টহল। আর এই সুযোগেই বাড়ছে ছিনতাইসহ নানা অপরাধ। ফলে রাতের ঢাকায় চলাচলকারী চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে বর্তমানে ৩৪২টি ছিনতাইয়ের হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হটস্পট রয়েছে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায়—১০৮টি। এসব এলাকায় তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীর সংখ্যা ২৪০ জন। অন্যদিকে উত্তরা ও গুলশান এলাকায় রয়েছে ৯৪টি হটস্পট।

মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ, বসিলা, ঢাকা উদ্যান ও শেখেরটেক এলাকায় ‘টানা পার্টি’ ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এসব এলাকায় বিকাশ এজেন্টের ওপর হামলা, অস্ত্রের মুখে ৫০ লাখ টাকা ছিনতাই এবং পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের নির্জন সড়ক ও এয়ারপোর্ট রোডেও সক্রিয় মোটরসাইকেলভিত্তিক ছিনতাইকারী চক্র। গভীর রাতে রিকশা বা সিএনজি থামিয়ে কিংবা চলন্ত গাড়ি থেকে ব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‍্যাব-২ ও ডিএমপি বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরা পশ্চিম, মোহাম্মদপুর ও হাজারীবাগ থানা এলাকায় ছিনতাই, মাদক ও ডাকাতির অভিযোগে ৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরা পশ্চিম থেকে ৩০ এবং মোহাম্মদপুর থেকে ৩১ জনকে অস্ত্র ও মাদকসহ আটক করা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান পরিচালনা করলেই স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। নিয়মিত পুলিশি টহল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট চালু রাখার দাবি তাদের।

রাজধানীর বিজয় সরণি, তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা মধ্যরাতে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক চেকপোস্টই কার্যত ফাঁকা। কোথাও পুলিশের গাড়ি থাকলেও সক্রিয় নজরদারি চোখে পড়েনি।

কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ীর ভাষ্য, রাত ২টা-৩টার দিকে মালামাল নিয়ে চলাচলের সময় সড়কে পুলিশ না থাকায় পুরোটা সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। যেকোনো সময় ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পুলিশ কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, রাজধানীর নিরাপত্তায় ডিএমপি ও পুলিশ সদর দপ্তর যৌথভাবে কাজ করছে। তবে জনবল ও যানবাহন সংকটের কারণে সাধারণ সড়কে সার্বক্ষণিক চেকপোস্ট রাখা কঠিন। বিশেষ করে কূটনৈতিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হলেও অন্যান্য এলাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে নিয়মিত অভিযান ও টহল জোরদার করা হচ্ছে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—রাতের ঢাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী ও কার্যকর পুলিশি নজরদারি কবে ফিরবে?