ঢাকা , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইসলাম ধর্মে দেশের সীমান্ত রক্ষার গুরুত্ব ও আখিরাতের প্রতিদান ‘ভারত-বাংলাদেশ এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াতে আমির খালে উল্টে পড়ল মাছভর্তি পিকআপ, চালককে ফেলে মাছ কুড়াতেই ব্যস্ত স্থানীয়রা আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার খাল খনন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী কান্না সহ্য করতে না পেরে দুই মাসের শিশুকে আছাড় দিয়ে হত্যা, বাবা আটক বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যে ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান ভরসা এএন-৩২ বিমান বি’ধ্ব’স্ত এবার নদী পথে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, প্রতিহত করল বিজিবি ‘শিগগিরই ইরানের বিজয়ের প্রতিধ্বনি শুনবে বিশ্ব’ ইরানের ইউরেনিয়াম দখল করতে চেয়েছিল মার্কিন বাহিনী, ঠেকিয়েছেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ‘খুব কাছাকাছি‘: আব্বাস আরাগচি

ক্ষমতা ছাড়তে বলায় ‘নিজেকে গুলি করতে’ বলেন হাসিনা, মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫
  • ২০৮৬ বার পড়া হয়েছে

এবার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনা। এদিন সকালেই গণভবনে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে যায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে সেই ঘটনার বিস্তারিত জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৫ মে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেন তিনি। সেদিনের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ৫ আগস্ট সকাল গণভবনে একটি বৈঠক হয়।

বৈঠকে তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দেখিয়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ওরা ভালো কাজ করছে, সেনাবাহিনী পারবে না কেন? তখন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, পরিস্থিতি যে পর্যায় গেছে, তাতে পুলিশের পক্ষেও আর বেশি সময় এমন কঠোর অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব না। অস্ত্র–গোলাবারুদ আর অবশিষ্ট নেই, বাহিনীও ক্লান্ত হয়ে গেছে।

এরপর সামরিক কর্মকর্তারা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। তখন তিনি রেগে যান এবং বলেন, তাহলে তোমরা আমাকে গুলি করে মেরে ফেলো এবং গণভবনে কবর দিয়ে দাও।

ওই বৈঠক থেকে সামরিক কর্মকর্তারা শেখ হাসিনাকে গণভবনের অন্য একটি কক্ষে নিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয় এবং তাকে আবারও পদত্যাগ করতে অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে ছোট বোন শেখ রেহানাও তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু রাজি না হওয়ায় শেখ রেহানা একপর্যায়ে শেখ হাসিনার পা জড়িয়ে ধরেন। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছিলেন না। পরে হাসিনার ছেলে জয়ের সঙ্গে কথা বলেন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সামরিক কর্মকর্তারা জয়কে বলেন, প্রাণে বাঁচাতে হলে তার মায়ের (শেখ হাসিনা) পদত্যাগ করা ছাড়া উপায় নেই। আর এই সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে। শেষ পর্যন্ত জয়ের কথায় ক্ষমতা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন শেখ হাসিনা এবং জাতির উদ্দেশে সেনাপ্রধানের বক্তব্যের আগে তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলাম ধর্মে দেশের সীমান্ত রক্ষার গুরুত্ব ও আখিরাতের প্রতিদান

ক্ষমতা ছাড়তে বলায় ‘নিজেকে গুলি করতে’ বলেন হাসিনা, মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় ১০:১৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫

এবার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনা। এদিন সকালেই গণভবনে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে যায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে সেই ঘটনার বিস্তারিত জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৫ মে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেন তিনি। সেদিনের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ৫ আগস্ট সকাল গণভবনে একটি বৈঠক হয়।

বৈঠকে তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দেখিয়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ওরা ভালো কাজ করছে, সেনাবাহিনী পারবে না কেন? তখন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, পরিস্থিতি যে পর্যায় গেছে, তাতে পুলিশের পক্ষেও আর বেশি সময় এমন কঠোর অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব না। অস্ত্র–গোলাবারুদ আর অবশিষ্ট নেই, বাহিনীও ক্লান্ত হয়ে গেছে।

এরপর সামরিক কর্মকর্তারা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। তখন তিনি রেগে যান এবং বলেন, তাহলে তোমরা আমাকে গুলি করে মেরে ফেলো এবং গণভবনে কবর দিয়ে দাও।

ওই বৈঠক থেকে সামরিক কর্মকর্তারা শেখ হাসিনাকে গণভবনের অন্য একটি কক্ষে নিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয় এবং তাকে আবারও পদত্যাগ করতে অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে ছোট বোন শেখ রেহানাও তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু রাজি না হওয়ায় শেখ রেহানা একপর্যায়ে শেখ হাসিনার পা জড়িয়ে ধরেন। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছিলেন না। পরে হাসিনার ছেলে জয়ের সঙ্গে কথা বলেন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সামরিক কর্মকর্তারা জয়কে বলেন, প্রাণে বাঁচাতে হলে তার মায়ের (শেখ হাসিনা) পদত্যাগ করা ছাড়া উপায় নেই। আর এই সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে। শেষ পর্যন্ত জয়ের কথায় ক্ষমতা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন শেখ হাসিনা এবং জাতির উদ্দেশে সেনাপ্রধানের বক্তব্যের আগে তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান।