ঢাকা , সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিশ্বকাপ ফাইনালের পরই অবসরে রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের পথে নেতানিয়াহু বাজারের নাম নিয়ে রক্ত’ক্ষয়ী সং’ঘর্ষ নিহত ১, আহত অন্তত ৩০ ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীর দখলের যেকোনো পদক্ষেপ ইসরায়েলের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম বলে বিবেচিত হবে: আরব আমিরাত ভারতকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলল পাকিস্তান, কঠোর হুঁশিয়ারি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা উপেক্ষা করে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু মামদানির বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ নেতানিয়াহুর ইরানের হামলায় নিহত সেনাদের সংখ্যা কমালো যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে হামলা না থামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নয়: মোজতবা খামেনি

লেবাননে হামলা না থামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নয়: মোজতবা খামেনি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:০৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

এবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে নতুন শর্ত সামনে এনেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, তেহরানওয়াশিংটনের মধ্যে শান্তি চুক্তি হতে হলে আগে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি হিজবুল্লাহ ও দক্ষিণ লেবাননের মানুষের প্রতি ইরানের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, রোববার (২৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে মোজতবা খামেনি এ কথা বলেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যেকোনও চুক্তির প্রধান শর্ত হিসেবে লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং জায়নবাদী শাসনের আগ্রাসন সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে বন্ধ করার বিষয়টিকে নির্ধারণ করেছে ইরান।

একাধিক পোস্টে তিনি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, এর সাবেক নেতা হাসান নাসরুল্লাহ এবং ইসরায়েলি হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু দক্ষিণ লেবাননের মানুষের প্রতি সমর্থনও জানান। তিনি বলেন, ‘অত্যাচারিত হলেও শক্তিশালী এই মুজাহিদদের (হিজবুল্লাহ) রক্ষা করাকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তার কৌশলগত দায়িত্ব বলে মনে করে।আল জাজিরা বলছে, এমন সময় খামেনির এই বক্তব্য সামনে এলো যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা বন্ধ এবং নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরুর খবর প্রকাশিত হচ্ছে।

তেহরান অবশ্য আগেই জানিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে হলে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করতেই হবে। গত জুনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সই করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রথম ধারাতেই এই শর্ত রাখা হয়েছিল। তবে পরে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধের জেরে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিন তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর এবং লেবাননে ইসরায়েলের প্রায় প্রতিদিনের হামলার জেরে মার্চে এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে লেবানন।

হিজবুল্লাহর দাবি, ২০২৪ সালে আগের দফার সংঘাতের অবসানে হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল নিয়মিতভাবে লঙ্ঘন করছিল। এ কারণেই তারা উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালায়। এরপর গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রইরানের সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েল একটি কাঠামোগত চুক্তিতে সই করে। এতে ধাপে ধাপে লেবাননের দখল করা এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হলেও, প্রত্যাহারের কোনও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।

বরং এতে বলা হয়, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র হওয়ার পরই ইসরায়েল দখল করা এলাকা থেকে সেনা সরাবে। তবে আলোচনায় অংশ না নেয়া ইরান ও হিজবুল্লাহ এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। চুক্তির প্রথম ধাপে তিনটিপাইলট জোনথেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও, রোববার লেবাননের সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, নির্ধারিত এলাকা থেকে সেনা না সরিয়ে ইসরায়েল পুরো প্রক্রিয়ায় বাধা দিচ্ছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের তথ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর সঙ্গে আগের যুদ্ধবিরতি ১০ হাজারেরও বেশি বার লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ ফাইনালের পরই অবসরে রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ

লেবাননে হামলা না থামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নয়: মোজতবা খামেনি

আপডেট সময় ০২:০৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

এবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে নতুন শর্ত সামনে এনেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, তেহরানওয়াশিংটনের মধ্যে শান্তি চুক্তি হতে হলে আগে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি হিজবুল্লাহ ও দক্ষিণ লেবাননের মানুষের প্রতি ইরানের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, রোববার (২৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে মোজতবা খামেনি এ কথা বলেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যেকোনও চুক্তির প্রধান শর্ত হিসেবে লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং জায়নবাদী শাসনের আগ্রাসন সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে বন্ধ করার বিষয়টিকে নির্ধারণ করেছে ইরান।

একাধিক পোস্টে তিনি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, এর সাবেক নেতা হাসান নাসরুল্লাহ এবং ইসরায়েলি হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু দক্ষিণ লেবাননের মানুষের প্রতি সমর্থনও জানান। তিনি বলেন, ‘অত্যাচারিত হলেও শক্তিশালী এই মুজাহিদদের (হিজবুল্লাহ) রক্ষা করাকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তার কৌশলগত দায়িত্ব বলে মনে করে।আল জাজিরা বলছে, এমন সময় খামেনির এই বক্তব্য সামনে এলো যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা বন্ধ এবং নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরুর খবর প্রকাশিত হচ্ছে।

তেহরান অবশ্য আগেই জানিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে হলে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করতেই হবে। গত জুনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সই করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রথম ধারাতেই এই শর্ত রাখা হয়েছিল। তবে পরে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধের জেরে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিন তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর এবং লেবাননে ইসরায়েলের প্রায় প্রতিদিনের হামলার জেরে মার্চে এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে লেবানন।

হিজবুল্লাহর দাবি, ২০২৪ সালে আগের দফার সংঘাতের অবসানে হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল নিয়মিতভাবে লঙ্ঘন করছিল। এ কারণেই তারা উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালায়। এরপর গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রইরানের সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েল একটি কাঠামোগত চুক্তিতে সই করে। এতে ধাপে ধাপে লেবাননের দখল করা এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হলেও, প্রত্যাহারের কোনও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।

বরং এতে বলা হয়, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র হওয়ার পরই ইসরায়েল দখল করা এলাকা থেকে সেনা সরাবে। তবে আলোচনায় অংশ না নেয়া ইরান ও হিজবুল্লাহ এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। চুক্তির প্রথম ধাপে তিনটিপাইলট জোনথেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও, রোববার লেবাননের সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, নির্ধারিত এলাকা থেকে সেনা না সরিয়ে ইসরায়েল পুরো প্রক্রিয়ায় বাধা দিচ্ছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের তথ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর সঙ্গে আগের যুদ্ধবিরতি ১০ হাজারেরও বেশি বার লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল।