জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিলের বিরোধিতা করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রোববার অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে জামায়াতের দুই সদস্য ড. মো. নাজিবুর রহমান ও অ্যাডভোকেট আল ফারুক আবদুল লতিফ উপস্থিত ছিলেন। তবে বিলটি পর্যালোচনার জন্য উত্থাপনের পর তারা বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।
বৈঠক বর্জনের কারণ ব্যাখ্যা করে জামায়াতের সংসদীয় দলের মুখপাত্র ড. মো. নাজিবুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলটি প্যারিস নীতিমালা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশন এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলও উদ্বেগ জানিয়েছে।
তার অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই বিল পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে মাত্র দুই কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট অংশীজন, মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকছে না।
নাজিবুর রহমানের দাবি, আগের আইনের তুলনায় নতুন বিলটি আরও দুর্বল। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে কমিশনের স্বাধীনভাবে তদন্তের ক্ষমতা সীমিত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মতামত নিলেও সেসব মতামত এবং কতটুকু প্রস্তাবিত বিলে যুক্ত হয়েছে, তা পর্যালোচনার সুযোগ সংসদীয় কমিটির সদস্যদের দেওয়া হয়নি।
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, তড়িঘড়ি করে বিলটি পাসের উদ্যোগ নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে কার্যত ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত করার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এমন প্রক্রিয়ার অংশ হতে চান না তারা।
নাজিবুর রহমান আরও বলেন, ২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের পর গত ১৭ বছরে গুমসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। ভবিষ্যতে কমিশন যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, প্রস্তাবিত বিলের কিছু বিধানে সেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ অবস্থায় বিলটির আলোচনা, পর্যালোচনা ও পাসের প্রক্রিয়ায় আর অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জামায়াত। একই সঙ্গে সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিলটির প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন দলটির সংসদীয় দলের মুখপাত্র।

ডেস্ক রিপোর্ট 























