ঢাকা , রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সত্যিকারের শত্রুকে শনাক্ত করুন, মুসলিম দেশগুলোকে মোজতবা খামেনির আহ্বান টানা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে বিদ্যুৎকর্মীকে ধরে কসম খাওয়াল গ্রামবাসী বিএনপি নেতা ইসহাক হত্যা মামলায় শাহজাহান ওমর শ্যোন অ্যারেস্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্বের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে রিট নতুন কমিটি নিয়ে নোয়াখালীতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫ ভয়াবহ বন্যার স্রোত ধেয়ে আসতেই ঘণ্টা বাজালেন প্রধান শিক্ষক, বাঁচল ১৬৪৩ প্রাণ লন্ডনে মদের বার কিনে মসজিদে রূপান্তর করলেন বাংলাদেশি রাসেল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন দিল্লিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হানাদার বাহিনীর মতই আচরণ করেছে শেখ হাসিনা সরকার: ইশরাক মানবাধিকার কমিশন বিল পাসের কোনও প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকবে না বিরোধী দল

লন্ডনে মদের বার কিনে মসজিদে রূপান্তর করলেন বাংলাদেশি রাসেল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ব লন্ডনের যে ভবনটিতে একসময় চলত মদের বার, আজ সেই একই প্রাঙ্গণে ধ্বনিত হচ্ছে আজান, পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াত এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুসল্লিদের নামাজ। মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে সাবেক ওই বারটি কিনে মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তর করেছেন লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও চট্টগ্রামের রাউজানের সন্তান জিয়া বিন রাসেল। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগে জিয়া বিন রাসেল সম্পত্তিটি অধিগ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে উনার আরও সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয় এবং ভবনটিকে মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটির ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, সময়ের সঙ্গে সম্পত্তিটির মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে এর বাজারমূল্য প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে।

এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জিয়া বিন রাসেলের ব্যক্তিজীবনের একটি বিশেষ অধ্যায়ও। মসজিদটির নামকরণ করেছেন তিনি তাঁর মায়ের নামে। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে তাঁর। জীবনের পথচলা, ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধ গঠনে তাঁর মা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সেই ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই মায়ের নামের সঙ্গে মসজিদটিকে যুক্ত করেছেন তিনি। যে স্থানে একসময় মদ পরিবেশন করা হতো, সেখানে এখন পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত হয়। যেখানে মানুষ একসময় মদ্যপানের জন্য সমবেত হতেন, সেখানে এখন মুসল্লিরা একত্রিত হন নামাজ আদায়ে। পূর্ব লন্ডনের একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা এভাবেই পেয়েছে সম্পূর্ণ নতুন পরিচয় ও উদ্দেশ্য।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক কার্যক্রমে সহযোগিতা দিয়ে আসছেন জিয়া বিন রাসেল। গাজা ও সুদানে জরুরি মানবিক সহায়তা, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী মানুষের সহায়তা ও দক্ষতা উন্নয়ন, অসচ্ছল নারীদের কর্মসংস্থান ও জীবিকা সহায়তা, বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাদরাসা ও কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা তাঁর এসব উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর সহযোগিতায় কোরআন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে হাফেজ হয়েছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করতেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা করছেন জিয়া বিন রাসেল। সেলাই মেশিন, আর্থিক সহায়তা ও আয়বর্ধক উপকরণ প্রদানের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে নির্ভরশীলতা থেকে বের করে দীর্ঘমেয়াদে আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই এসব কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য তাঁর দীর্ঘদিনের কার্যক্রম বর্তমানে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে। হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের মানবিক কার্যক্রমের আওতায় সাভারের নবীনগরে একটি দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোগে তিনি সহযোগিতা করছেন। এর লক্ষ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহারিক ও কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে তাঁরা নিজস্ব উপার্জনের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে পারেন। বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে তাঁর মানবিক সহায়তা পৌঁছেছে বিশ্বের কয়েকটি বড় মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছেও।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় তাঁর সহায়তায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, রান্না করা খাবার, রুটি, নিরাপদ খাবার পানি এবং অন্যান্য জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। একইভাবে সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির কারণে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি সুদানের অসহায় পরিবারগুলোর জন্য পরিচালিত বিভিন্ন ত্রাণ ও মানবিক কার্যক্রমেও তাঁর সহযোগিতা রয়েছে। এসব মানবিক উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিভিন্ন মানবিক সংস্থা ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে জিয়া বিন রাসেল হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা ও অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সত্যিকারের শত্রুকে শনাক্ত করুন, মুসলিম দেশগুলোকে মোজতবা খামেনির আহ্বান

লন্ডনে মদের বার কিনে মসজিদে রূপান্তর করলেন বাংলাদেশি রাসেল

আপডেট সময় ০৩:২৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

পূর্ব লন্ডনের যে ভবনটিতে একসময় চলত মদের বার, আজ সেই একই প্রাঙ্গণে ধ্বনিত হচ্ছে আজান, পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াত এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুসল্লিদের নামাজ। মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে সাবেক ওই বারটি কিনে মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তর করেছেন লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও চট্টগ্রামের রাউজানের সন্তান জিয়া বিন রাসেল। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগে জিয়া বিন রাসেল সম্পত্তিটি অধিগ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে উনার আরও সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয় এবং ভবনটিকে মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটির ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, সময়ের সঙ্গে সম্পত্তিটির মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে এর বাজারমূল্য প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে।

এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জিয়া বিন রাসেলের ব্যক্তিজীবনের একটি বিশেষ অধ্যায়ও। মসজিদটির নামকরণ করেছেন তিনি তাঁর মায়ের নামে। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে তাঁর। জীবনের পথচলা, ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধ গঠনে তাঁর মা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সেই ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই মায়ের নামের সঙ্গে মসজিদটিকে যুক্ত করেছেন তিনি। যে স্থানে একসময় মদ পরিবেশন করা হতো, সেখানে এখন পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত হয়। যেখানে মানুষ একসময় মদ্যপানের জন্য সমবেত হতেন, সেখানে এখন মুসল্লিরা একত্রিত হন নামাজ আদায়ে। পূর্ব লন্ডনের একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা এভাবেই পেয়েছে সম্পূর্ণ নতুন পরিচয় ও উদ্দেশ্য।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক কার্যক্রমে সহযোগিতা দিয়ে আসছেন জিয়া বিন রাসেল। গাজা ও সুদানে জরুরি মানবিক সহায়তা, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী মানুষের সহায়তা ও দক্ষতা উন্নয়ন, অসচ্ছল নারীদের কর্মসংস্থান ও জীবিকা সহায়তা, বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাদরাসা ও কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা তাঁর এসব উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর সহযোগিতায় কোরআন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে হাফেজ হয়েছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করতেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা করছেন জিয়া বিন রাসেল। সেলাই মেশিন, আর্থিক সহায়তা ও আয়বর্ধক উপকরণ প্রদানের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে নির্ভরশীলতা থেকে বের করে দীর্ঘমেয়াদে আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই এসব কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য তাঁর দীর্ঘদিনের কার্যক্রম বর্তমানে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে। হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের মানবিক কার্যক্রমের আওতায় সাভারের নবীনগরে একটি দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোগে তিনি সহযোগিতা করছেন। এর লক্ষ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহারিক ও কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে তাঁরা নিজস্ব উপার্জনের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে পারেন। বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে তাঁর মানবিক সহায়তা পৌঁছেছে বিশ্বের কয়েকটি বড় মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছেও।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় তাঁর সহায়তায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, রান্না করা খাবার, রুটি, নিরাপদ খাবার পানি এবং অন্যান্য জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। একইভাবে সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির কারণে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি সুদানের অসহায় পরিবারগুলোর জন্য পরিচালিত বিভিন্ন ত্রাণ ও মানবিক কার্যক্রমেও তাঁর সহযোগিতা রয়েছে। এসব মানবিক উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিভিন্ন মানবিক সংস্থা ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে জিয়া বিন রাসেল হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা ও অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।