অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের রপ্তানি বাড়াতে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক বাজারে সামরিক সরঞ্জামের বাড়তি চাহিদাকে কাজে লাগাতে প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামাবাদ।
এরই অংশ হিসেবে দেশটির সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্স পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ—পিওএফে দুটি নতুন কারখানা চালু করা হচ্ছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ কারখানা দুটিতে উৎপাদন শুরুর কথা রয়েছে।
শনিবার পিওএফ পরিদর্শন করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এ সময় তাকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে এর ভূমিকা সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নতুন কারখানা দুটি দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদনকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার চলমান উদ্যোগের অংশ। তবে সেখানে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র বা সরঞ্জাম তৈরি হবে কিংবা উৎপাদন সক্ষমতা কত—তা প্রকাশ করা হয়নি।
পাকিস্তান বলছে, গোলাবারুদ ও ড্রোন থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ বিমান এবং যুদ্ধবিমান—দেশীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে। ফলে এই বাজারকে কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি বাড়াতে চায় ইসলামাবাদ।
এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ১৩টি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে পাকিস্তান। এর মধ্যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা অনেকটা এগিয়েছে। সম্ভাব্য রপ্তানি তালিকায় রয়েছে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান, মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সাঁজোয়া যান।
এদিকে পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজকে করপোরেট প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা শিল্পে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির উদ্যোগও নিয়েছে ইসলামাবাদ।
সফরকালে দেশীয়ভাবে নকশা ও তৈরি করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরীক্ষা এবং ব্যবহারিক মহড়াও প্রত্যক্ষ করেন আসিম মুনির।
সব মিলিয়ে পাকিস্তানের লক্ষ্য স্পষ্ট—দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়িয়ে একদিকে সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালী করা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ত্র রপ্তানির বড় অংশ দখল করা।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















