ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ভারত মাতা কি জয়’ না বলায় মসজিদে ঢুকে ইমামকে হেনস্তা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১৯:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৪০ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতের অরুণাচল প্রদেশে একটি মসজিদে ঢুকে ইমামকে জোর করে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলানোর অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে। ঘটনাটি ঘটেছে ২৭ নভেম্বর, নাহারলাগুন এলাকার জামে মসজিদে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়—অরুণাচল প্রাদেশিক আদিবাসী যুব সমিতির (এপিআইওয়াইও) সাধারণ সম্পাদক তাপর মেয়িং ও সভাপতি তারো সোনম মসজিদের ভেতরে দাঁড়িয়ে ইমামের সঙ্গে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় আশপাশে বিপুল মানুষ জড়ো হয়ে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বারবার ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দেওয়া হয়।

ইমাম স্পষ্ট জানান—তিনি এই স্লোগান বলবেন না; এর বদলে ‘ইন্ডিয়া জিন্দাবাদ’ বলতে পারেন। তবে এতে ক্ষুব্ধ হন এপিআইওয়াইও নেতারা। তাঁদের চাপের মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন ভুক্তভোগী ইমাম। বিতর্ক চরমে উঠতেই এপিআইওয়াইও সভাপতি তারো সোনমকে বলতে শোনা যায়, “প্রত্যেক মুসলিম সন্ত্রাসী নয়, তবে প্রতিটি সন্ত্রাসী কেন মুসলিম?” এই মন্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে আরও উত্তেজনা ছড়ায়।

ইমাম পাল্টা বলেন, “ইন্ডিয়া জিন্দাবাদ হি কাফি হ্যায়। ‘ভারত মাতা কি জয়’ নাহি বোলেঙ্গে হাম।” তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন—“হিন্দুস্তান কি জয়” বা “ইন্ডিয়া কি জয়” বলতে তাঁর আপত্তি নেই, কিন্তু ‘ভারত মাতা’ বলতে পারেন না, কারণ একজন ব্যক্তির জন্মদাত্রীই একমাত্র “মা”।

গত এক মাস ধরে অরুণাচলে অবৈধ অভিবাসন রোধে প্রচার চালাচ্ছে এপিআইওয়াইও। ২৫ নভেম্বর নাহারলাগুন হেলিপ্যাডের কাছে একটি জামে মসজিদের ‘অবৈধ নির্মাণ’-এর অভিযোগ তুলে এপিআইওয়াইও বন্ধ ঘোষণা করলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসের পর তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। মতবিনিময়ের সময় সংগঠনের নেতারা ইমামের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের দাবি—ইমাম সম্ভবত “অভিবাসী” এবং তিনি বাংলাদেশি মুসলিম হতে পারেন।

অভিযোগ করা হয়—১৮৭৩ সালের বেঙ্গল ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রেগুলেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ‘ইনার লাইন পারমিট’ ছাড়াই তিনি অরুণাচলে প্রবেশ করেছেন। উত্তেজনাপূর্ণ এই ঘটনার ভিডিও দেশজুড়ে ছড়ালেও অরুণাচল পুলিশ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তদন্ত শুরু হবে কি না, তা নিয়েও নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ভারত মাতা কি জয়’ না বলায় মসজিদে ঢুকে ইমামকে হেনস্তা

আপডেট সময় ০৯:১৯:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

এবার ভারতের অরুণাচল প্রদেশে একটি মসজিদে ঢুকে ইমামকে জোর করে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলানোর অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে। ঘটনাটি ঘটেছে ২৭ নভেম্বর, নাহারলাগুন এলাকার জামে মসজিদে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়—অরুণাচল প্রাদেশিক আদিবাসী যুব সমিতির (এপিআইওয়াইও) সাধারণ সম্পাদক তাপর মেয়িং ও সভাপতি তারো সোনম মসজিদের ভেতরে দাঁড়িয়ে ইমামের সঙ্গে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় আশপাশে বিপুল মানুষ জড়ো হয়ে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বারবার ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দেওয়া হয়।

ইমাম স্পষ্ট জানান—তিনি এই স্লোগান বলবেন না; এর বদলে ‘ইন্ডিয়া জিন্দাবাদ’ বলতে পারেন। তবে এতে ক্ষুব্ধ হন এপিআইওয়াইও নেতারা। তাঁদের চাপের মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন ভুক্তভোগী ইমাম। বিতর্ক চরমে উঠতেই এপিআইওয়াইও সভাপতি তারো সোনমকে বলতে শোনা যায়, “প্রত্যেক মুসলিম সন্ত্রাসী নয়, তবে প্রতিটি সন্ত্রাসী কেন মুসলিম?” এই মন্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে আরও উত্তেজনা ছড়ায়।

ইমাম পাল্টা বলেন, “ইন্ডিয়া জিন্দাবাদ হি কাফি হ্যায়। ‘ভারত মাতা কি জয়’ নাহি বোলেঙ্গে হাম।” তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন—“হিন্দুস্তান কি জয়” বা “ইন্ডিয়া কি জয়” বলতে তাঁর আপত্তি নেই, কিন্তু ‘ভারত মাতা’ বলতে পারেন না, কারণ একজন ব্যক্তির জন্মদাত্রীই একমাত্র “মা”।

গত এক মাস ধরে অরুণাচলে অবৈধ অভিবাসন রোধে প্রচার চালাচ্ছে এপিআইওয়াইও। ২৫ নভেম্বর নাহারলাগুন হেলিপ্যাডের কাছে একটি জামে মসজিদের ‘অবৈধ নির্মাণ’-এর অভিযোগ তুলে এপিআইওয়াইও বন্ধ ঘোষণা করলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসের পর তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। মতবিনিময়ের সময় সংগঠনের নেতারা ইমামের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের দাবি—ইমাম সম্ভবত “অভিবাসী” এবং তিনি বাংলাদেশি মুসলিম হতে পারেন।

অভিযোগ করা হয়—১৮৭৩ সালের বেঙ্গল ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রেগুলেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ‘ইনার লাইন পারমিট’ ছাড়াই তিনি অরুণাচলে প্রবেশ করেছেন। উত্তেজনাপূর্ণ এই ঘটনার ভিডিও দেশজুড়ে ছড়ালেও অরুণাচল পুলিশ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তদন্ত শুরু হবে কি না, তা নিয়েও নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি।