ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই আন্দোলনে পুলিশি হামলার শিকার হয়েও আন্দোলনে সক্রিয় ছিল অনন্যা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
  • ৫৯৩ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মিনহাজ আলম,
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি;

৩১ জুলাই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি। প্রতিবারের মতো ভয়কে জয় করেই সেদিন বেলা ১১টায় আন্দোলনে যোগ দেন অরিন তাসনিম অনন্যা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সরকারপাড়া এলাকার অরিন তাসনিম অনন্যা বর্তমানে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

গত বছরের ৩১ জুলাই বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলার আর্টগ্যালারি মোড় এলাকায় একত্রিত হতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বরাবরের মতোই সেদিন বড় ভাই-বোনদের সাথে আন্দোলনে যোগ দেন নবম শ্রেণির অরিন তাসনিম অনন্যা। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা যখন ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রথম ফটকের সামনে আসে, তখনই তারা পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন।

পরে শিক্ষার্থীরা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয় এবং শুরু করে লাঠিচার্জ। এ সময় সবার ছুটোছুটিতে রাস্তায় পড়ে যান অরিন তাসনিম অনন্যা। তখনই পুলিশের হামলার শিকার হন তিনি।
তবুও রাজপথ ছাড়েননি অনন্যা। লড়েছেন শেষ অবধি।

আন্দোলনের দিনগুলোর কেমন ছিল বাংলা এডিশনকে অনন্যা বলেন,
“শুরুতে একদমই সাপোর্ট ছিল না বাসা থেকে। লুকিয়ে লুকিয়ে আসতাম আন্দোলনে। বড় ভাইয়া-আপুরা আমাদের আগের দিন বলতো আন্দোলন আছে। পরে তাদের সাথেই শুরু থেকে ছিলাম। তবে আমাদের স্কুল থেকে শুরুতে তেমন কেউ ছিল না, আমরাই কয়েকজন আসছিলাম।

মার্চ ফর জাস্টিস যেদিন ছিল, সেদিন আর্টগ্যালারি মোড় থেকে আমরা কোর্টের দিকে যাচ্ছিলাম। তখন কোর্টের সামনে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর আমরা তবুও এগোতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। আমরা মেয়েরা সামনের সারিতে ছিলাম, আমিও একেবারে সামনে ছিলাম। পুলিশ যখন লাঠিচার্জ শুরু করে, তখন আমি পড়ে যাই। সে সময় একটা পুলিশ আমার ওপর হামলা করে। পরে সবাই এগিয়ে এলে আমি সেখান থেকে সরে যাই।

একদফা সংঘর্ষের পরেও আমরা আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছি। পরে বাসায় নিউজ দেখে ভিডিও দেখে। শুরুতে বকা দিলেও পরে আর মানা করেনি। ওইদিন আমি না বলেই এসেছিলাম স্কুলের কথা বলে।

নতুন বাংলাদেশ নিয়ে কী প্রত্যাশা করেন, এমন প্রশ্নে অনন্যা বলেন, “আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ চাই। যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না, কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে হবে তবেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ সম্ভব।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই আন্দোলনে পুলিশি হামলার শিকার হয়েও আন্দোলনে সক্রিয় ছিল অনন্যা

আপডেট সময় ১১:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

মোঃ মিনহাজ আলম,
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি;

৩১ জুলাই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি। প্রতিবারের মতো ভয়কে জয় করেই সেদিন বেলা ১১টায় আন্দোলনে যোগ দেন অরিন তাসনিম অনন্যা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সরকারপাড়া এলাকার অরিন তাসনিম অনন্যা বর্তমানে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

গত বছরের ৩১ জুলাই বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলার আর্টগ্যালারি মোড় এলাকায় একত্রিত হতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বরাবরের মতোই সেদিন বড় ভাই-বোনদের সাথে আন্দোলনে যোগ দেন নবম শ্রেণির অরিন তাসনিম অনন্যা। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা যখন ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রথম ফটকের সামনে আসে, তখনই তারা পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন।

পরে শিক্ষার্থীরা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয় এবং শুরু করে লাঠিচার্জ। এ সময় সবার ছুটোছুটিতে রাস্তায় পড়ে যান অরিন তাসনিম অনন্যা। তখনই পুলিশের হামলার শিকার হন তিনি।
তবুও রাজপথ ছাড়েননি অনন্যা। লড়েছেন শেষ অবধি।

আন্দোলনের দিনগুলোর কেমন ছিল বাংলা এডিশনকে অনন্যা বলেন,
“শুরুতে একদমই সাপোর্ট ছিল না বাসা থেকে। লুকিয়ে লুকিয়ে আসতাম আন্দোলনে। বড় ভাইয়া-আপুরা আমাদের আগের দিন বলতো আন্দোলন আছে। পরে তাদের সাথেই শুরু থেকে ছিলাম। তবে আমাদের স্কুল থেকে শুরুতে তেমন কেউ ছিল না, আমরাই কয়েকজন আসছিলাম।

মার্চ ফর জাস্টিস যেদিন ছিল, সেদিন আর্টগ্যালারি মোড় থেকে আমরা কোর্টের দিকে যাচ্ছিলাম। তখন কোর্টের সামনে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর আমরা তবুও এগোতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। আমরা মেয়েরা সামনের সারিতে ছিলাম, আমিও একেবারে সামনে ছিলাম। পুলিশ যখন লাঠিচার্জ শুরু করে, তখন আমি পড়ে যাই। সে সময় একটা পুলিশ আমার ওপর হামলা করে। পরে সবাই এগিয়ে এলে আমি সেখান থেকে সরে যাই।

একদফা সংঘর্ষের পরেও আমরা আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছি। পরে বাসায় নিউজ দেখে ভিডিও দেখে। শুরুতে বকা দিলেও পরে আর মানা করেনি। ওইদিন আমি না বলেই এসেছিলাম স্কুলের কথা বলে।

নতুন বাংলাদেশ নিয়ে কী প্রত্যাশা করেন, এমন প্রশ্নে অনন্যা বলেন, “আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ চাই। যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না, কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে হবে তবেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ সম্ভব।”