ঢাকা , রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, সারা দেশে সতর্কতা জোরদার নতুন করে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-যুক্তরাজ্য, কলকাঠি নাড়ছে ওয়াশিংটন বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১ নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার ১৩ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ, পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে আনতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্থায়ী শান্তি’ আসবে না: রাশিয়া হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির আজহারী ও জারার ছবি ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ১০

শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ, আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধ দুদকে আবেদন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:১৮:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে

এবার অবৈধ প্রক্রিয়ায় ২৮৬ সাব রেজিস্ট্রার বদলি করে শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে অন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার পিএস মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) দুদকের কার্যালয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন এ আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে৮ মাসে সাবরেজিস্ট্রার বদলিতে ঘুষ লেনদেন শতকোটিশিরোনামে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনের প্রথম অংশে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ে শুধু সাবরেজিস্ট্রার বদলিতেই ঘুষ লেনদেন হয়েছে শতকোটি টাকা। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের আমলে সাবরেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নীতিমালা মানা হয়নি। ঘুষের বিনিময়ে বদলির ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত টাকা পরিশোধ না করায় বদলির আদেশ স্থগিত করার প্রমাণও পাওয়া গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাউকে কাউকে ছয়সাত মাসের মধ্যে তিনচার বার বদলি করা হয়েছে। আট মাসে (অক্টোবর২৪ থেকে এপ্রিল২৫ পর্যন্ত) নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাবরেজিস্ট্রারের মধ্যে কমপক্ষে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে।

এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাবরেজিস্ট্রি অফিসে বদলি বাগিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে পছন্দের অফিসে বদলির আদেশ পেয়েছেন তারা। অতীতে কখনো মাত্র আট মাসে এত বিপুলসংখ্যক বদলির ঘটনা ঘটেনি। বদলির নীতিমালা অনুযায়ী সাবরেজিস্ট্রি অফিসের’, ‘বিসিগ্রেডের অফিসে অনুরূপভাবে’, ‘বিসিগ্রেডের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন করার বিধান রয়েছে। কিন্তু আট মাসে এই নীতিমালার তোয়াক্কা করা হয়নি।

বদলির বিধান অনুযায়ী, ‘গ্রেডের সাবরেজিস্ট্রারকেগ্রেডের অফিসে এবংসিগ্রেডের কর্মকর্তাকেসিগ্রেডের অফিসে বদলি করতে হয়। তবে আট মাসের ওই সময়কালে ঘুষের বিনিময়েসিবিগ্রেডের সাবরেজিস্ট্রারদের অনেককেই পোস্টিং দেওয়া হয়েছে উচ্চতর গ্রেডের কার্যালয়ে। এ ক্ষেত্রে ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায়গ্রেডের সাবরেজিস্ট্রারদেরশাস্তিমূলকভাবে’ ‘বিবাসিগ্রেডের অফিসে বদলি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের অনেককেই বারবার বদলির মুখে পড়তে হয়েছে। কাউকে কাউকে যোগদানের আগের দিন পুনরায় অন্য অফিসে বদলির নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বদলিবাণিজ্যের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, গত বছরের ১ জুন খোদ আইন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে সতর্কতা জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলার রেজিস্ট্রার ও সাবরেজিস্ট্রার বদলি ও পদায়নে কোনো আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে কোনো অসাধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক কোনো ধরনের প্রলোভন, প্রস্তাব বা প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হলো। কিন্তু এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই শত শত সাবরেজিস্ট্রার বদলিতে বিপুল অঙ্কের ঘুষের লেনদেন হয়েছে। এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আর কোনো বদলির আদেশ হয়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, সারা দেশে সতর্কতা জোরদার

শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ, আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধ দুদকে আবেদন

আপডেট সময় ০৩:১৮:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

এবার অবৈধ প্রক্রিয়ায় ২৮৬ সাব রেজিস্ট্রার বদলি করে শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে অন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার পিএস মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) দুদকের কার্যালয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন এ আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে৮ মাসে সাবরেজিস্ট্রার বদলিতে ঘুষ লেনদেন শতকোটিশিরোনামে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনের প্রথম অংশে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ে শুধু সাবরেজিস্ট্রার বদলিতেই ঘুষ লেনদেন হয়েছে শতকোটি টাকা। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের আমলে সাবরেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নীতিমালা মানা হয়নি। ঘুষের বিনিময়ে বদলির ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত টাকা পরিশোধ না করায় বদলির আদেশ স্থগিত করার প্রমাণও পাওয়া গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাউকে কাউকে ছয়সাত মাসের মধ্যে তিনচার বার বদলি করা হয়েছে। আট মাসে (অক্টোবর২৪ থেকে এপ্রিল২৫ পর্যন্ত) নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাবরেজিস্ট্রারের মধ্যে কমপক্ষে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে।

এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাবরেজিস্ট্রি অফিসে বদলি বাগিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে পছন্দের অফিসে বদলির আদেশ পেয়েছেন তারা। অতীতে কখনো মাত্র আট মাসে এত বিপুলসংখ্যক বদলির ঘটনা ঘটেনি। বদলির নীতিমালা অনুযায়ী সাবরেজিস্ট্রি অফিসের’, ‘বিসিগ্রেডের অফিসে অনুরূপভাবে’, ‘বিসিগ্রেডের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন করার বিধান রয়েছে। কিন্তু আট মাসে এই নীতিমালার তোয়াক্কা করা হয়নি।

বদলির বিধান অনুযায়ী, ‘গ্রেডের সাবরেজিস্ট্রারকেগ্রেডের অফিসে এবংসিগ্রেডের কর্মকর্তাকেসিগ্রেডের অফিসে বদলি করতে হয়। তবে আট মাসের ওই সময়কালে ঘুষের বিনিময়েসিবিগ্রেডের সাবরেজিস্ট্রারদের অনেককেই পোস্টিং দেওয়া হয়েছে উচ্চতর গ্রেডের কার্যালয়ে। এ ক্ষেত্রে ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায়গ্রেডের সাবরেজিস্ট্রারদেরশাস্তিমূলকভাবে’ ‘বিবাসিগ্রেডের অফিসে বদলি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের অনেককেই বারবার বদলির মুখে পড়তে হয়েছে। কাউকে কাউকে যোগদানের আগের দিন পুনরায় অন্য অফিসে বদলির নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বদলিবাণিজ্যের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, গত বছরের ১ জুন খোদ আইন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে সতর্কতা জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলার রেজিস্ট্রার ও সাবরেজিস্ট্রার বদলি ও পদায়নে কোনো আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে কোনো অসাধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক কোনো ধরনের প্রলোভন, প্রস্তাব বা প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হলো। কিন্তু এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই শত শত সাবরেজিস্ট্রার বদলিতে বিপুল অঙ্কের ঘুষের লেনদেন হয়েছে। এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আর কোনো বদলির আদেশ হয়নি।