ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হোলি আর্টিজানের এক দশক, জ’ঙ্গি’বা’দ কতটা বদলেছে? এবার পুরো গাজা দখলে নেওয়ার ঘোষণা ইসরায়েলি মন্ত্রীর ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা? স্বাধীন বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দেয় যে দেশ পূর্বাচলকে ঢাকা জেলার আওতায় আনছে সরকার জামায়াতের ছায়া বাজেট আর পাস হওয়া বাজেট কাছাকাছিই: শফিকুর রহমান রেজাল্ট খারাপ করলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতা চেক করতে পারবে: শিক্ষামন্ত্রী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্টের ইতিহাস বলছে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিবে ব্রাজিল! মসজিদে নামাজ পড়াতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ইমামের উপহার হিসেবে ভারতে ১১০০ কেজি আম পাঠাল বাংলাদেশ

ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃপরিচয় প্রকাশ, কিশোরের ১০ বছরের আটকাদেশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া এক শিশুর জৈবিক পিতা হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এক কিশোরকে ১০ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত ঘোষণা দিয়েছেন, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুটি আইনগতভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের শিশু আদালত-২ এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এই রায় দেন। রায়ের পর অভিযুক্তকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে নিজ বাড়িতে ছুরির ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় অভিযুক্তের বয়সও ১৮ বছরের কম থাকায় তার বিচার হয় শিশু আইনে।

ধর্ষণের ফলে ওই কিশোরী গর্ভবতী হন এবং পরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। তবে জন্মের প্রায় দেড় বছর পর শিশুটি মারা যায়।

বিচার চলাকালে আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী, অভিযুক্ত এবং মৃত শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরির প্রতিবেদনে নিশ্চিত হয়, অভিযুক্ত কিশোরই শিশুটির জৈবিক পিতা।

এর ভিত্তিতে আদালত শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের আটকাদেশ দেন। বর্তমানে তার বয়স ১৮ বছরের বেশি হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের পৃথক ওয়ার্ডে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিধান অনুযায়ী আদালত নির্দেশ দেন, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুটি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সন্তান হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি পাবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর জন্য ভরণপোষণের অর্থ নির্ধারণ ও আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পিতৃত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এটি শুধু অপরাধের বিচারই নয়, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও একটি তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হোলি আর্টিজানের এক দশক, জ’ঙ্গি’বা’দ কতটা বদলেছে?

ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃপরিচয় প্রকাশ, কিশোরের ১০ বছরের আটকাদেশ

আপডেট সময় ০১:১৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া এক শিশুর জৈবিক পিতা হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এক কিশোরকে ১০ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত ঘোষণা দিয়েছেন, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুটি আইনগতভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের শিশু আদালত-২ এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এই রায় দেন। রায়ের পর অভিযুক্তকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে নিজ বাড়িতে ছুরির ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় অভিযুক্তের বয়সও ১৮ বছরের কম থাকায় তার বিচার হয় শিশু আইনে।

ধর্ষণের ফলে ওই কিশোরী গর্ভবতী হন এবং পরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। তবে জন্মের প্রায় দেড় বছর পর শিশুটি মারা যায়।

বিচার চলাকালে আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী, অভিযুক্ত এবং মৃত শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরির প্রতিবেদনে নিশ্চিত হয়, অভিযুক্ত কিশোরই শিশুটির জৈবিক পিতা।

এর ভিত্তিতে আদালত শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের আটকাদেশ দেন। বর্তমানে তার বয়স ১৮ বছরের বেশি হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের পৃথক ওয়ার্ডে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিধান অনুযায়ী আদালত নির্দেশ দেন, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুটি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সন্তান হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি পাবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর জন্য ভরণপোষণের অর্থ নির্ধারণ ও আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পিতৃত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এটি শুধু অপরাধের বিচারই নয়, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও একটি তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত।