ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ থাকা কে এই খাইরুল দেওয়ান বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন দেশের বাজারে পাওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক শিশুর অনুরোধে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ‘চুক্তিতে’ স্বাক্ষর করলেন স্কালোনি সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের এবার ইরানে স্থলসেনা নামানোর ছক যুক্তরাষ্ট্রের, ভয়ংকর পরিকল্পনা ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষায় ছাত্রদলের দুই নেতার হাতাহাতি ইরানে হামলায় যুক্তরাজ্যের কোনো ঘাঁটি ব্যবহৃত হলে তা হবে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’: আইআরজিসি কৃষক সেজে ফসলি মাঠ থেকে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে ধরল পুলিশ সাবেক রাষ্ট্রপতির ফৌজদারী অপরাধের বিচার সম্ভব, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে কোন বাধা নেই: শিশির মনির

সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির ২৪ ঘণ্টায় কেন সুর বদলালেন ট্রাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

প্রায় দুই দশকের আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু চুক্তি সইয়ের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে পুরো বিষয়টিকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত ২২ জুলাই ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। কয়েক মাস বিলম্বের পর হওয়া এই সমঝোতাকে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

তবে ঠিক পরদিনই ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, চুক্তি কার্যকর করতে হলে সৌদি আরবকে অবশ্যই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হবে না।

এতে প্রশ্ন ওঠে—চুক্তি স্বাক্ষরের একদিনের মধ্যেই কেন অবস্থান বদলালেন ট্রাম্প?

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, চুক্তি ঘোষণা নিয়ে হোয়াইট হাউস ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্রের দাবি, শেষ মুহূর্তে নতুন শর্ত যুক্ত করা হবে—এমন তথ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করা কর্মকর্তারাও আগে জানতেন না। এমনকি হোয়াইট হাউস চাইলেও জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট নির্ধারিত সময়েই চুক্তি ঘোষণা করেন, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অসন্তুষ্ট করে।

এদিকে চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশের পর রক্ষণশীল মহল ও কয়েকটি প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম তীব্র সমালোচনা শুরু করে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সম্পাদকীয়তে প্রশ্ন তোলে, আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দিয়েই সৌদি আরবকে কেন পারমাণবিক সহযোগিতার সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ফক্স নিউজেও একই ধরনের সমালোচনা উঠে আসে।

এই সমালোচনার মধ্যেই ট্রাম্প নতুন শর্ত আরোপ করেন। হোয়াইট হাউসের দাবি, এটি নতুন কোনো অবস্থান নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার কৌশলেরই অংশ।

এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে, ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রভাব থাকতে পারে। যদিও হোয়াইট হাউস এমন দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।

এখনও চুক্তিটি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। কংগ্রেসে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও শেষ হয়নি। ফলে নতুন শর্তের কারণে সৌদি আরব চুক্তিটি মেনে নেবে, নাকি দুই দেশ আবার আলোচনায় বসবে—সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ থাকা কে এই খাইরুল দেওয়ান

সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির ২৪ ঘণ্টায় কেন সুর বদলালেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ০১:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

প্রায় দুই দশকের আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু চুক্তি সইয়ের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে পুরো বিষয়টিকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত ২২ জুলাই ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। কয়েক মাস বিলম্বের পর হওয়া এই সমঝোতাকে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

তবে ঠিক পরদিনই ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, চুক্তি কার্যকর করতে হলে সৌদি আরবকে অবশ্যই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হবে না।

এতে প্রশ্ন ওঠে—চুক্তি স্বাক্ষরের একদিনের মধ্যেই কেন অবস্থান বদলালেন ট্রাম্প?

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, চুক্তি ঘোষণা নিয়ে হোয়াইট হাউস ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্রের দাবি, শেষ মুহূর্তে নতুন শর্ত যুক্ত করা হবে—এমন তথ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করা কর্মকর্তারাও আগে জানতেন না। এমনকি হোয়াইট হাউস চাইলেও জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট নির্ধারিত সময়েই চুক্তি ঘোষণা করেন, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অসন্তুষ্ট করে।

এদিকে চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশের পর রক্ষণশীল মহল ও কয়েকটি প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম তীব্র সমালোচনা শুরু করে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সম্পাদকীয়তে প্রশ্ন তোলে, আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দিয়েই সৌদি আরবকে কেন পারমাণবিক সহযোগিতার সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ফক্স নিউজেও একই ধরনের সমালোচনা উঠে আসে।

এই সমালোচনার মধ্যেই ট্রাম্প নতুন শর্ত আরোপ করেন। হোয়াইট হাউসের দাবি, এটি নতুন কোনো অবস্থান নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার কৌশলেরই অংশ।

এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে, ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রভাব থাকতে পারে। যদিও হোয়াইট হাউস এমন দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।

এখনও চুক্তিটি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। কংগ্রেসে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও শেষ হয়নি। ফলে নতুন শর্তের কারণে সৌদি আরব চুক্তিটি মেনে নেবে, নাকি দুই দেশ আবার আলোচনায় বসবে—সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।