ঢাকা , শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চট্টগ্রামে নওফেলের বাসভবনে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা, সিসিটিভিতে ৭ যুবক জিপিএস ব্যবহার ছাড়াই মার্কিন ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালান ইরানি পাইলটরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারকে নতুন ঘর দেবেন প্রধানমন্ত্রী মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে লন্ডনে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠাতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ড. ইউনূসের চেয়ে ‘হাজারগুণ ভালো’ দেশ চালাচ্ছেন তারেক রহমান: কাদের সিদ্দিকী সকাল না হতেই মর্মান্তিক দুই দুর্ঘটনা, ঝরে গেল ১৫ প্রাণ মৃত্যুর পর যদি সন্তানেরা না করে, তাই জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন করলেন বৃদ্ধ অন্ধকারে মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠক, আসল মানুষ কিনা প্রশ্ন পেজেশকিয়ানের সিঙ্গারার লোভ দেখিয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের মিছিলে নিলেন যুবলীগ নেতা মসজিদের ইমামকে ওমরাহ উপহার, আবেগে ভাসল বিদায়ের মুহূর্ত

সুদানে বিচার চলাকালে আদালতে ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ৩৫

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৪৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

এবার উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানে একটি ঐতিহ্যবাহী আদালতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির শুনানি চলাকালে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুরে সেনাবাহিনীর চালানো এ হামলায় কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানিয়েছে। হামলার সময় আদালতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিচারকার্যে অংশ নিতে জড়ো হয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, সুদানের তিন বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে উভয় পক্ষের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করে আসছে ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। মানবাধিকার এই সংগঠনটি জানিয়েছে, রোববার (২ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে নর্থ দারফুর প্রদেশের গারা আলজাওয়াইয়া গ্রামে এ হামলা চালানো হয়।

সংগঠনটির ভাষ্য, হামলার সময় স্থানীয় বিভিন্ন মামলা ও বিরোধের শুনানিতে অংশ নিতে সাধারণ মানুষ আদালতে জড়ো হয়েছিলেন। গ্রামটি বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো এবং তার সাবেক মিত্র, সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আলবুরহানের সমর্থকদের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানিয়েছে, হামলায় স্থানীয় ও গোত্রীয় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী আদালতের ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের অংশগ্রহণে একটি গাছের নিচে আদালতের কার্যক্রম চলছিল তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে চারজন গোত্রপ্রধান এবং আরএসএফের দুইজন কমান্ডার রয়েছেন। গারা আলজাওয়াইয়া গ্রামটি দারফুরে সেনাবাহিনীর সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি এলফাশের থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে কাবকাবিয়া শহরের কাছে অবস্থিত। গত বছরের অক্টোবর মাসে রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর আরএসএফ এলফাশের দখল করে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, এলফাশের অবরোধ ও দখলকে ঘিরে আরএসএফের সহিংসতায়গণহত্যার স্পষ্ট লক্ষণদেখা গেছে।

শহরটি দখলের পর আরএসএফ দারফুরের বেশিরভাগ অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করে। সরকারি সমর্থনপুষ্ট কুখ্যাত জানজাওয়িদ মিলিশিয়া থেকে গড়ে ওঠা এই বাহিনীর বিরুদ্ধে ২০০০এর দশকের শুরুতে দারফুরে ভয়াবহ নৃশংসতার অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযান শুরুর পর থেকে যুদ্ধে উভয় পক্ষই ক্রমেই ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সংঘাতে ইতোমধ্যে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের ভাষ্য, এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটের একটি সৃষ্টি হয়েছে সুদানে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে নওফেলের বাসভবনে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা, সিসিটিভিতে ৭ যুবক

সুদানে বিচার চলাকালে আদালতে ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ৩৫

আপডেট সময় ০৯:৪৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

এবার উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানে একটি ঐতিহ্যবাহী আদালতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির শুনানি চলাকালে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুরে সেনাবাহিনীর চালানো এ হামলায় কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানিয়েছে। হামলার সময় আদালতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিচারকার্যে অংশ নিতে জড়ো হয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, সুদানের তিন বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে উভয় পক্ষের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করে আসছে ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। মানবাধিকার এই সংগঠনটি জানিয়েছে, রোববার (২ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে নর্থ দারফুর প্রদেশের গারা আলজাওয়াইয়া গ্রামে এ হামলা চালানো হয়।

সংগঠনটির ভাষ্য, হামলার সময় স্থানীয় বিভিন্ন মামলা ও বিরোধের শুনানিতে অংশ নিতে সাধারণ মানুষ আদালতে জড়ো হয়েছিলেন। গ্রামটি বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো এবং তার সাবেক মিত্র, সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আলবুরহানের সমর্থকদের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানিয়েছে, হামলায় স্থানীয় ও গোত্রীয় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী আদালতের ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের অংশগ্রহণে একটি গাছের নিচে আদালতের কার্যক্রম চলছিল তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে চারজন গোত্রপ্রধান এবং আরএসএফের দুইজন কমান্ডার রয়েছেন। গারা আলজাওয়াইয়া গ্রামটি দারফুরে সেনাবাহিনীর সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি এলফাশের থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে কাবকাবিয়া শহরের কাছে অবস্থিত। গত বছরের অক্টোবর মাসে রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর আরএসএফ এলফাশের দখল করে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, এলফাশের অবরোধ ও দখলকে ঘিরে আরএসএফের সহিংসতায়গণহত্যার স্পষ্ট লক্ষণদেখা গেছে।

শহরটি দখলের পর আরএসএফ দারফুরের বেশিরভাগ অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করে। সরকারি সমর্থনপুষ্ট কুখ্যাত জানজাওয়িদ মিলিশিয়া থেকে গড়ে ওঠা এই বাহিনীর বিরুদ্ধে ২০০০এর দশকের শুরুতে দারফুরে ভয়াবহ নৃশংসতার অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযান শুরুর পর থেকে যুদ্ধে উভয় পক্ষই ক্রমেই ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সংঘাতে ইতোমধ্যে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের ভাষ্য, এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটের একটি সৃষ্টি হয়েছে সুদানে।