ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফেনীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়ম, ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ‘ঘরের বাজার’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৫ আগস্ট ঘিরে দেশব্যাপী র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা খালিদুজ্জামানের কর্মকাণ্ডকে ‘তৃতীয় শ্রেণির সস্তা রাজনীতি’ বললেন মির্জা গালিব মৃত্যুর আগে মাকে যা বলেছিলেন সালমান শাহ দেশে ফিরলেন ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের রাজনীতি থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল গভীর রাতে গৃহবধূর ঘরে জামায়াত নেতা, শ্বশুরের চিৎকারে ধরা কিছু মনে করবেন না বলে, বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে যা বললেন ওমর সানী

মা-বাবা নেই, দুই ভাইয়ের শূন্য ঘরে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

মা নেই, বাবাও নেই। শূন্য ঘরে নেই অভিভাবকের ছায়া। কে দেখবে, কে আগলে রাখবে? তারও নেই কোনো ঠিকঠিকানা। জীবনের এই কঠিন বাস্তবতাকে হার মানিয়ে সেই ঘরেই জ্বলেছে সাফল্যের আলো। বড় ভাই অর্ণব সরকারের যত্ন আর নিজের অদম্য চেষ্টায় ছোট ভাই অরিত্র সরকার পেয়েছেন জিপিএ (গোল্ডেন এ+)২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বাগেরহাট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এই সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।

সোমবার সকালে মোবাইল ফোনে ফলাফল দেখার পর আনন্দে আত্মহারা হওয়ার কথা ছিল দুই ভাইয়ের। কিন্তু সেই আনন্দের মধ্যেও ছিল গভীর শূন্যতা। বাবামা থাকলে হয়তো আজ ঘরে বসত মিষ্টির আয়োজন, প্রতিবেশী ও স্বজনদের নিয়ে হতো আনন্দউৎসব। কিন্তু তাদের সেই উৎসবের দিনটি কেটেছে নীরবে। ফল প্রকাশের পর ১৬ বছর বয়সী অরিত্র ও তার ১৯ বছর বয়সী বড় ভাই অর্ণব সারাদিন ঘরেই কাটিয়েছেন। সাফল্যের আনন্দের চেয়ে বাবামাকে হারানোর কষ্টই যেন বড় হয়ে ধরা দিয়েছে দুই ভাইয়ের কাছে।

অরিত্রের বাবা উৎপল সরকার ছিলেন জানাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে একজন মুদি দোকানদার। প্রায় দুই বছর আগে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর সংসারের ভার এসে পড়ে দুই ভাইয়ের কাঁধে। বাবার রেখে যাওয়া মুদি দোকানটি কিছুদিন চালানোর চেষ্টা করলেও অর্থের অভাবে শেষ পর্যন্ত সেটিও বন্ধ করে দিতে হয়। এরপর থেকেই টিউশনি করে নিজেদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন অর্ণবঅরিত্র। তাদের দেখাশোনার জন্য রয়েছেন এক খালা বা মাসি। তিনি সামর্থ্য অনুযায়ী দুই ভাইয়ের খাবারদাবারের ব্যবস্থা করেন।

এসএসসিতে জিপিএ (গোল্ডেন এ+) পাওয়ার পর অরিত্র তার প্রিয় শিক্ষক ও সহপাঠীদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তার এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষকদের সহযোগিতা ও সহপাঠীদের উৎসাহের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। অরিত্রের স্বপ্ন ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হয়ে মানুষের সেবা করা। আর বড় ভাই অর্ণবের স্বপ্ন আইনজীবী হয়ে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। দুজনেরই চোখে বড় স্বপ্ন, কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা অর্থের সংকট। অর্ণবও ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এখন তিনি নিজের ফলাফলের অপেক্ষায়। ছোট ভাইয়ের জিপিএ৫ গোল্ডেন পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি নিজের ফল নিয়েও আশাবাদী তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়ম, ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও

মা-বাবা নেই, দুই ভাইয়ের শূন্য ঘরে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’

আপডেট সময় ০২:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

মা নেই, বাবাও নেই। শূন্য ঘরে নেই অভিভাবকের ছায়া। কে দেখবে, কে আগলে রাখবে? তারও নেই কোনো ঠিকঠিকানা। জীবনের এই কঠিন বাস্তবতাকে হার মানিয়ে সেই ঘরেই জ্বলেছে সাফল্যের আলো। বড় ভাই অর্ণব সরকারের যত্ন আর নিজের অদম্য চেষ্টায় ছোট ভাই অরিত্র সরকার পেয়েছেন জিপিএ (গোল্ডেন এ+)২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বাগেরহাট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এই সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।

সোমবার সকালে মোবাইল ফোনে ফলাফল দেখার পর আনন্দে আত্মহারা হওয়ার কথা ছিল দুই ভাইয়ের। কিন্তু সেই আনন্দের মধ্যেও ছিল গভীর শূন্যতা। বাবামা থাকলে হয়তো আজ ঘরে বসত মিষ্টির আয়োজন, প্রতিবেশী ও স্বজনদের নিয়ে হতো আনন্দউৎসব। কিন্তু তাদের সেই উৎসবের দিনটি কেটেছে নীরবে। ফল প্রকাশের পর ১৬ বছর বয়সী অরিত্র ও তার ১৯ বছর বয়সী বড় ভাই অর্ণব সারাদিন ঘরেই কাটিয়েছেন। সাফল্যের আনন্দের চেয়ে বাবামাকে হারানোর কষ্টই যেন বড় হয়ে ধরা দিয়েছে দুই ভাইয়ের কাছে।

অরিত্রের বাবা উৎপল সরকার ছিলেন জানাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে একজন মুদি দোকানদার। প্রায় দুই বছর আগে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর সংসারের ভার এসে পড়ে দুই ভাইয়ের কাঁধে। বাবার রেখে যাওয়া মুদি দোকানটি কিছুদিন চালানোর চেষ্টা করলেও অর্থের অভাবে শেষ পর্যন্ত সেটিও বন্ধ করে দিতে হয়। এরপর থেকেই টিউশনি করে নিজেদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন অর্ণবঅরিত্র। তাদের দেখাশোনার জন্য রয়েছেন এক খালা বা মাসি। তিনি সামর্থ্য অনুযায়ী দুই ভাইয়ের খাবারদাবারের ব্যবস্থা করেন।

এসএসসিতে জিপিএ (গোল্ডেন এ+) পাওয়ার পর অরিত্র তার প্রিয় শিক্ষক ও সহপাঠীদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তার এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষকদের সহযোগিতা ও সহপাঠীদের উৎসাহের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। অরিত্রের স্বপ্ন ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হয়ে মানুষের সেবা করা। আর বড় ভাই অর্ণবের স্বপ্ন আইনজীবী হয়ে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। দুজনেরই চোখে বড় স্বপ্ন, কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা অর্থের সংকট। অর্ণবও ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এখন তিনি নিজের ফলাফলের অপেক্ষায়। ছোট ভাইয়ের জিপিএ৫ গোল্ডেন পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি নিজের ফল নিয়েও আশাবাদী তিনি।