ঢাকা , শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

৬০ লাখ অটোরিকশার চার্জে বছরে খরচ ৩ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত। এর সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহারও। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, সারা দেশে প্রায় ৬০ লাখ অটোরিকশা চার্জ দিতে বছরে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, যার বড় অংশই ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৬০ লাখ অটোরিকশা চলাচল করছে। প্রতিটি গাড়িতে থাকে চার থেকে ছয়টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি। একটি অটোরিকশা প্রায় আট ঘণ্টা চার্জে রাখলে গড়ে ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়।

কিন্তু এই বিদ্যুতের বিলের বড় অংশই সরকার পায় না। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে গ্যারেজে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় এমনভাবে হাজার হাজার অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সিপিডির এক গবেষণায় রাজধানীতে প্রায় ২০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার হিসাব পাওয়া গেছে। প্রতিটি অটোরিকশা একবার চার্জ দিতে গ্যারেজে গড়ে ১০০ টাকা খরচ হয়। ফলে শুধু রাজধানীতেই প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকা এবং বছরে প্রায় ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিদ্যুৎ, সড়ক ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ খাতকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে শুধু অভিযান চালালেই হবে না, অটোরিকশার গ্যারেজগুলোকে নজরদারির আওতায় আনতে হবে।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, অটোরিকশাগুলো অবৈধভাবে চললেও এর সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক লেনদেন জড়িয়ে আছে। ফলে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে অবৈধ সংযোগ ও অনিয়ন্ত্রিত চার্জিং ব্যবস্থা বন্ধে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অটোরিকশার বিদ্যুৎ ব্যবহারকে নিয়মের আওতায় এনে মিটারভিত্তিক চার্জিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে একদিকে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার কমবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু ছাত্রদল থেকে নয়: নাছির

৬০ লাখ অটোরিকশার চার্জে বছরে খরচ ৩ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

আপডেট সময় ১০:৪২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত। এর সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহারও। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, সারা দেশে প্রায় ৬০ লাখ অটোরিকশা চার্জ দিতে বছরে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, যার বড় অংশই ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৬০ লাখ অটোরিকশা চলাচল করছে। প্রতিটি গাড়িতে থাকে চার থেকে ছয়টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি। একটি অটোরিকশা প্রায় আট ঘণ্টা চার্জে রাখলে গড়ে ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়।

কিন্তু এই বিদ্যুতের বিলের বড় অংশই সরকার পায় না। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে গ্যারেজে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় এমনভাবে হাজার হাজার অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সিপিডির এক গবেষণায় রাজধানীতে প্রায় ২০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার হিসাব পাওয়া গেছে। প্রতিটি অটোরিকশা একবার চার্জ দিতে গ্যারেজে গড়ে ১০০ টাকা খরচ হয়। ফলে শুধু রাজধানীতেই প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকা এবং বছরে প্রায় ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিদ্যুৎ, সড়ক ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ খাতকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে শুধু অভিযান চালালেই হবে না, অটোরিকশার গ্যারেজগুলোকে নজরদারির আওতায় আনতে হবে।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, অটোরিকশাগুলো অবৈধভাবে চললেও এর সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক লেনদেন জড়িয়ে আছে। ফলে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে অবৈধ সংযোগ ও অনিয়ন্ত্রিত চার্জিং ব্যবস্থা বন্ধে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অটোরিকশার বিদ্যুৎ ব্যবহারকে নিয়মের আওতায় এনে মিটারভিত্তিক চার্জিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে একদিকে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার কমবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।