ঢাকা , রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে ব্যস্ত ট্রাম্প, ফাঁকা মাঠে চীনের গোল!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

তেহরান ঘিরে যখন ব্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তখন এশিয়ায় তৈরি হচ্ছে নতুন এক সামরিক সমীকরণ। ইরান যুদ্ধের চাপ সামলাতে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে সরে যাচ্ছে শেষ মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। এর গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য। উদ্দেশ্য, দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে প্রতিস্থাপন করা।

লিংকনের মিশন গত মে মাসেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে সেই মিশন দীর্ঘায়িত হয়েছে। এতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন মার্কিন নাবিকেরা। দেখা দিয়েছে সরবরাহ সংকট ও মানসিক চাপ।

এরই মধ্যে এশিয়ায় তৈরি হচ্ছে সাময়িক মার্কিন সামরিক শূন্যতা। জর্জ ওয়াশিংটনও সরে গেলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে সাময়িকভাবে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরি থাকবে না। আর এই শূন্যতা, অল্প সময়ের জন্য হলেও, চীনের জন্য কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে।

প্রশ্ন উঠছে—ইরানে সামরিক চাপ বাড়াতে গিয়ে কি এশিয়ার নিরাপত্তায় কিছুটা ফাঁক তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র?

চীনের সাম্প্রতিক তৎপরতা সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে। ইতোমধ্যে স্কারবোরো শোলের কাছে সামরিক মহড়া চালিয়েছে বেইজিং। বিতর্কিত এই এলাকায় চীন ও ফিলিপাইন—দুই দেশেরই দাবি রয়েছে। আবার ফিলিপাইন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র।

অন্যদিকে, জাপানের সঙ্গেও চীনের একাধিক সামুদ্রিক ও ভূখণ্ডগত বিরোধ রয়েছে। সম্প্রতি জাপানের একটি দ্বীপের কাছে চীনা গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লাইভ-ফায়ার মহড়া চালিয়েছে।

অর্থাৎ, একদিকে ইরান, অন্যদিকে দক্ষিণ চীন সাগর, আর তৃতীয় দিকে জাপান—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে একই সময়ে সামরিক মনোযোগ ধরে রাখা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর অভ্যন্তরীণ চাপও। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড প্রায় ১১ মাসের দীর্ঘ মিশন শেষে ফিরেছে। দীর্ঘ মিশনের মধ্যে জাহাজে অগ্নিকাণ্ড ও নাবিকদের আবাসনসংকটের মতো সমস্যাও দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, আব্রাহাম লিংকন সমুদ্রে কাটিয়েছে ২৪০ দিনেরও বেশি সময়।

অর্থাৎ শুধু যুদ্ধ নয়, দীর্ঘ মিশনের চাপ পড়ছে যুদ্ধজাহাজ ও নাবিক—দুজনের ওপরই।

সামনে রয়েছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ—রক্ষণাবেক্ষণ। দীর্ঘ সময় যুদ্ধক্ষেত্রে থাকার পর একের পর এক বিমানবাহী রণতরি মেরামতে গেলে তৈরি হতে পারে বড় ধরনের জট। আজ যে ক্যারিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে, কাল সেটিই হয়তো থাকবে শিপইয়ার্ডে।

এই পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক বছরেও মার্কিন বিমানবাহী রণতরির উপস্থিতিতে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। ফলে ছোট যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতার দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে মার্কিন নৌবাহিনী।

তাহলে কি সত্যিই চীনের জন্য নতুন দরজা খুলে গেল?

এখনই বলা কঠিন, বেইজিং এই সাময়িক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে বড় কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরে যাওয়ায় এশিয়ায় চীনের কৌশলগত সুযোগ যে বাড়ছে, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ট্রাম্পের চোখ এখন ইরানে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে। আর এশিয়ায় বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের উদ্বেগ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে ব্যস্ত ট্রাম্প, ফাঁকা মাঠে চীনের গোল!

আপডেট সময় ০৬:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

তেহরান ঘিরে যখন ব্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তখন এশিয়ায় তৈরি হচ্ছে নতুন এক সামরিক সমীকরণ। ইরান যুদ্ধের চাপ সামলাতে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে সরে যাচ্ছে শেষ মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। এর গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য। উদ্দেশ্য, দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে প্রতিস্থাপন করা।

লিংকনের মিশন গত মে মাসেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে সেই মিশন দীর্ঘায়িত হয়েছে। এতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন মার্কিন নাবিকেরা। দেখা দিয়েছে সরবরাহ সংকট ও মানসিক চাপ।

এরই মধ্যে এশিয়ায় তৈরি হচ্ছে সাময়িক মার্কিন সামরিক শূন্যতা। জর্জ ওয়াশিংটনও সরে গেলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে সাময়িকভাবে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরি থাকবে না। আর এই শূন্যতা, অল্প সময়ের জন্য হলেও, চীনের জন্য কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে।

প্রশ্ন উঠছে—ইরানে সামরিক চাপ বাড়াতে গিয়ে কি এশিয়ার নিরাপত্তায় কিছুটা ফাঁক তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র?

চীনের সাম্প্রতিক তৎপরতা সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে। ইতোমধ্যে স্কারবোরো শোলের কাছে সামরিক মহড়া চালিয়েছে বেইজিং। বিতর্কিত এই এলাকায় চীন ও ফিলিপাইন—দুই দেশেরই দাবি রয়েছে। আবার ফিলিপাইন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র।

অন্যদিকে, জাপানের সঙ্গেও চীনের একাধিক সামুদ্রিক ও ভূখণ্ডগত বিরোধ রয়েছে। সম্প্রতি জাপানের একটি দ্বীপের কাছে চীনা গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লাইভ-ফায়ার মহড়া চালিয়েছে।

অর্থাৎ, একদিকে ইরান, অন্যদিকে দক্ষিণ চীন সাগর, আর তৃতীয় দিকে জাপান—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে একই সময়ে সামরিক মনোযোগ ধরে রাখা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর অভ্যন্তরীণ চাপও। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড প্রায় ১১ মাসের দীর্ঘ মিশন শেষে ফিরেছে। দীর্ঘ মিশনের মধ্যে জাহাজে অগ্নিকাণ্ড ও নাবিকদের আবাসনসংকটের মতো সমস্যাও দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, আব্রাহাম লিংকন সমুদ্রে কাটিয়েছে ২৪০ দিনেরও বেশি সময়।

অর্থাৎ শুধু যুদ্ধ নয়, দীর্ঘ মিশনের চাপ পড়ছে যুদ্ধজাহাজ ও নাবিক—দুজনের ওপরই।

সামনে রয়েছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ—রক্ষণাবেক্ষণ। দীর্ঘ সময় যুদ্ধক্ষেত্রে থাকার পর একের পর এক বিমানবাহী রণতরি মেরামতে গেলে তৈরি হতে পারে বড় ধরনের জট। আজ যে ক্যারিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে, কাল সেটিই হয়তো থাকবে শিপইয়ার্ডে।

এই পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক বছরেও মার্কিন বিমানবাহী রণতরির উপস্থিতিতে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। ফলে ছোট যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতার দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে মার্কিন নৌবাহিনী।

তাহলে কি সত্যিই চীনের জন্য নতুন দরজা খুলে গেল?

এখনই বলা কঠিন, বেইজিং এই সাময়িক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে বড় কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরে যাওয়ায় এশিয়ায় চীনের কৌশলগত সুযোগ যে বাড়ছে, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ট্রাম্পের চোখ এখন ইরানে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে। আর এশিয়ায় বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের উদ্বেগ।