ঢাকা , শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরানকে একঘরে করতে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বড় বাধা চীন-রাশিয়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মশাল মিছিল প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ময়লার ভাগাড় থেকে প্রাণ ফিরছে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২২ বছর আজ চুরির শাস্তি হিসেবে পড়তে হবে ২০০ রাকাত নফল নামাজ কোনো পরাশক্তি ইরান-ইরাকের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না: গালিবাফ সিরিয়ায় উপস্থিতি নিয়ে তুরস্ককে নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি শপথের আগে জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মসজিদের ইমাম-খাদেমের বদলে সাম্মানীর তালিকায় জামায়াত নেতাদের নাম ৪৬ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে ফিরছেন রোনালদিনহো

বড় যুদ্ধের অশনি সংকেত, অস্ট্রেলিয়ায় আবারও খুলছে সেই টাংস্টেন খনি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বজুড়ে একের পর এক সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাতু টাংস্টেনের চাহিদা বাড়ছে। এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার কিং আইল্যান্ডে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ডলফিন টাংস্টেন খনি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বিষয়টিকে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তুলে ধরা হয়েছে। ডলফিন মাইনকে বিশ্বের অন্যতম বড় টাংস্টেনের ভাণ্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। টাংস্টেন অত্যন্ত শক্ত ও তাপসহনশীল ধাতু হওয়ায় সামরিক সরঞ্জাম, বর্মভেদী গোলাবারুদ এবং সাঁজোয়া যানের বর্ম তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

এই খনি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বারবার চালু ও বন্ধ হয়েছে। প্রতিবার যুদ্ধ এলেই খনিটি চালু হয়েছে, আবার শান্তি ফিরলে বন্ধ হয়ে গেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অস্ত্র তৈরির চাহিদা মেটাতে ১৯১৭ সালে ডলফিন মাইন প্রথম চালু হয়। কিন্তু মাত্র তিন বছর পরই যুদ্ধ থেমে যায় এবং টাংস্টেনের বাজারে বড় পরিবর্তন আসে। ফলে খনিটি বন্ধ হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কায় ১৯৩৮ সালে খনিটি আবার চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে কোরিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও বিভিন্ন পর্যায়ে এর কার্যক্রম চালু ছিল। ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর খনিটি একরকম চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় বলেই মনে হয়েছিল।

প্রায় তিন দশক ধরে বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ডলফিন মাইন পুনরায় চালুর কাজ শুরু হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পরই রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে ২০২৬ সালে এসে খনিটিতে টাংস্টেন উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ভূগর্ভ থেকে প্রথম আকরিক উত্তোলন ও সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। টাংস্টেনের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চীনের আধিপত্যও অস্ট্রেলিয়ার খনি চালুর অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশ্বের বড় অংশের টাংস্টেন চীন উৎপাদন করে। ফলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

এর সঙ্গে তাইওয়ানকে ঘিরে চীন ও পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তেজনাও টাংস্টেনের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কাজাখস্তানের একটি বড় অব্যবহৃত টাংস্টেনের ভাণ্ডার থেকে খনিজ উত্তোলনের জন্য ১৬০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে টাংস্টেনের ব্যবহার থাকায় যুদ্ধের সময় এর চাহিদা দ্রুত বাড়তে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ও উৎপাদন বাড়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই ধাতুর সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিযোগিতাও তীব্র হচ্ছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ডলফিন মাইন পুনরায় চালুর ঘটনাকে শুধু একটি খনি প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শিল্পে কৌশলগত খনিজের গুরুত্ব এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতির একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছে সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানকে একঘরে করতে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বড় বাধা চীন-রাশিয়া

বড় যুদ্ধের অশনি সংকেত, অস্ট্রেলিয়ায় আবারও খুলছে সেই টাংস্টেন খনি

আপডেট সময় ১২:০৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বজুড়ে একের পর এক সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাতু টাংস্টেনের চাহিদা বাড়ছে। এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার কিং আইল্যান্ডে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ডলফিন টাংস্টেন খনি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বিষয়টিকে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তুলে ধরা হয়েছে। ডলফিন মাইনকে বিশ্বের অন্যতম বড় টাংস্টেনের ভাণ্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। টাংস্টেন অত্যন্ত শক্ত ও তাপসহনশীল ধাতু হওয়ায় সামরিক সরঞ্জাম, বর্মভেদী গোলাবারুদ এবং সাঁজোয়া যানের বর্ম তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

এই খনি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বারবার চালু ও বন্ধ হয়েছে। প্রতিবার যুদ্ধ এলেই খনিটি চালু হয়েছে, আবার শান্তি ফিরলে বন্ধ হয়ে গেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অস্ত্র তৈরির চাহিদা মেটাতে ১৯১৭ সালে ডলফিন মাইন প্রথম চালু হয়। কিন্তু মাত্র তিন বছর পরই যুদ্ধ থেমে যায় এবং টাংস্টেনের বাজারে বড় পরিবর্তন আসে। ফলে খনিটি বন্ধ হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কায় ১৯৩৮ সালে খনিটি আবার চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে কোরিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও বিভিন্ন পর্যায়ে এর কার্যক্রম চালু ছিল। ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর খনিটি একরকম চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় বলেই মনে হয়েছিল।

প্রায় তিন দশক ধরে বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ডলফিন মাইন পুনরায় চালুর কাজ শুরু হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পরই রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে ২০২৬ সালে এসে খনিটিতে টাংস্টেন উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ভূগর্ভ থেকে প্রথম আকরিক উত্তোলন ও সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। টাংস্টেনের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চীনের আধিপত্যও অস্ট্রেলিয়ার খনি চালুর অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশ্বের বড় অংশের টাংস্টেন চীন উৎপাদন করে। ফলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

এর সঙ্গে তাইওয়ানকে ঘিরে চীন ও পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তেজনাও টাংস্টেনের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কাজাখস্তানের একটি বড় অব্যবহৃত টাংস্টেনের ভাণ্ডার থেকে খনিজ উত্তোলনের জন্য ১৬০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে টাংস্টেনের ব্যবহার থাকায় যুদ্ধের সময় এর চাহিদা দ্রুত বাড়তে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ও উৎপাদন বাড়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই ধাতুর সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিযোগিতাও তীব্র হচ্ছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ডলফিন মাইন পুনরায় চালুর ঘটনাকে শুধু একটি খনি প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শিল্পে কৌশলগত খনিজের গুরুত্ব এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতির একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছে সংশ্লিষ্টরা।