অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয়ের স্বল্পতা ও জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারে দিন দিন উষ্ণ হয়ে উঠছে রাজধানী ঢাকা। এর ফলে ‘হিট আইল্যান্ড’ বা তাপদ্বীপে পরিণত হচ্ছে শহরটি। এই সংকট মোকাবিলায় ঢাকাকে পরিবেশবান্ধব ও সবুজ নগরীতে রূপ দিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা, দ্রুত নগরায়ণ এবং অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের ব্যবহার ঢাকার তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বিশেষ করে যানবাহন থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈদ্যুতিক, ব্যাটারিচালিত ও হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ভবন নির্মাণেও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। ফায়ার ব্রিকসের পরিবর্তে সলিড ব্লক, হলো ব্লক ও নন-ফায়ার ব্রিকস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভবনগুলোর তাপ শোষণ কমাতে প্রচলিত কাচের পরিবর্তে ডিজিইউ, স্যান্ডউইচ ও টেম্পার্ড গ্লাস ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্প্লিট ও উইন্ডো এসির পরিবর্তে ভিআরএফ ও চিলার প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সবুজায়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সড়ক বিভাজক, ফুটপাত ও নতুন স্থাপনার আশপাশে গাছ লাগানো এবং ল্যান্ডস্কেপিংয়ের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি ভবনে ছাদবাগান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি রাজধানীতে ছোট পুকুর, লেক ও জলাশয়ের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলাশয় ও সবুজพื้นที่ বাড়ানো গেলে তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ঢাকায়ও বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ চলছে। চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত গণপূর্ত মেট্রোপলিটন জোনে ৫ লাখ ৬২ হাজার বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কার্বন নিঃসরণ কমাতে বাড়ানো হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও। এরই মধ্যে ঢাকা গণপূর্ত ই/এম বিভাগের উদ্যোগে সোলার প্যানেল স্থাপন করে ৪ হাজার ৬২২ কিলোওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু সরকারি উদ্যোগে নয়, ঢাকাকে পরিবেশবান্ধব করতে বেসরকারি খাত ও নগরবাসীকেও এগিয়ে আসতে হবে। সবুজায়ন, জলাশয় সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব নির্মাণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে ধীরে ধীরে ঢাকার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সিঙ্গাপুর, সিউল ও টোকিওর মতো প্রকৃতি ও পরিবেশবান্ধব একটি আধুনিক সবুজ নগরী হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তুলতেই সরকারের এই বহুমুখী পরিকল্পনা।

ডেস্ক রিপোর্ট 























