ফ্রান্সে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে নতুন এক নজির তৈরি করেছেন গ্রিন পার্টির নেতা মেরিন তন্দলিয়ে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে অংশ নেওয়া ফ্রান্সের ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রার্থী।
৩৯ বছর বয়সী তন্দলিয়ে গত মার্চের শেষ দিকে নিজের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর জানান। তখন তিনি তিন মাসের গর্ভবতী ছিলেন। বর্তমানে তার গর্ভাবস্থার প্রায় আট মাস চলছে।
তন্দলিয়ের জন্য এই সন্তান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে তার গর্ভপাত হয়েছিল। পরে সহায়ক প্রজনন পদ্ধতি ও আইভিএফের মাধ্যমে কয়েকবার সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি তিনি। একপর্যায়ে মা হওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। এর মধ্যেই অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পান তন্দলিয়ে। তাই সন্তানটিকে তিনি ‘অলৌকিক শিশু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতির মাঝেই অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পেয়ে প্রথমে হতবাক হয়েছিলেন তন্দলিয়ে। তবে প্রচার চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। বরং গর্ভাবস্থার নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
গত জুলাইয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেও প্রচারে অংশ নেন তন্দলিয়ে। তার ভাষায়, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নির্বাচনী প্রচার চালানো সত্যিই বড় চ্যালেঞ্জ।
রাজনীতিতে মাতৃত্ব ও বন্ধ্যত্বের আলোচনা
তন্দলিয়ের প্রার্থিতা ফ্রান্সের রাজনীতিতে মাতৃত্ব, প্রজনন স্বাস্থ্য ও বন্ধ্যত্বের মতো বিষয়গুলোকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
বামপন্থী ও গ্রিন পার্টিগুলোর মধ্যে জোট গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত বামপন্থীদের কতজন প্রার্থী থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জনমত জরিপেও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তন্দলিয়ের সামনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত রয়েছে।
তন্দলিয়ে জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচার চালানো তার কাছে যুক্তিসংগত মনে হবে, ততক্ষণ তিনি মাঠে থাকবেন। তার মতে, এই নির্বাচনী লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নারীদের স্বাস্থ্য, প্রজনন অধিকার এবং বন্ধ্যত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামনে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
২০২৭ সালের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে তাই ভিন্ন এক পরিচয়ে মাঠে রয়েছেন মেরিন তন্দলিয়ে—একই সঙ্গে রাজনীতিক ও অন্তঃসত্ত্বা প্রার্থী।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















